আঙুলের চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও একটি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে সাকিব আল হাসানের। ব্যাপারটি আসলে জানা যাবে মাস তিনেক পর। কিন্তু টাইগার টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক চিন্তা করছেন কিভাবে অস্ত্রোপচার ছাড়াই খেলা যায়। ব্যাপারটি মেলবোর্ন থেকে ফিরে রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি।

সাকিবের কনিষ্ঠ আঙুলের ইনফেকশন প্রায় ভালোর পথে। সবকিছু ঠিকমতোই এগুচ্ছে। নতুন কোনো জটিলতা দেখা না দিলে হয়তো মাস দুয়েকের মধ্যেই ব্যাট-বল হাতে মাঠে নেমে পড়তে পারবেন তিনি। এ ব্যাপারে রোববার তিনি বলেন, ‘এখন বেশ ভালো আছে। ইনফেকশনটাও নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তবে প্রতি সপ্তাহে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ইনফেকশনের অবস্থা জেনে নিতে হবে। ইনফেকশন বাড়লো কিনা বা নতুন কোনো সমস্যা দেখা দিলো কি-না। তবে এটুকু বলতে পারি এখনও পর্যন্ত ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণেই আছে। চিন্তার কিছু নেই। আঙুলের অবস্থা এখন খুবই ভালো। কোনো সমস্যা অনুভব করছি না। শুধু সময়ের ব্যাপার কতদিনে আমার আঙুলের শক্তি ফিরে আসে।’

অস্ট্রেলিয়া থাকাকালীল সাকিব জানিয়েছিলেন, অন্তত তিন মাসের মধ্যে আঙুলে কোনো অস্ত্রোপচার করানো যাবে না। সেটা আবার হতে পারে ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে। ইনফেকশন সেরে গেলে পরীক্ষামূলকভাবে মাঠে নামতে পারবেন। রোববার দেশে ফিরেও তিনি সংবাদমাধ্যমে জানালেন একই কথা, ‘আঙুলের অস্ত্রোপচার ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে করা যাবে না। কারণ ইনফেকশন যদি হাড়ের ভেতরে থেকে থাকে সেটা আসলে সারার সম্ভাবনা নেই। কারণ ওখানে রক্ত পৌঁছায় না। যেহেতু অ্যান্টিবায়োটিকরা রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়, যেখানে ব্লাড যায় না সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক কিভাবে কাজ করবে। তাই ইনফেকশনের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে কোনো অস্ত্রোপচার করা যাবে না। তবে ভালো ব্যাপার হচ্ছে অস্ত্রোপচার না করেও হয়তো খেলা সম্ভব হতে পারে। এখন যেহেতু সেটা করার সুযোগ নেই, তাই আমার বা ফিজিওর পরামর্শে বলেন চিন্তা করা হচ্ছে যে সার্জারি বাদে কিভাবে খেলা যায়।’

সাকিব আগেই ভক্তদের জানিয়েছিলেন আঙুল শতভাগ আর ঠিক হবে। রোববারও একই কথা বললেন তিনি। তবে একই সঙ্গে শোনালেন আশার বানীও, ‘আঙুলটা যে শতভাগ ঠিক হবে না সেটা তো সত্যি কথা। যত যাই করুক এটা কখনোই পুরোপুরি ঠিক হবে না। এরকম অনেকেরই আছে। তবে ঠিক না হলে যে খেলতে পারবে না এমনটাও নয়। এ ব্যাপারে আমি কবে জেনেছি সেটা বলা মুশকিল। আঙুলে অস্ত্রোপচার যে অপশনগুলো ছিল, সেগুলো করলেও যে পুরোপুরি ঠিক হবে না সেটা জেনেছিলাম মূলত।’

এরইমধ্যে পুর্নবাসনপ্রক্রিয়া শুরু করেছেন সাকিব। অস্ট্রেলিয়াতেই হ্যান্ড থেরাপিস্ট দিখিয়েছেন এ অলরাউন্ডার। এখন তার পরামর্শেই চলবেন এ বাঁহাতি, ‘আমি ইতোমধ্যে রিহ্যাব প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছি। অস্ট্রেলিয়া থাকতেই শুরু করেছি। ওখানে হ্যান্ড থেরাপিস্টকে দেখানো হয়েছে। উনি যেভাবে বলেছে সেভাবে ফলো করে করে কাজ করতে হবে। যত বেশি করা যাবে তত আমার জন্য ভালো। যত বেশি করে করে হাতের শক্তিটা আবার আনা সম্ভব সেটাই এখন মূল উদ্দেশ্য।’

এরআগে গত ৫ অক্টোবর চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গিয়েছিলেন সাকিব। সেখানে ৯দিন অবস্থান করে সুসংবাদ নিয়েই রোববার দুপুরে এ অলরাউন্ডার ফিরলেন ঢাকায়। তবে ঘরের মাঠে আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজে তাকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। এমন কি আগামী মাসে ঘরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও তাকে মিস করবেন মাশরাফি-মুশফিকরা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here