তাড়াহুড়া করে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চাপিয়ে দেয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, এটা নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হোক। বিকালে গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। বিমসটেক সম্মেলনে অংশ নেয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন হলেও প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং রাজনৈতিক বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের একজন স্বনামধন্য আইনজীবী বলেছেন আদৌ নির্বাচন হবে কিনা। আমার প্রশ্নটা হচ্ছে, তিনি আদৌ নির্বাচন চান কিনা?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইলেকশন ইনশাআল্লাহ হবে। ইলেকশন কেউ ঠেকাতে পারবে না। জনগণ যদি সাথে থাকে তাহলে ইলেকশন কেউ বানচাল করতে পারবে না এটা হলো বাস্তব।

তিনি বলেন, আমি চাই রাজনৈতিক জোট হোক, নির্বাচনে সবাই আসুক। কন্টেস্ট করুক। নতুন রাজনৈতিক জোটের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের সাধুবাদ জানাই, তারা কয়েকজন মিলে একটা জোট করেছে। তারা যে ঐক্য করেছে তা ভাল। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নেপাল সফরের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সাল থেকে কী করবো, তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা দিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘দিনবদলের সনদ চলছে। কাজ চলছে। তা অব্যাহত থাকবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২১০০ সালে বাংলাদেশকে কীভাবে দেখতে চাই, বদ্বীপকে বাঁচিয়ে রাখা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য অভিঘাত থেকে বাঁচাতে এই প্ল্যান। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতেই ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়ন হাতে নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে কাজ চলছে।’

জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নেই। তবে লক্ষ্য ও পরিকল্পনা গ্রহণে কাজ করে ফেলছি। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছাড়া আসলে দেশের উন্নয়ন হবে না। সে লক্ষ্যে ২০১০ থেকে ২০, ২০২১ থেকে ৪১ সাল পর্যন্ত করণীয় অনেকদূর এগিয়েছে। ৪১ থেকে ১০০ পর্যন্ত কী হবে সেই পরিকল্পনাও দিয়ে যাচ্ছি। এ নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। দেশ এগিয়ে যাবে। বদ্বীপকে রক্ষা ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতেই ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ হাতে নেওয়া হচ্ছে। জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নই আমার ইচ্ছা। আর কিছু চাই না তো।

সংবাদ সম্মেলন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভুয়া ছবি দিয়ে মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর প্রোপাগান্ডামূলক একটি বই প্রকাশের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা এভাবে ভুয়া ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে জঘন্য কাজ করেছে। কিন্তু এটা তারা কার কাছ থেকে শিখল? আমাদের দেশেও তো হয়েছে। কাবা ঘরের সামনে ব্যানার ধরার ছবির মিথ্যাচারও আমরা দেখেছি। সুতরাং এসব মানুষের কাছে ধরা পড়ে যায়। মিয়ানমার সরকারও ধরা পড়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিমসটেকের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির জন্য আমরা একমত হয়েছি। সন্ত্রাস, চরমপন্থা দমন, সবার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য দূরীকরণ এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নে জোরারোপ করি।

তিনি আরো বলেন, আমরা নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বলেছি, বাংলাদেশ বিমসটেকের মতো সহযোগিতামূলক প্লাটফর্মের সঙ্গে কাজ করে যাবে।

বিমসটেক সম্মেলনে মিয়ানমারের সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি এসেছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিমসটেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় উঠেছে রোহিঙ্গা ইস্যুটি। এছাড়া সম্মেলনের ফাঁকে আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকেও এ নিয়ে কথা হয়েছে।

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সংঘাত চাই না। আমাদের দেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের সহযোগীতা করছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, সবই হচ্ছে। মিয়ানমারের সাথে কথা হলে তারা আপত্তি করে না, বলে নিয়ে যাব। কিন্তু নিয়ে যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তাদের নেত্রী বন্দি হয়ে আছে, এতে আমাদের কী করার আছে। তাকে মুক্ত করার জন্য তারা আন্দোলন করুক।’

এসময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়া আর বিএনপি ছাড়া নির্বাচন হবে না বলে দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চান একজন গণমাধ্যমকর্মী।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন ‘তাদের নেত্রী বন্দী হয়ে আছে, এতে আমাদের কী করার আছে। তাকে মুক্ত করার জন্য তারা আন্দোলন করুক।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হয়েছেন এতিমের টাকা চুরি করে। আদালত তাকে শাস্তি দিয়েছে। এতে আমাদের কিছু করার নাই। তার বিরুদ্ধে আরো মামলা আছে। যে মামলায় তার শাস্তি হয়েছে ওই মামলা আমরা করি নাই। সে সময় তাদের পছন্দের সেনা সমর্থিত সরকারই ক্ষমতায় ছিল। তারাই ওই মামলা দিয়েছে। আইনের বাইরে আমার কিছু নাই।

তিনি বলেন, তারা যেটা চাচ্ছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি, তাদেরকে কোর্টের মাধ্যমে আসতে হবে। আর দ্রুত চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এটাই সংবিধানের বিধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের নেত্রী এখন কারাগারে বন্দী। তারা পারলে আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করুক। জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার কথা নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে যা বলুক তাদের সঙ্গে আমি আর আলোচনা করব না।

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার ছেলে মারা গেল। আমি তার ওখানে গেলাম। কিন্তু আমার মুখের ওপর দরজা লাগিয়ে দিল। সেই দিন থেকেই তো সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাদের সঙ্গে আমি আর কোনো আলোচনা করব না। আমাকে অপমান করেছে, মনে রাখতে হবে আমারও আত্মসম্মানবোধ আছে। তিনি তো আমাকে অপমান করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনে আসা না আসার বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই। এটা তাদের নিজেদের ব্যাপার। তাদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনাও হবে না।

এ সময় তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ভোট কারচুপি করতে পারবে না বলেই বিএনপি ইভিএমের বিরোধিতা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী, নেপালের প্রধানমন্ত্রী শর্মা অলি, ভুটানের অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শেরিং ওয়াংচুকসহ অনেক দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকের কথা তুলে ধরেন। উল্লেখ করেন এসব বৈঠকে আলোচনার বিষয়াদিও।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) সকালে কাঠমান্ডু যান প্রধানমন্ত্রী। দুই দিনের সফর শেষে শুক্রবার (৩১ আগস্ট) বিকেল আড়াইটার দিকে দেশে ফেরেন তিনি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here