শেষ পযর্ন্ত অধরাই রেয়ে গেল এশিয়া কাপের শিরোপা। পারলেন না মাশরাফি। হেরে গেলেন আরো একবার। তবে কম রানের ইনিংসেও অসহায় আত্মসমর্পণ করেনি টাইগাররা। মোস্তাফিজদের বোলিং তোপে শেষ বলে জিতেছে ভারত। বাংলাদেশকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে ভারত।

২২৩ রানের লক্ষ্যেও ধুঁকতে হয়েছে রোহিত শর্মাদের। তবে নানা চড়াই উতরাই পার হয়ে শেষ বলে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছায় ধোনিরা। তারা জয় পেয়েছে শেষ বলেই। মাহমুদউল্লাহর ওভারে তারা শেষ বলে যখন এক রান প্রয়োজন সেই সুযোগটি হাত ছাড়া করেনি কোনওভাবে।

এর আগে আতঙ্ক ছড়ানো রোহিত শর্মাকে সাজঘরে বিদায় দিলেও ভারতের হয়ে জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি ও দিনেশ কার্তিক। তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর থিতু হয়ে ইনিংস মেরামরত করছিলেন। ৩৭ রানে ব্যাট করতে থাকা কার্তিককে দারুণ এক বলে এলবিডাব্লিউ করেন মাহমুদউল্লাহ। কার্তিককে ফিরিয়ে ৫৪ রানের ভয়াবহ জুটি ভেঙে খেলা জমিয়ে তোলেন মাহমুদউল্লাহ।

অপর প্রান্ত অবশ্য ধরে খেলতে থাকেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ৩৬ রানে ব্যাট করতে থাকা ধোনিকে গ্লাভসবন্দী করান মোস্তাফিজুর। মাঝে কেদার যাদব ক্রিজে প্রতিরোধ দেওয়ার চেষ্টা করলেও পায়ের ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

কেদার রিটায়ার্ড হার্ট হলে দলকে টেনে তোলেন রবীন্দ্র জাদেজা ও ভুবনেশ্বর। এ দুজনের ব্যাটেই জয়ের কাছে পৌঁছায় ভারত। জাদেজা শেষ দিকে রুবেলের বলে মুশফিককে ক্যাচ দিলে ধাক্কা খায় ভারত। জাদেজার ইনিংসটি ছিলো ২৩ রানের। তার বিদায়ের পর পরিচর্যা নিয়ে আবারও মাঠে নামেন কেদার যাদব। তখনই আবার ধাক্কা খায় ভুবনেশ্বর কুমার বিদায় নিলে। মোস্তাফিজের বলে ২১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি।

শেষ দিকে পেন্ডুলামের মতো পরিস্থিতি একবার ভারতের দিকে যায় তো আবার বাংলাদেশের পক্ষে। বাংলাদেশ খেলায় ফেরার জোর চেষ্টা করলেও শেষ ওভারে সেটা আর পারেনি। কেদার যাদবের অপরাজিত ২৩ ও কুলদিপের ৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখলো রোহিত শর্মারা। বাংলাদেশের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন রুবেল ও মোস্তাফিজ। মাশরাফি, নাজমুল ও মাহমুদউল্লাহ একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে অবশ্য বাংলাদেশকে ভোগান রোহিত শর্মা। বাকিরা ব্যর্থ হলেও ওপেনিংয়ে জমে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মাও। হুমকি হয়ে দাঁড়ানো এই ব্যাটসম্যানকে ফেরান রুবেল হোসেন। ওপেনিংয়ে নেমে ত্রাস ছড়াতে থাকা রোহিত শর্মাকে ৪৮ রানে তালুবন্দী করেন নাজমুল অপু। ৫৫ বলে ৩টি চার ও ৩ ছয়ে এই আগ্রাসী ইনিংস খেলেন ভারতীয় অধিনায়ক।

এর আগে বোলিংয়ে এসেই সাফল্য পান মাশরাফি বিন মুর্তজা। নিজের তৃতীয় বলে বাংলাদেশ অধিনায়ক ফিরিয়েছেন আম্বাতি রাইডুকে। সংগ্রহটা বেশি নয়, তাই বোলিংয়ে ভালো শুরু দরকার ছিল বাংলাদেশের। শিখর ধাওয়ানের আউটের পর সেই শুরুটা এনে দিলেন মাশরাফি। তার স্টাম্পের ওপর বল খেলতে গিয়ে রাইডু ধরা পড়েন উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের গ্ল্যাভসে। ব্যাটের কানায় লেগে আউট হওয়ার আগে ভারতীয় ব্যাটসম্যান ৭ বলে করেন মাত্র ২ রান।

শুরুতে ভারতীয় উদ্বোধনী জুটিকে বেশিদূর এগোতে দেননি নাজমুল ইসলাম। এই স্পিনার বোলিংয়ে এসেই তুলে নিয়েছেন শিখর ধাওয়ানের উইকেট। ভারত প্রথম উইকেট হারায় ৩৫ রানে।

ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন ধাওয়ান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা ভারতীয় ব্যাটসম্যানকে থামান নাজমুল। নিজের চতুর্থ বলে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে ১৫ রান করা ধাওয়ানকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান এই স্পিনার।

এর আগে বাংলাদেশ ২২২ রানে অলআউট হয়ে সাধারণ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। অথচ কোনও উইকেট না হারিয়ে স্কোর ছিলো ১২০। সেই বাংলাদেশই কিনা অলআউট হয়ে গেল ২২২ রানে! এর মানে ১০২ রান তুললে ১০ উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা। ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালে দুর্দান্ত শুরুর পরও তাই ৪৮.৩ ওভারে গুটিয়ে গেছে মাশরাফিরা।

লিটন দাসের ইনিংসটাই বাংলাদেশের স্কোরকে অতদূর পর্যন্ত নিয়ে গেছে। বাংলাদেশি ওপেনার শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে জ্বলে ওঠে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তার ১২১ রানের সঙ্গে সৌম্য সরকার (৩৩) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (৩২) ছাড়া আর কেউই কিছু করতে পারেননি। হতাশ করেছেন ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন ও মাহমুদউল্লাহ। লোয়ার অর্ডারে মাশরাফিও কিছু করতে পারেননি। লোয়ার অর্ডারে মাশরাফিও কিছু করতে পারেননি। ৭ রান করে স্টাম্পিং হয়ে ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে। নাজমুল ইসলামও করেছেন ৭ রান। আর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রুবেল হোসেন ফিরেছেন শূন্য রানে।

ভারতীয় বোলারদের শুরুটা মন্দ হলেও পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে পেয়েছেন সাফল্য। সবচেয়ে সফল কেদার যাদব, এই স্পিনার ৪৫ রানে পেয়েছেন ৩ উইকেট। আর ‍দুটি উইকেট শিকার কুলদীপ যাদবের।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here