জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও ফের বীরত্বের নজির স্থাপন করলেন মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতিন্দ্র। যৌবনে যেমন তিনি মুক্তিযুদ্ধ করে বীরত্বের প্রমান রাখেন। তেমনি ৬৭ বছর বয়সে এসেও তিনি দীর্ঘ পথ সাতার কেটে রেকর্ড গড়েন।

জানা গেছে, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে ৩ সেপ্টেম্বর সাঁতার শুরু করা মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য দীর্ঘ ১৮৫ কিলোমিটার সাঁতরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে গিনেজ বুক অব রেকর্ডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এখনো আসেনি।

গত সোমবার সকালে নালিতাবাড়ী পৌর শহরের ভোগাই ব্রিজ থেকে সাঁতার শুরু করেন জাতীয় রেকর্ডধারী ৬৭ বছর বয়সী এই সাঁতারু। তবে সাতার শেষ করে তিনি শারিরীকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাকে পাড়ে উঠানোর সঙ্গে সঙ্গে হযরত সুমাইয়া (রা:) হেলথ কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার ফজলুল বারী ইভান জানান, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকা ও না ঘুমানোর কারণে শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। তাকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।

আমেরিকার সাঁতারু ডায়ানা নাঈদের ২০১৩ সালে কিউবা টু ফ্লোরিডার ১৭৭ কিলোমিটার দূরপাল্লার সাঁতারের বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই ব্রিজ থেকে সাঁতার শুরু করেন। ভোগাই, কংস নদী ও মগড়া নদী হয়ে টানা ৬১ ঘণ্টা সাঁতার কাটার পর বুধবার রাত ৮টায় নেত্রকোনার মদনের মগড়া নদীর দেওয়ান বাজার ঘাটে পৌঁছান।

প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান, নেত্রকোনা সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র গত বছরের ৪ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে ৬ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত ১৪৬ কিলোমিটার নদীপথে সাঁতার কেটেছিলেন। এবার ৬১ ঘণ্টায় সোমবার থেকে বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত ১৮৫ কিলোমিটার সাঁতরে সেই রেকর্ড ভেঙে বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরসভা ও নেত্রকোনার মদন উপজেলার নাগরিক কমিটি এবার যৌথভাবে দূরপাল্লার ব্যতিক্রমী এই সাঁতারের আয়োজন করে সফলতা অর্জন করে।

সাঁতারের আয়োজনে জেলার মদন উপজেলার বাসিন্দাসহ দূর-দূরান্ত থেকে মগড়া নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমায় বিপুলসংখ্যক মানুষ। এর আগে গত সোমবার সকালে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান দূরপাল্লার এই ব্যতিক্রমী সাঁতারের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

ভোগাই ব্রিজ থেকে কংস নদ হয়ে নেত্রকোনা জেলার মদন পৌর শহরের মগড়া নদীর দেওয়ান বাজারঘাটে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের এই স্নাতকের সাঁতার শেষ হয় বুধবার রাত ৮টায়। বাজারঘাটে সাঁতারু ক্ষিতীন্দ্র বৈশ্যকে স্বাগত জানান আয়োজক কমিটিসহ নেত্রকোনার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরিফুল ইসলাম, মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়ালীউল হাসান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আকন্দ। এ সময় হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন নদীর পাড়ে।

এর আগে এই কৃতী সাঁতারু ১৯৭২ সালে সিলেটের রামকৃষ্ণ মিশন পুকুরে ৩৪ ঘণ্টা, সুনামগঞ্জের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে ৪৩ ঘণ্টা, ১৯৭৩ সালে ছাতক উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে ৬০ ঘণ্টা, সিলেটের এমসি কলেজের পুকুরে ৮২ ঘণ্টা এবং ১৯৭৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পুকুরে ৯৩ ঘণ্টা ১১ মিনিট সাঁতার প্রদর্শন করে জাতীয় রেকর্ড গড়েন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here