সবাইকে অবাক করে দিয়ে কব্জির ভাঙা হাড় নিয়ে হুট করেই মাঠে নেমে পড়েন তামিম ইকবাল। বারণ না শুনে নিজ সিদ্ধান্তেই মাঠে নামেন সে সময়। আর তাতেই অবাক পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। তামিমের এমন নিবেদনে অভিভূত অধিনায়ক মাশরাফিও। সংবাদ সম্মেলনে সতীর্থ তামিমের প্রশংসা করতে ভুললেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক।

শেষ জুটিতে ১৬ বলের ইনিংসে মুশফিক ১৫ বলে করলেন ৩২ রান। বাকি এক বলে তামিম কোন রান না করেও নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। তখন সুরাঙ্গা লাকমালের একটি বলও একহাতে সামলেছেন তামিম। তার এই নিবেদনকে স্মরণ রাখতে বলেছেন মাশরাফি, ‘তামিমকে মনে রাখা উচিত এ ম্যাচের জন্য। এখানে যে কোন কিছু ঘটতে পারত। যা ওর ক্যারিয়ারের প্রভাব ফেলতে পারত। এই কারণে তামিমকে সবার মনে রাখা উচিত। আমার মনে হয় এতে মুশফিকও তেতে গিয়েছে। এই অবস্থায় মুশফিককে সাহায্য করেছে ওই ৩০/৩২টা রান করার জন্য। আসলে ছোট করে বলতে পারছি না। তামিমকে টুপি খোলা অভিনন্দন।’

২২৯ রানে মুস্তাফিজ আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন তামিম। মুশফিক তখন স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটিং করছিলেন। তামিমকে পেয়ে যেন আগ্রাসী হয়ে উঠলেন হঠাৎ। মুশফিকের ব্যাটিং নিয়ে মাশরাফি বলেছেন, ‘আমি মনে করি মুশফিক বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলেছে। সে খুব চাপের মুখে ব্যাট করতে নেমেছিল। মুশফিক যেভাবে ইনিংসটা শেষ করেছে, সেটা দুর্দান্ত ছিল। মিঠুনের কথাও বলতে হয়, সেও দারুণভাবে চাপ সামলেছে।’

দুবাইতে প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশি মাশরাফিদের খেলা উপভোগ করেছেন। তাই মাশরাফির কখনো মনে হয়নি বাইরের কোথাও খেলছেন, ‘প্রথম বল থেকেই তারা আমাদের সমর্থন দিয়ে এসেছেন, যা দলের জন্য ভালো ছিল। এখানকার দর্শক মিরপুর থেকেই বেশি ছিল, স্টেডিয়ামটা বেশ বড়। মাঠ ভর্তি মানুষ ছিল। সেদিক থেকে মিরপুরের সঙ্গে অনেকটা মিল ছিল বলা যায়।’

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে মাঠের লড়াইয়ের চাইতে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইটা বেশি হয়ে থাকে। যদিও মাশরাফি মনে করেন এসব কোন প্রভাব ফেলে না, ‘আসলে প্রতিটি ম্যাচেই জয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ক্রিকেটে উন্নতি করছি, বিশেষ করে ওয়ানডেতে ভালো খেলছি। ওই ছন্দটা ধরে রাখা খুব জরুরি। এটা আগের ঘটনা গুলোর কারণে নয়, অন্য যে কোন প্রতিপক্ষ থাকলেও আমরা ম্যাচটা জিততে চাইতাম। ’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here