আগেই সুপার ফোর নিশ্চিত হয়ে ছিল বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই টাইগারদের জন্য ছিল নিয়মরক্ষার ম্যাচ। আর এই ম্যাচে লজ্জাজনকভাবে হেরে গেল বাংলাদেশ। আফগানিস্তান ম্যাচটি জিতে নিল ১৩৬ রানে। এই জয়ের ফলে ‘এ’ গ্রুপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলো আফগানিস্তান। আর গ্রুপ রানার্স আপ হলো বাংলাদেশ।

২৫৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। দ্রুত দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় শুরুতে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। যদিও অভিষেকটা রঙিন করতে পারলেন না। আরেক ওপেনার লিটন দাসও ব্যর্থ। দুই ওপেনারকে হারিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

তামিম ইকবালের ইনজুরিতে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন শান্ত। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগটা নিশ্চিতভাবেই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হয়নি। ওপেনিংয়ে নেমে মাত্র ৭ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন। মুজিব উর রহমানের বলে বিগ শট খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন তিনি আফতাব আলমের হাতে।

ওই ধাক্কা কাটার আগেই আবারও উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শান্তর ক্যাচ ধরা আফতাব এবার উইকেট শিকারির ভূমিকায়। লিটনকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান আফগান এই পেসার। ফিল্ড আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়েছিলেন লিটন। তাতে অবশ্য কাজ হয়নি, রিভিউ হারের সঙ্গে ৬ রানে আউট হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই বিপদ আরও বাড়িয়ে যান মুমিনুল হক। খানিক পর তার দেখানো পথে হাঁটেন মিঠুন। মাত্র ২ রান করে গুলবাদিন নাইবের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি।

৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর চেষ্টায় ছিলেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু রশিদ খানের ঘূর্ণিতে বিদায় নিয়েছেন দুজনেই।

রশিদের ঘূর্ণিতে এলবিডাব্লিউতে বিদায় নেন সাকিব। ফিরে গেছেন ৩২ রানে। পরে বোল্ড হয়ে ২৭ রানে ফিরেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৫৫ বলে ৩২ রান করেন সাকিব আর ৫৪ বলে ২৭ রান করেন রিয়াদ। রশিদ খানের স্পিন সামাল দিতে পারেননি তিনি। খেই হারিয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন। বিপর্যয়ে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশের পরিণতি আরও এগিয়ে নেন মিরাজ। ৩৩.১ ওভারে রহমত শাহর বলে তালুবন্দী হন। পরে আর মাথা তুলে দাঁড়াননি কেউ। বিদায় নেন একে একে মাশরাফি, (০), আবু হায়দার (১) ও রুবেল হোসেন (০)। মাঝে মোসাদ্দেক হোসেন শুধু ২৬ রানে সংগ্রাম করে অপরাজিত থেকেছেন।

ব্যাট হাতে আলো ছড়ানোর পর বল হাতেও দুর্দান্ত ছিলেন রশিদ খান। জন্ম দিনে ৯ ওভারে ১৩ রান দিয়ে নেন দুই উইকেট। বাকি দুটি নেন গুলবাদিন মুজিব উর রহমান। একটি করে নেন রহমত শাহ, আফতাব আলম ও মোহাম্মদ নবি।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তান রশিদ খানের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে গুলবাদিন নাইবের চমৎকার ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে জমা করে ২৫৫ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ : ৪২.১ ওভারে ১১৯ (লিটন ৬, শান্ত ৭, সাকিব ৩২, মুমিনুল ৯, মিঠুন ২, মাহমুদউল্লাহ ২৭, মোসাদ্দেক ২৬*, মিরাজ ৪, মাশরাফি ০, রনি ১, রুবেল ০; আফতাব ১/১১, মুজিব ২/২২, গুলবাদিন ২/৩০, নবি ১/২৪, শেনওয়ারি ০/১২, রশিদ ২/১৩, রহমত ১/৭)।

আফগানিস্তান : ৫০ ওভারে ২৫৫/৭ (শাহজাদ ৩৭, ইহসানুল্লাহ ৮, রহমত ১০, হাসমতুল্লাহ ৫৮, আসগর ৮, শেনওয়ারি ১৮, নবি ১০, গুলবাদিন ৪২, রশিদ ৫৭ ; রুবেল ১/৩২, রনি ২/৫০, মিরাজ ০/২১, মাশরাফি ০/৬৭, সাকিব ৪/৪২, মোসাদ্দেক ০/১৮, মুমিনুল ০/১৫, মাহমুদউল্লাহ ০/৫)।

ফলাফল : আফগানিস্তান ১৩৬ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : রশিদ খান

 

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here