রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজারে, কক্সবাজারের উখিয়ায় ও পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং পুলিশের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোর পর্যন্ত রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের ভেতর, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা বাজার চেকপোস্ট এলাকায় ও পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার কৈজুরী গ্রামে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ঘটনা ঘটে।

ঢাকা : রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের ভেতরে র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে তাদের বয়স ২৮ ও ৩০ বছর হবে।

মোহাম্মদপুর থানার এসআই আনিসুর রহমান জানান, দিবাগত রাতে খবর আসে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের ভেতরে দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, সকালে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ওই দুই যুবককে ঢামেকে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়ায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- আবদুস সামাদ (২৭) ও মোহাম্মদ আবু হানিফ (৩০)। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

র‌্যাবের দাবি, নিহতরা মাদক বিক্রেতা। ঘটনাস্থল থেকে এক লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ও দেশি-বিদেশি কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে একটি ট্রাকও।

র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান, মালবাহী ট্রাকে করে ইয়াবার বিশাল চালান আসছে- এমন খবর পেয়ে ভোরে মরিচ্যা চেকপোস্ট এলাকায় তল্লাশি চালায় র‌্যাব। তল্লাশি চৌকির কাছাকাছি আসামাত্র কক্সবাজারমুখী একটি মালবাহী ট্রাক থেকে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও গুলি চালায়। ট্রাক থেকে গুলি করা বন্ধ হলে সেখানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দুটি মরদেহ পাওয়া যায়। এছাড়াও ট্রাক থেকে দুটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ানশুটার গান, আটট রাউন্ড গুলি ও আট রাউন্ড খালি খোসাও জব্দ করা হয়। দুটি মরদেহ ও উদ্ধার অস্ত্রগুলো উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাবনা : পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার কৈজুরী গ্রামে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

নিহত ব্যক্তির নাম কুরবান আলী (৩৬)। তিনি আটঘরিয়া উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের কিয়াম উদ্দিন ওরফে আদুর ছেলে। কুরবান আলী চরমপন্থি সংগঠন নকশাল গ্রুপের নেতা বলে দাবি করেছে পুলিশ।

আতাইকুলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ রানা জানান, আটঘরিয়া উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের কৈজুরী গ্রামের শশ্মানের পাশে একদল দুষ্কৃতিকারী গোপন বৈঠক করছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযানে যায় আতাইকুলা থানা পুলিশ। গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথে পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। প্রায় ৩০ মিনিট পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের এক পর্যায়ে পিছু হটে সন্ত্রাসীরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কুরবান আলী নামের একজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা হলেন- এএসআই মন্টু হোসেন, ফারুক হোসেন, কনস্টেবল আব্দুর রউফ ও শাহিন আলী।

ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, চার রাউন্ড গুলি, দুটি কার্তুজের খোসা, ইয়াবা ট্যাবলেট ২০ পিস, একটি ডায়াং মোটরসাইকেল ও ছয় জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, নিহত কুরবান চরমপন্থি নকশাল দলের আঞ্চলিক নেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আটঘরিয়া ও আতাইকুলা থানায় হত্যা-ডাকাতিসহ বেশ কিছু মামলা রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here