উয়েফা নেশন্স লিগে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড। ঘরের মাঠে ক্রোয়েটদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে সেমি-ফাইনালে উঠেছে গ্যারেথ সাউথগেটের দল।

রবিবার লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধে ক্রোয়েশিয়ার ওপর একচেটিয়া আক্রমণ করে ইংল্যান্ড। তবে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক লোভরে কালিনিচের কাছে বার বার ব্যর্থ হয়েছে ইংলিশরা। উল্টো এক গোল খেয়ে বসে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে।

তবে শেষের দিকে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়ে গোল সমতায় ফিরে আরও এক গোল করে খেলা শেষ করে ২-১তে। ইংলিশদের হয়ে জয় সূচক গোলটি করেন হ্যারি কেন।

ওয়েম্বলিতে ফাইনালসে ওঠার লড়াইয়ের প্রথমার্ধ একাই সামাল দেন লভরেন কালিনিচ। রহিম স্টারলিং ও কেনকে সুবিধা করতে দেননি ক্রোয়েট গোলরক্ষক। ১২ মিনিটে কেনের লম্বা পাসে স্টারলিং ডান দিক দিয়ে আক্রমণে যান। লক্ষ্যে নেওয়া তার শট কালিনিচ ঠেকালে কর্নার পায় ইংল্যান্ড। কর্নার থেকে জন স্টোনসের হেড গোলপোস্টের খুব কাছে পেয়েও কেন বল ঠেলে দিতে পারেননি জালে।

চার মিনিট পর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও গোলমুখ খুলতে পারেনি ইংল্যান্ড। স্টারলিংকে এগিয়ে আসতে দেখে বক্সের প্রান্তে কাঁধ দিয়ে বল বিপদমুক্ত করেন কালিনিচ। কিন্তু বল পেয়ে ফাঁকা গোলপোস্টের দিকে শট নেন কেন। বল লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই দারুণ হেডে ব্লক করেন জেদভাজ। কেনের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা এরপর ঠেকিয়ে দেন কালিনিচ।

২৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বেন চিলওয়েলের শক্তিশালী শট রুখে দেন ক্রোয়েট গোলরক্ষক। বিরতির ৫ মিনিট আগে রস বার্কলের আড়াআড়ি শট গোলবারের পাশে লাগে।

এতগুলো সুযোগ নষ্ট করে হতাশা নিয়ে বিরতিতে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। তাদের হতাশা দ্বিগুণ হয় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। ৫৭ মিনিটে ডানদিক থেকে ভ্লাসিচ বল পাঠান ডিবক্সের মাঝে থাকা ক্রেমারিচকে। বেশ সময় নিয়ে ইংলিশ ডিফেন্ডারদের ভড়কে দিয়ে উঁচু শটে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে বিশ্বকাপ ফাইনালিস্টদের এগিয়ে দেন তিনি। পরের কয়েক মিনিট বেশ ক্ষুরধার আক্রমণে গেছে ক্রোয়েটরা। কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায় শেষ ১২ মিনিটে।

৭৮ মিনিটে জো গোমেজের লম্বা থ্রোয়ে এলোমেলো হয়ে পড়ে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্স। স্টোনসের হেড আবার বল পায়ে পান কেন, আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কালিনিচের পায়ের নিচ দিয়ে বল চলে যায় জেসি লিনগার্ডের কাছে। ফ্যাবিয়ান ডেলফের বদলি নামা এই ম্যানইউ তারকা পায়ের টোকায় লক্ষ্যভেদ করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান।

ক্রোয়েশিয়া তিন মিনিট পর এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ভিদার হেড গোললাইনে দাঁড়িয়ে ব্লক করেন লিনগার্ড, এরপর ব্রেকালোর ফিরতি শট রুখে দেন পিকফোর্ড।

প্রথমার্ধে গোলপোস্টের নিচে দারুণ পারফরম্যান্স করা কালিনিচ শেষ দিকে আরও একবার ব্যর্থ হন। ৮৫ মিনিটে জেদভাজের ফাউলের শিকার হয়ে চিলওয়েল ফ্রি কিক নেন। তার নিখুঁত শট ডিবক্সের মাঝে পেয়ে যান কেন, তারপর হালকা ছোঁয়ায় বল জালে ঠেলে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তাতেই বিজয়ের আনন্দে মাতে স্বাগতিকরা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here