বিরাট কোহলি ডুবতে বসা ভারতের হাল ধরেছিলেন। আজিঙ্কা রাহানেকে নিয়ে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলছিলেন। কিন্তু মঈন আলীর ধাক্কায় সব চেষ্টা ব্যর্থ হলো। ৬০ রানে ভারতকে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করলো ইংল্যান্ড।

সাউদাম্পটন টেস্টের চতুর্থ দিন ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭১ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২৪৫ রানের লক্ষ্য পায় ভারত। কিন্তু মঈনের দারুণ স্পিনে ১৮৪ রানে অলআউট হয় তারা।

ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করে ইংল্যান্ড। শুরুতেই দলীয় ৩৩ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ইংলিশরা। তখনও মনে হচ্ছিল ম্যাচটা জিতে নিতে পারে ভারত। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে জেনিংস আর জো রুটের ৫৯ রানের জুটিতে ভর করে পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। তবে ১২২ রানে ৫ উইকেট পতনের পর আবারও পরাজয়ের শঙ্কা ভিড় করেছিল ইংলিশ শিবিরে। সেখান থেকে জজ বাটলারের ৬৯, কোরানের ৪৬ ও বেন স্টোকসের ৩০ রানের সুবাদে ২৭১ রান তুলে স্বাগতিকরা।

এর পর জয়ের জন্য ভারতের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৫ রান। প্রায় পাঁচ দশক আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে ১৭১ রান তাড়া করে টেস্ট জিতেছিল ভারত। সেটাই ছিল সফরকারীদের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে টেস্ট জেতা। স্বাভাবিকভাবেই পরিসংখ্যানটা ছিল ইংলিশদের পক্ষে। বল হাতে সেটি কাজেও লাগালো ব্রট, অ্যান্ডারসন, মঈন আলীরা।

চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২২ রানে তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপাকে পড়া ভারতকে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছিল কোহলি-রাহানে জুটি। ১০১ রানের বড় পার্টনারশিপ পড়ে ব্যক্তিগত ৫৮ রানে কোহলির শিকার হন ভারত অধিনায়ক। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা।

শেষ দিকে ঋষভ প্রান্ত (১৮) ও রবীচন্দ্র অশ্বিনের (২৫) ছোট প্রতিরোধেও জয়ের বন্দরে পৌঁছুতে পারেনি ভারত। আজিঙ্কা রাহানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে স্যাম কুরানের ৭৮, মইন আলীর ৪০, বেন স্টোকসের ২৩, জস বাটলারের ২১ রানের ইনিংসগুলোতে ভর করে ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয়েছিল ২৪৬ রানে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে আরো কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ভর করেছিল ভারতীয় শিবিরে। ১৯৫ রান সংগ্রহ করতেই ভারত হারিয়েছিল আট উইকেট। কিন্তু চেতেশ্বর পুজারা প্রায় একাই লড়াই চালিয়েছেন। ১৩২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন পুজারা।

পুজারার পর ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংসটি এসেছে অধিনায়ক বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে। ভারতের অধিনায়ক খেলেছেন ৪৬ রানের ইনিংস। ২৩ ও ১৯ রানের ছোট দুটি ইনিংস আসে ভারতের দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও লোকেশ রাহুলের ব্যাট থেকে। ১৪ রান করেন ইশান্ত শর্মা।

ইংল্যান্ডের পক্ষে দারুণ বোলিং করে পাঁচ উইকেট নেন মইন আলী। তিনটি উইকেট যায় স্টুয়ার্ট ব্রডের ঝুলিতে। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন মঈন আলী। এছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে অ্যান্ডারসন-স্টোকস ২টি করে এবং ব্রড-কোরাম ১টি করে উইকেট নেন।

পাঁচ ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ইতোমধ্যে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যে লন্ডনে শেষ টেস্টে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

ইংল্যান্ড : ২৪৬/১০ ও ২৭১/১০

ভারত : ২৭৩/১০ ও ১৮৪/১০

ফল : ইংল্যান্ড ৬০ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা : মঈন আলী

সিরিজ : ইংল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে জয়ী।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here