বোরখা পরলে জরিমানা গুনতে হচ্ছে ডেনমার্কের মেয়েদের। যারা মুখঢাকা নেকাবসহ বোরখা পরেন, তারাই এই শাস্তির আওতায় পড়ছেন।

ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও অস্ট্রিয়ার মত ডেনমার্কেও নিষিদ্ধ হয়েছে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক। নতুন এই আইনে বলা হয়েছে, পুলিশ চাইলে যেকোনো নারীকে জনসমক্ষে তার মুখের পর্দা সরাতে বলতে পারবে। এছাড়া মুখ ঢেকে চলাফেরা করায় প্রথমবার তাকে শাস্তি হিসেবে এক হাজার ক্রোন (১৬০ ইউরো) পর্যন্ত জরিমানা এবং একাধিকবার এই আইন ভঙ্গ করলে তাকে ১০ হাজার ক্রোন জরিমানা করা যাবে।

ডেনমার্কে পুরো চেহারা ঢেকে চলাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে দেশটির সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টরা বলেছেন, এর মাধ্যমে মূলত অন্যায়ভাবে মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

তাদের দাবি, এই আইন কার্যকরের মাধ্যমে সরকার নারীদের পোশাকের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করেছে। উল্লেখ্য, ডেনমার্কের মোট জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশ মুসলমান।

মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধের ব্যাপারে ডেনমার্কের মুসলিম মেয়েদের প্রতিক্রিয়া জানতে সম্প্রতি সেখানে গিয়েছিলেন স্কাই নিউজের মিশেল ক্লিফোর্ড। তিনি জানিয়েছেন, এর আগেই ডেনমার্কে আইন ছিল প্রকাশ্যে মুখ ঢাকা কোন পোশাকই কেউ পরতে পারবেন না। তবে যেহেতু মুসলিম মেয়েরাই তাদের বিশ্বাসের অংশ হিসেবে নিকাব পরেন তাই এই আইনের নাম হয়েছে ‘বোরখা বাতিল’ আইন। ডেনমার্কের মুসলিম মেয়েরা একে তাদের মৌলিক অধিকারের হরণ বলে মনে করছেন। রাজধানী কোপেনহেগেনের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে অনেকে নিকাব পরিহিতার সাথে প্রতিবাদ জানিয়েও এসেছেন।

এই বিক্ষোভে শুধুমাত্র মুসলিম মেয়েরাই নয়, প্রচুর অমুসলিম লোকজন নানারকম মুখোশ, প্রাণীর মাথার মত দেখতে মুখোশ পরে হাজির হন।

পুলিশ এই বিক্ষোভে কোনরকম কোন হস্তক্ষেপ করেনি, শুধুমাত্র একজন মুখ ঢাকা নারীকে জরিমানা করেছে।

আইন অনুযায়ী পার্টিতে মুখোশ পরে মুখ ঢাকা আর মেয়েদের নিকাব দিয়ে মুখ ঢাকা দুটোই সমান অপরাধ।

অনেকেই এই আইনকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বললেও জননিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে ডাচ সংসদ অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ফ্রান্স আর বেলিজিয়ামকে অনুসরণ করে মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধকেই বেছে নিয়েছে। তারা বলছেন, যে কেউই অপরাধের উদ্দেশ্যে মুখ ঢেকে বের হতে পারে।

মিশেল কোপেনহেগেনের জাতিগত ভাবে বৈচিত্র্যময় এলাকা নরেব্রোতে গিয়ে দেখেছেন সেখানকার মুসলিমরা নিকাব পরার পক্ষে না। বাস্তবতা হচ্ছে ডেনমার্কের খুব অল্প সংখ্যক মহিলাই নিকাব পরে। পুরো ডেনমার্কে যাদের সংখ্যা দেড়শ’রও কম।

কোন কোন অমুসলিম আবার এই নিষিদ্ধকরণকে ‘স্টুপিড’ বা বোকামি বলছেন। তাদের মতে এই নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হতে পারে কিন্তু এভাবে আইন করে নিষিদ্ধ করা ঠিক না।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here