ইরাকের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ ইরানের সঙ্গে ‘ভালো ও স্থিতিশীল’ সম্পর্ক সর্বোচ্চ মাত্রায় তার দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের সময় বাগদাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে বিবেচনায় নেয়ার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল (রোববার) কুয়েত সফরে গিয়ে দেশটির আমিরের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান সালিহ। ইরাকের প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইরান আমাদের প্রতিবেশী দেশ এবং সেদেশের সঙ্গে ভালো ও স্থিতিশীল সম্পর্কের ওপর আমাদের জাতীয় স্বার্থ নির্ভর করছে।”

গত ৫ নভেম্বর ইরানের ওপর আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা লঙ্ঘন করে কোনো দেশ তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে সেদেশকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরাকের প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকারান্তরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে তার দেশের অপারগতার কথাই ঘোষণা দিলেন।

ইরানের তেল ও গ্যাস বিক্রির ওপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা থেকে চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ককে বাদ রাখা হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এসব দেশ ইরানের কাছ থেকে আগের মতো জ্বালানী গ্রহণ করতে পারবে। গত বৃহস্পতিবার বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস এক ভিডিও প্রকাশ করে জানায়, ইরানের কাছ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ ক্রয় চালু রাখার বিষয়ে ইরাকে ৪৫ দিন ছাড় দেয়া হয়েছে।

তেলসমৃদ্ধ ইরাকের প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে যা দেশটি ইরানের মাধ্যমে পূরণ করে।

ইরাকি প্রেসিডেন্ট সালিহ কুয়েত সিটিতে সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে আটকা পড়তে চাই না।” তিনি তেহরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ ইরান ও ইরাকের মধ্যকার গভীর সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here