সুস্থ জীবন ধারণের জন্য স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট করা অবশ্যই প্রয়োজন। তাই অনেক বিশেষজ্ঞরা একে ‘কিং অব অল মিলস’ বলে থাকেন। এর মানে এই নয় যে সারাদিনের অন্যান্য খাবারের কোনও গুরুত্ব নেই। অনেকের ধারণা সূর্যাস্তের পর ভারী খাদ্যগ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি পাবে, তাই তারা ডিনার বাদ দিয়ে দেন। এইভাবে শুধু শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গেরই ক্ষতি হবে তা নয়, ওজনও বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ আপনি কখন খাচ্ছেন সেটাও আপনি কী খাচ্ছেন তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা রাতে হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। আয়ুর্বেদ অনুসারে, রাতে বেশ কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। উচ্চ গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স এবং প্যাকেটজাত খাবার, তৈলাক্ত, ফ্রোযেন, আইস ক্রিম ইত্যাদি খাবার রাতে না খাওয়াই উচিত। কিন্তু তবুও যদি আপনাকে খেতেই হয় তবে বুঝেশুনে খান। রাতে এই সব খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধি পায় এবং মেটাবলিজম কমে যায়। রাতে খাওয়ার উপযুক্ত আটটি খাবারের উল্লেখ করা হল-

১. স্বাস্থ্যকর কম কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণ করুন। কারণ কম কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাদ্য সহজপাচ্য হয়। রাতে ভারী খাবার খেলে ঘুমের সমস্যা হয় এবং পরের দিন শারীরিক সমস্যা দেখা যায়।

২. দইয়ের বদলে বাটারমিল্ক খান। আপনি যদি দই খেতে পছন্দ করেন আর সেটা যদি হয় রাত, তবে আমরা আপনাকে রাতে দই না খাওয়ারই পরামর্শ দেব। আয়ুর্বেদ অনুসারে, রাতে টক, মিষ্টি খাবার খেলে শরীরের মেদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে।

৩. ভারসাম্য রক্ষা করুন। খাদ্য গ্রহণের একটা পরিমাণ স্থির করুন। আয়ুর্বেদ অনুসারে হালকা খাবার খেলে রাতে ভাল ঘুম হয়।

৪. রাতে বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণ করুন। ডাল, শাকসবজি, কারী পাতা ইত্যাদি সন্ধ্যার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন। কার্বোহাইড্রেটের তুলনায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণ করুন। এর ফলে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৫. সন্ধ্যা ৭টার পর খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। হ্যাঁ, এই কাজটা খুবই কঠিন। বিশেষত যখন রাতে কোনও পার্টিতে যাওয়ার থাকে তখন তো আরও কঠিন হয়ে যায়।

৬. ডিনারে মশলা যোগ করুন। মশলার অনেক গুণাগুণ থাকে, যা আমাদের খাবারের সুগন্ধ বৃদ্ধি করে। আমাদের শরীরের পক্ষেও মশলা অত্যন্ত উপকারী। এর ফলে আমাদের ওজনও কমতে সাহায্য করে।

৭. চিনির বদলে মধু খান। খাবারে চিনি এড়িয়ে চলুন এবং তার বদলে মধু যোগ করুন। মধু যেমন খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করে তেমনই ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৮. কী খাচ্ছেন তার দিকে নজর দিন। আপনি যখন খাচ্ছেন, তখন শুধু খান। টিভি দেখা বা কথা বলা বন্ধ করে শুধু খান। আপনি যখন সজাগ থেকে খাবেন তখন আপনার খেয়াল থাকবে আপনি কতটা খাচ্ছেন। আপনি এর ফলে কম বা বেশি নয় সঠিক পরিমাণে খাবেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here