দুর্গম পথের দু:সাহসী যাত্রী তিনি। গভীর নিমগ্ন এক স্রষ্টা। ভালবেসেছিলেন, মানুষ আর তাদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। তাই সঙ্গত কারণেই ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তাকে বেছে নিতে হয় বিদ্রোহের পথ। তবে তার দ্রোহ আর সমস্ত সৃষ্টি উৎসারিত হয়েছে প্রেমিক সত্তা থেকেই। তিনি কবি, বিদ্রোহী, প্রেমিক কাজী নজরুল ইসলাম। আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী।

ধ্রুবতারার মত তার আর্বিভাব। চোখ মেলেই যে সমাজ আর রাষ্ট্র দেখলেন, তা ছিল শ্বাপদসংকুল। তাইতো তার যুদ্ধটা ছিল দূর্গম ও দীর্ঘ। স্বভাবতই তাকে বিদ্রোহের পথ যেতে হয়েছে। এতে তিনি রক্তাক্ত হয়েছেন। তবে স্থির প্রত্যয়ী উচ্চারণে দ্বিধা করেননি এতটুকু।

মাত্র বাইশ বছর শিল্প সৃষ্টিতে সক্রিয় থাকতে পেরেছিলেন। এই ক্ষুদ্রসময়ে পৌন:পুনিকভাবে তিনি মানুষের মুক্তির কথাই বলেছেন। তাই এক হাতে বাঁশের বাশরি, আর হাতে রণ-তুর্য এই যুগলবন্ধী যেন অবধারিত ছিল। দ্রোহ আর প্রেম সত্তার নিবিড় যোগ নজরুল কাব্যে স্বতন্ত্র মাত্রা যোগ করেছে।

নজরুল কাব্যে ব্যর্থ প্রেমের ছবি দৃশ্যমান। তবে বিরহে এ ব্যর্থতা তিক্ত হয়ে উঠে তা নয়। এ বিরহ বোধ জীবনের এক অতুলনীয় অভিজ্ঞতা। জীবন যেন পরম সমৃদ্ধ হয় বিরহের স্পর্শে।

জীবন এবং জগৎ সম্পর্কে ব্যাপকতর যে বোধের দিশা দিয়েছেন নজরুল। তা এখনো ভালবাসায় পূর্ণ সমৃদ্ধ জীবনের সন্ধান দিতে পারে।

গবেষক ও শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল বলেন, যৌবন এবং পরবর্তীসময়ে তিনি বিভিন্ন আবেগের কথা বলেছেন। তিনি প্রেমের কথা মনের কথা সংগ্রামের কথা সবটাই তিনি তুলে ধরেছিলেন।

গানের পাখি নিরুদ্দেশ হাওয়ায় হাওয়ায়। তবে নজরুলকে আমরা এখনো খুঁজে ফিরি, আমাদের গভীর প্রেমে কিংবা দ্রোহের অন্ধগলিতে। যেখানে একান্তহৃদয়ের পরমসাথী কাজী নজরুল ইসলাম।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here