বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার বেআইনি ও অবিচার বলে মন্তব্য করলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল কারাগারে স্থানান্তরিত আদালত রায় দিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলবে। এটা বেআইনি, এটা তার প্রতি অবিচার, এটা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

বেগম খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসার দাবি জানিয়ে ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ, তিনি হাঁটতেও পারেন না। বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও তার জীবন-মরণের প্রশ্ন। তার চিকিৎসা জরুরি। অথচ তাকে চিকিৎসা না দিয়ে আদালতকে কারাগারে স্থানান্তরিত করে বিচারকাজ পরিচালনা করছে। অথচ আইনে বলা আছে, বিচারকাজ চলতে হবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সামনে। আদালত আদেশ দিলেন, তার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলবে। আদালতের এ আদেশ জনগণ মেনে নিতে পারছে না। এ আদেশ পরিবর্তন হওয়া জরুরি।

ফখরুল বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে গায়েবি মামলার সংখ্যা তিন হাজার ৭০৬টি, আর এজাহারে নাম এসেছে তিন লাখ ১৩ হাজারের বেশি, আর অজ্ঞাতনামা আসামি দুই লাখ ৩৩ হাজার ৭৩০ জন, আর আটক করা হয়েছে তিন হাজার ৬০০ জনের বেশি।

তিনি আরও বলেন, মূলত নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও বিরোধী মতকে বাইরে রাখতে সরকার নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা দিয়ে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করছে। সারা দেশে এসব গায়েবি মামলার কারণ হচ্ছে, যাতে আওয়ামী লীগ আবারও ভোট ছাড়া ক্ষমতায় থাকতে পারে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো যেন নির্বাচনে আসতে না পারে, এ জন্য সরকার এসব মামলা-হামলার পথ বেছে নিয়েছে। অথচ নির্বাচনের আগমুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশে এমন গায়েবি মামলা দায়ের করে না। বিশ্বের যেকোনো দেশে নির্বাচনের সময় এলে জনগণকে নির্বাচনমুখী করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, এ আইন করা হলো যাতে কেউ আর সরকারের অপশাসন, অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারে। এ আইনে কোনো সরকারি কর্মকর্তার গোপন তথ্য বা দুর্নীতির খবর প্রকাশ করলে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। তাহলে বলেন গণতন্ত্র কোথায়?

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here