রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, উচ্চশিক্ষা যেন সার্টিফিকেট সর্বস্ব না হয় কিংবা শিক্ষা বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত না হয়। দেশ ও জাতির স্বার্থে তা সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এটা করতে না পারলে দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়বে এবং বিশ্ব প্রতিযোগিতায় আমরা পিছিয়ে পড়ব। যুগের চাহিদাকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান ও গবেষণা কার্যক্রম আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করতে হবে। শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দশম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্রাজুয়েটদের নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত রেখে জাতির প্রত্যাশা পূরণের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে মোহাম্মদ আবদুল হামিদ বলেন, ‘তোমাদের আজকের এ অবস্থানের জন্য তোমাদের পিতা-মাতা, শিক্ষক, সমাজ, দেশ ও জনগণের ব্যাপক অবদান রয়েছে। তোমরা সবার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে মেধা, প্রজ্ঞা ও কর্ম দিয়ে জাতির আশা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও বিবেক জাগ্রত রাখবে। অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথানত করবে না। মনে রাখবে- এই সমাবর্তন শিক্ষার সমাপ্তি ঘোষণা করছে না, বরং উচ্চতর শিক্ষার জ্ঞানভাণ্ডারে প্রবেশের দ্বার উন্মোচন করছে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির অমিত শক্তি যুবসমাজ। যুবসমাজের শক্তি ও সম্ভাবনাকে দেশ গঠনের কাজে লাগাতে হবে। উচ্চশিক্ষা যাতে সার্টিফিকেট সর্বস্ব না হয় কিংবা শিক্ষা যাতে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত না হয়, তা দেশ ও জাতির স্বার্থে সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। তোমরা সফল হও। আমি তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তৃতা উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান।

বিশেষ অতিথি বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবের। শহীদ ড. শামসুজ্জোহাসহ আরো অনেক শিক্ষকের রক্তের সাক্ষী এই বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চ ডিগ্রি অর্জন শেষে আপনারা এখন নতুন এক জায়গায় এসে পৌঁছেছেন। সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। আপনাদের এ পর্যায়ে আসার পিছনে দেশের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের প্রতি আপনাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের প্রত্যাশা পূরণে জনগণ ও দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’

সমাবর্তন বক্তা ইমিরেটাস অধ্যাপক আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষকদের পাঠদানে অবহেলা, যথাসময়ে ফল প্রকাশে অনীহা কিংবা পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ শোনা যায়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুধু উচ্চশিক্ষার মানের অবনতি হয়নি, পরীক্ষা পদ্ধতিও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। অবস্থা এমন যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একে অন্যের মূল্যায়নের উপর আস্থা রাখতে চায় না। এ থেকে উত্তরণে সব পক্ষকে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করে কাজ করার বিকল্প নেই।’

এর আগে দুপুর সাড়ে ৩টায় রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন করেন। এসময় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিকাল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি সমাবর্তন অনুষ্ঠানের শুরুর আগে দুটি আবাসিক হলের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গ্রাজুয়েট ও এমফিল-পিএইচডি গবেষকদের ডিগ্রি প্রদানের পর দুই প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও সেলিনা হোসেনকে বাংলা সাহিত্যে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি ডিলিট উপাধি প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ একেএম মোস্তাফিজুর রহমান আল আরিফ প্রমুখ। ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী। পরে সন্ধ্যায় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here