বোলিং, ফিল্ডিং দুটিই ছিল অসাধারণ। কিন্তু ব্যাটিং এতটাই বাজে হলো যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অল্প হারের লক্ষ্যে পেয়েও জিততে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। হতশ্রী ব্যাটিংয়ের ফলে ওয়ার্ল্ড টি-টুয়েন্টিতে নিজেদের সর্বনিম্ন রানের লজ্জাও পেতে হল তাদের।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও স্বাগতিকদের মাঠে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৮ উইকেটে ১০৬ রান সংগ্রহ করে ক্যারিবিয় নারী ক্রিকেট দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী ক্রিকেট দলকে হারানোর দারুণ এক সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু ১০৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ সবকটি উইকেট হারিয়ে করেছে মাত্র ৪৬ রান। নারীদের বিশ্বকাপে এটি বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রান।

পুরো ইনিংসে বাংলাদেশের কেউই পৌঁছাতে পারেননি দুই অঙ্কে। বাউন্ডারি এসেছে মাত্র তিনটি। একজন ব্যাটারকেও দেখা যায়নি স্বচ্ছন্দে খেলতে।

সালমা খাতুনের দলকে ধসিয়ে দিতে ধেন্দ্রা ডটিন মাত্র ৬ রানে নেন ৫ উইকেট। রান তাড়ায় বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ছিল না কোন বুদ্ধির ছাপ। ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে কোন রকম হোমওয়ার্ক ছাড়াই অপ্রস্তুত অবস্থায় খেলতে নেমেছেন তারা।

শাকেরা সেলমন, শামিরা কননেলদের, ডটিনদের অফ স্টাম্পের বাইরা করা বল লাইনে না গিয়ে ঘুরাতে চেয়েছেন সবাই। ব্যাটে বল না লাগায় একের পর এক ডট বাড়িয়েছে চাপ। সেই চাপে তালগোল পাকিয়ে পড়েছে একের পর এক উইকেট।

বোলিংয়ে ভাল করা জাহানারাকে পাঠানো হয়েছিল ওয়ানডাউনে।  কিন্তু দুর্বল টেকনিকে ১৮ বলে ৩ রান করে তিনি শুরুতে বাড়ান চাপ। ফরজানা হক পিংকি, রুমানা আহমেদ, নিগার সুলতানারা সেই চাপ সামলানোর মতো স্কিল দেখাতে পারেননি।

অথচ শুরুটা ঠিক উলটো করতে পেরেছিলেন পেসার জাহানারা আলম। শুরুতেই তিনি তুলে নেন দুই ওপেনারকে। শুরুতে উইকেট তুলে নিয়েছিলেন সালমা খাতুনও। তাতে ১৮ রানে ৩ ও ৩৬ রানে ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একপ্রান্তে এরকম উইকেট পতনের মাঝেই দলকে টেনেছেন উইন্ডিজ অধিনায়ক স্টেফানি টেইলর। শেষ দিকে নামা কেসিয়া নাইটের ৩২ আর টেইলরের ২৯ রান লড়াইয়ের পুঁজি পায় ক্যারিবিয়ানরা। সেই পুঁজিই যে কত বিশাল পরে বল হাতে বুঝিয়ে দেয় তারা।

বাংলাদেশের পরবর্তী তিন ম্যাচ ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ১৩, ১৫ ও ১৯ নভেম্বর ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here