আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও প্রতিদ্বন্দ্বীর অভাব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রোববার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স – আইডিইবির ২২তম জাতীয় কাউন্সিলে বক্তব্য রাখেন তিনি।

সভা-সমাবেশ করতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যাতে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে তা পুলিশ কমিশনারকে জানিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে পুলিশ কমিশনারকে জানিয়ে দিয়েছি। রাস্তাঘাট বন্ধ করে সমাবেশ না করে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান উন্মুক্ত, যারাই অনুমতি চাইবে পুলিশ তাদের অনুমতি দিবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গণভবনে আমাদের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছিলো। বৈঠকের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বলেছেন, সভা, সমাবেশ সবাইকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করতে। পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক সময় অনেককেই অনুমতি দেয় না। তবে, প্রধানমন্ত্রী পরিস্কার ভাষায় বলে দিয়েছেন, নিবন্ধিত যেসব দল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি চাইবেন কোনো সমস্যা হবে না। সবাই অনুমতি পাবে।’

কাদের বলেন, ‘নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। নির্বাচনের দেড় মাস আগে মামাবাড়ির আবদার করার কোনো সুযোগ নেই। ‌সংসদের শেষ অধিবেশন অক্টোবর মাসের ২০ তারিখের আগেই শেষ হয়ে যাবে। এরপর আর সংসদ বসবে না নির্বাচন পর্যন্ত। এ সময় সংসদ সদস্যদের কোনো ক্ষমতা ও কার্যকারিতা থাকবে না। কাজেই এটা ভেঙে দেওয়া, গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো রেখে এবং অকার্যকর এর মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়, আমি বুঝতে পারি না।’

জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে না, এটা আমরা বলবো না। প্রয়োজন হলে সেই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করলে বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে কিভাবে মোতায়েন হবে সরকার সেই সিদ্ধান্ত নেবে।’

সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার গঠন, বিচারিক ক্ষমতায় দিয়ে সেনা মোতায়েন, নির্বাচন কমিশন পুর্নগঠনে যুক্তফ্রন্টের দাবি অপ্রাসঙ্গিক, অবান্তর, অপ্রয়োজন ও অসাংবিধানিক উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘এখন সংসদ ভেঙ্গে নির্দলীয় সরকার করারতো প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় ঠিক সেভাবেই নির্বাচন হবে আমাদের দেশে।’

কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় এখন নাই, এখানেতো বিএনপিরও প্রতিনিধি রয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই রাষ্ট্রপতি এ নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে।’

যুক্তফ্রন্টের পাঁচ দফা বিএনপির দাবির সঙ্গে মিলে গেছে কিনা সাংবাদিকদের এমন লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা মিলে গেলো কিনা, তা দেখা আমাদের বিষয় না। বিএনপি কার সঙ্গে যাবে, কিভাবে যাবে তা আমাদের বিষয় না। আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যুক্তফ্রন্টের নেতারা বলেছেন বিএনপির প্রধান মিত্র জামাতে ইসলাম থাকলে তারা বিএনপির সঙ্গে যাবে না। এখানে তো আমাদের কোনো মন্তব্য নাই। তবে নতুন নতুন জোট হলে স্বাগত, শত ফুল ফুটুক। গণতন্ত্র তো, অসুবিধা নাই। নতুন নতুন জোট হোক নির্বাচন করুক।’

বিএনপি মহাসচিবের যুক্তরাষ্ট্র সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাহস থাকলে জনগণের কাছে নালিশ করুন। বিদেশে গিয়ে নালিশ করে দেশকে কেনো খাটো করছেন। জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণ, বাস্তবে দেখা গেলো এমন কোনো আমন্ত্রণ নাই। কি রকম তারা প্রতারণা করে, রাজনীতে ছদ্মবেশী প্রতারণা পার্টির নাম বিএনপি। বিএনপি এখন বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশ কান্নাকাটি পার্টি হয়ে গেছে।’

বিএনপি নির্বাচনে না এলে যুক্তফ্রন্টই বিএনপির বিকল্প কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা আমরা জানি না। তবে আমরা জানি বিএনপি না এলেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বির অভাব নাই, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফাঁদ তৈরির কোনো সুযোগ নাই। সবাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই এবার নির্বাচিত হবে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here