বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সেবা দিতে নানাভাবে বাধা দিচ্ছে সরকার। এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জন্য অনভিজ্ঞ থেরাপিস্ট নিয়োগকে রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিন বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সেবা দিতে বিভিন্নভাবে বাধা দিচ্ছে সরকার। দেশনেত্রীকে আগে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি দিতেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন সিনিয়র অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট। পরে তাকে পরিবর্তন করে সরকারদলীয় মনোভাবাপন্ন একজন নতুন অনভিজ্ঞ থেরাপিষ্টকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা রহস্যজনক।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ডে রাখা হয়নি অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘এজন্যই আমরা দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত। বিএনপি চেয়ারপারসন গুরুতর অসুস্থ হলেও এখনও তার পছন্দ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি কিংবা সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রমাণ হয়, সরকার বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে কোনো গভীর চক্রান্ত চালাচ্ছে। প্রত্যেক বন্দির অধিকার রয়েছে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য পছন্দ অনুযায়ী হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার।’

‘খালেদা জিয়া তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান। অথচ তার মানবাধিকারকে হরণ করে তাকে তীব্র কষ্ট দিয়ে তিলে তিলে জীবন বিপন্ন করারই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে সরকার। আমি আবারও বেগম খালেদা জিয়াকে তার পছন্দ অনুযায়ী বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে, বিশেষ করে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি,’— বলেন রিজভী।

মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার জন্য ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর বিরোধিতা করে রিজভী বলেন, ‘হরিলুটের সরকার আওয়ামী জোট সরকার। ব্রিজ, কালভার্ট, সড়ক-মহাসড়ক, উড়াল সেতুর নির্মাণে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়বৃদ্ধি করে জনগণের টাকা লোপাট করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা। অবৈধ সরকার দলীয় লোকদের আঙুল ফুলে কলাগাছ বানাতে রাষ্ট্রীয় অর্থভাণ্ডার ডাকাতির সুযোগ করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ জনসমাজের বিভিন্ন স্তরের সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানিয়েছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও সেই আপত্তিতে সাড়া দিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে না বলে জানিয়েছিলেন। অথচ গতকাল (মঙ্গলবার) একনেকে দেড় লাখ ইভিএম কেনার প্রকল্পের অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার জনগণকে ত্যাজ্য করে জালিয়াতির মেশিন ইভিএমের ওপর নির্ভরশীল হয়েছে। এছাড়া সরকারের আর উপায় নেই।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here