চোটের কারণে ছিলেন না সেরা দুই তারকা তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। পুরোপুরি ফিট ছিলেন না মুশফিকুর রহীম। এরমধ্যে আবার ছিল টানা খেলার ধকল। তারপরও বাংলাদেশ উঠেছিল এশিয়া কাপের টানা ফাইনালে। মঞ্চও প্রস্তুত ছিল ইতিহাস তৈরির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাছে গিয়েও পারেনি টিম টাইগার্স। ২০১২ ও ২০১৬ সালের মতোই শুক্রবার আরেকটি স্বপ্নভঙের বেদনায় পুড়ল স্টিভ রোডসের শিষ্যরা। কে কাকে দেবেন সান্ত্বনা? কীভাবে এ যন্ত্রণা মুছবেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। তারপরও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা চেষ্টা করেন যন্ত্রণা লুকিয়ে হারের ব্যাখ্যা দেওয়ার, ‘আমরা হৃদয় দিয়ে খেলেছি। শেষ বল পর্যন্ত লড়েছি। আমরা এটাই চেয়েছি।’

শুক্রবার দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ব্যাটিংয়ের শুরুটা দারুণ হয়েছিল বাংলাদেশের। দুই ওপেনার লিটন দাস ও মেহেদি হাসান মিরাজ স্কোর বোর্ডে রান জমা করেছিলেন ১২০। তারপরও ২৫০ পেরুতে পারেনি টিম টাইগার্স। ২২২ রানেই গুটিয়ে যেতে হয়েছে। তারপরও মাঝারি মানের এ পুঁজি নিয়েই বোলাররা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছিল। স্বাভাবিকভাবেই মাশরাফির বাহবা পাচ্ছেন মোস্তাফিজ-রুবেলরা, ‘এই টুর্নামেন্টে যদি আমাদের বোলারদের দিকে তাকান, বেশির ভাগ সময়েই ২৪০ করে আমরা জিতেছি। ব্যাটসম্যানদের কাছে আজ এটাই চাইছিলাম। শেষমেশ বোলাররা সত্যি অসাধারণ করেছে।’

ভারতীয় ইনিংসের শুরু থেকে বোলার ভাল করলেও বাংলাদেশকে শেষ ওভার নিয়ে ভুগতে হয়েছে। সে সময় ভারতের জিততে দরকার ৬ রান, মাশরাফির হাতে তখন অফসন বলতে হয় মাহমুদউল্লাহ না হলে সৌম্য সরকার। শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ হাতে বল তুলে দেন ম্যাশ। খুব খারাপ করেননি মাহমুদউল্লাহ। তবু শেষ পর্যন্ত ১ বলে ১ রানের সমীকরণ আটকাতে পারেনি টিম বাংলাদেশ। মোস্তাফিজকে কেন শেষ ওভারের জন্য রেখে দেওয়া হলো না, এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবে আসবে। ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মাশরাফি, ‘আমিও আলোচনা করেছি বিষয়টা নিয়ে। ভারত যেভাবে রান করছিল মোস্তাফিজকে ৪৯তম ওভারেই আনা দরকার ছিল। ওরা প্রায় প্রতি বলে রান করছিল। এই পর্যায়ে আমি স্পিনার আনতে চাইনি। ওরা আজ খুব একটা ভালো করেনি।’

এশিয়া কাপের স্বপ্নভঙের যন্ত্রণা মাশরাফিরা বয়ে বেড়াচ্ছেন সেই কবে থেকে। হয়তো বয়ে বেড়াতে হবে আরও অনেক দিন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here