মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন পাকিস্তানের বহুল আলোচিত আসিয়া বিবি। তাকে এভাবে খালাস দেয়ায় এরই মধ্যে পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে নিরাপত্তা।

এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়ার এক পর্যায়ে তিনি মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.) কে অবমাননা করে কথা বলেন। এ জন্য ২০১০ সালে তিনি অভিযুক্ত হন। এরপর তাকে রাখা হয় জেলে। তবে তিনি নিজেকে সব সময়ই নির্দোষ দাবি করে আসছেন।

আসিয়া বিবি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের। তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আট বছরের বেশি রাখা হয় আটক করে। তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে তিনি মুক্ত হয়ে বেরিয়ে যেতে পারেন বলে রায় দেন আদালত। এমন ঘোষণার পর পরই ইসলামাবাদে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো সময় সেখানে সহিংসতা দেখা দিতে পারে।

রায় ঘোষণা করেন, প্রধান বিচারপতি সাকিব নিসারম। তিনি রায় পড়ে বলেন, লাহোরের কাছে শেইকুপুরায় বর্তমানে জেলে বন্দি আছেন আসিয়া বিবি। যদি তিনি অন্য কোনো মামলায় জড়িত না থাকেন তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসতে পারবেন। এ রায় দেয়ার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না আসিয়া বিবি।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের জুন মাসে একদল নারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় আসিয়া বিবির। তার পুরো নাম আসিয়া নরিন। তারা সবাই ফল তুলছিলেন। সে সময় এক বালতি পানি নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সেখানে উপস্থিত অন্য নারীরা বলেন, আসিয়া ওই বালতি থেকে এক কাপ পানি নিয়েছেন। সে জন্য তারা আর ওই পানি স্পর্শ করবেন না। আসিয়ার ধর্ম বিশ্বাসের কারণে ওই বালতির বাকি পানি অপবিত্র হয়ে পড়েছে। এ সময় ওই নারীরা বলেন, আসিয়া বিবির ধর্মান্তরিত হওয়া উচিত। এ পর্যায়ে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.) কে নিয়ে আপত্তিকর তিনটি মন্তব্য করেন আসিয়া বিবি। পরে তার বাড়িতে তাকে প্রহার করা হয়। বলা হয়, তিনি ধর্ম অবমাননা করেছেন। এ নিয়ে পুলিশ তদন্ত করে গ্রেপ্তার করে আসিয়াকে।

এ মামলায় বিচারকরা বলেছেন, বাদীপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে নি। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ মামলা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় নি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here