শ্রীলঙ্কার সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দেশটিতে আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি বন্ধের নির্দেশনা জারি করেছেন দেশটির আদালত। গত মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারকের একটি যৌথ বেঞ্চ এ নির্দেশ প্রদান করেন। খবর পার্সটুডে।

দেশটিতে আগাম নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পার্সটুডে জানায়, গত ২৬ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা নিজ ক্ষমতাবলে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করেন এবং একইসঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে সেই পদটিতে নিয়োগ দেন।

আর এরপর গেল সপ্তাহে সংসদ ভেঙে আগামী ৫ জানুয়ারি দেশটিতে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন শ্রীলঙ্কার এ প্রেসিডেন্ট। এরপরই প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশটির প্রধান তিন রাজনৈতিক দল সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে।

পার্সটুডের সেই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, শ্রীলঙ্কা সংবিধানের ১৯তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে ভোটাভুটি ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে কোনোভাবেই বরখাস্ত করতে পারবেন না প্রেসিডেন্ট। আর পার্লামেন্টে যদি এ বিষয়ে ভোট হয় তাহলে বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো যাবে না।

কারণ প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার দল ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স (ইউপিএফএ) এবং রাজাপাকসের দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির সবকয়টি আসনের মিলিয়ে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৫। অন্যদিকে বিক্রমাসিংহের দল ইউএনপির আসন হচ্ছে ১০৬টি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে দীর্ঘ সময় যাবত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট পদে থাকা রাজাপাকসেকে পরাজিত করে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সিরিসেনা। আর সে সময় সিরিসেনার জোটে ছিলেন বিক্রমাসিংহে।

তবে নানা সময়েই সিরিসেনা এবং বিক্রমাসিংহের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিতে থাকায় সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসের সঙ্গে হাত মেলান সিরিসেনা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here