দারুণ এক জুটিতে ম্যাচটা একপ্রকার ছিনিয়েই নিচ্ছিলেন লোকেশ রাহুল-রিশভ পান্ট। কিন্তু ইংলিশরাও যে ধনুকভাঙা পণ করেই নেমেছিলেন, কিছুতেই মলিন হতে দেবেন না অ্যালিস্টার কুকের বিদায়ী মঞ্চ। শেষপর্যন্ত হতাশও করেননি স্বাগতিক বোলাররা। ইতিহাসের অন্যতম সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যানকে শেষপর্যন্ত জয় উপহার দিয়েই রঙিন বিদায় জানিয়েছে ইংল্যান্ড।

ওভাল টেস্টে পঞ্চম দিনে ভারতকে ১১৮ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৪-১’এ জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড। যদিও সব ছাপিয়ে লন্ডন টেস্টকে কুকের বিদায়ী টেস্ট হিসেবেই মনে রাখবে ক্রিকেট ইতিহাস ও অনুরাগীরা।

সঙ্গে জেমস অ্যান্ডারসনের কীর্তি বাড়তি পাওয়া। এই টেস্টেই গ্লেন ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে সাদা পোশাকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটধারী পেসার হয়েছেন অ্যান্ডারসন। ইংলিশ পেসারের উইকেট এখন ৫৬৪টি। অজি কিংবদন্তি পেসারের উইকেট অ্যান্ডারসনের চেয়ে একটি কম। আর সর্বকালের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারিদের তালিকায় ইংলিশ পেসার আছেন চারে।

৪৬৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে চতুর্থ দিনেই ভারত ৫৮ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেললে ম্যাচের ফল একরকম নিশ্চিত হয়ে যায়। চতুর্থ দিনের শুরুতে আজিঙ্কা রাহানে ৩৭ রানের ইনিংস খেলে একটু আশা জাগানোর পর হানুমা বিহারি শূন্য রানে ফিরলে হার সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় ভারতের জন্য।

তবে সেটা হতে দেননি রাহুল-পন্থ। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ২০৪ রানের জুটি গড়ে জয়ের স্বপ্নও দেখাতে শুরু করেন ভারতকে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে এগিয়ে নিয়ে যান সফরকারীদের। আর এই সময়ে রাহুল তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। আর পন্থ পান তার অভিষেক সেঞ্চুরি।

জুটি ভাঙতে না পেরে ইংলিশদের মনে যখন সংশয়ের মেঘ ওড়াউড়ি করছিল, ঠিক তখনই আদিল রশিদের আঘাত। রাহুলকে যে ঘূর্ণিতে আউট করলেন এই স্পিনার, তাতে মনে পড়তে বাধ্য শেন ওয়ার্নের সেই ‘বল অব দ্য সেঞ্চুরি’র কথা। ডানপ্রান্ত থেকে আসা বলটিতে যেমন টার্ন ছিল, তেমনি ছিল গতি। সোজা আঘাত করে স্টাম্পে, তাতে ১৪৯ রানে থামে রাহুলের চমৎকার ইনিংসটি। ২২৪ বলের ইনিংসটি ভারতীয় ওপেনার সাজিয়েছিলেন ২০ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায়।

তার আউটের পর অন্তত ড্রয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন পন্থ। কিন্তু তিনিও শিকার হলেন রশিদের। বেশি আক্রমণাত্মক হওয়ার খেসারত হিসেবে লং অফে ধরা পড়েন মঈন আলীর হাতে। ১১৪ রানে শেষ হয় তার লড়াকু ইনিংসের। ১৪৬ বলে মেরেছেন ১৫ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কা।

এরপর স্যাম কারানের আঘাত। ইশান্ত শর্মাকে ৫ রানে ফেরানোর পর রবীন্দ্র জাদেজাকে উইকেটরক্ষক জনি বেয়ারস্টোর গ্ল্যাভসবন্দী করেন ১৩ রানে। আর মোহাম্মদ সামির স্টাম্প উড়িয়ে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন জেমস অ্যান্ডারসন। এই শিকারেই আবার তিনি পরিণত হন টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি পেসারে। গ্লেন ম্যাকগ্রাকে সরিয়ে অ্যান্ডারসনই এখন টেস্টের সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া পেসার।

তবে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে বিদায় নেওয়া কুকের হাতে। সেটা তার প্রাপ্যও। প্রথম ইনিংসে ৭১ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছেন ১৪৭ রানের ইনিংস। জয় ও ম্যাচসেরার পুরস্কারে ক্যারিয়ার শেষ- এর চেয়ে ভালো বিদায় আর কী হতে পারে!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ৩৩২ ও ৪২৩/৮ (ডিক্লে.)

ভারত: ২৯২ ও ৩৪৫ (রাহুল ১৪৯, পন্থ ১১৪, রাহানে ৩৭; অ্যান্ডারসন ৩/৪৫, কারান ২/২৩, রশিদ ২/৬৩)।

ফল: ইংল্যান্ড ১১৮ রানে জয়ী।

সিরিজ: পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ইংল্যান্ড ৪-১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: অ্যালিস্টার কুক।

সিরিজসেরা: স্যাম কারান ও বিরাট কোহলি।

 

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here