উইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ক্যারিয়ারে অষ্টম শতক হাঁকিয়ে দেশসেরা ওপেনার তামিমকে ছুঁয়েছেন মুমিনুল হক। এছাড়া চলতি বছরেও অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। মুমিনুল অল্প দিনেই জায়গা করে নেন ক্রিকেটপ্রেমিদের মনে।

একমাত্র বিরাট কোহলি এবং তিনি ছাড়া আর কেউ টেস্ট ক্রিকেট চারটি শতক হাঁকাতে পারেননি। বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেটের এমন দুই ব্যাটসম্যানের রেকর্ড ছুঁয়ে তবু নির্লিপ্ত মুমিনুল।

মুমিনুল বাংলাদেশের টেস্ট স্পেশালিষ্টের খেতাবও পেয়ে যান দ্রুত। ২০১৩ সালে মুমিনুলের টেস্ট ক্যাপ পাওয়ার আগে তামিম ২৬ টেস্টে তুলে নেন চার টেস্ট সেঞ্চুরি। মুমিনুল আসার পর তামিমের সাফল্য খাতায় যোগ হয় আরও চারটি তিন অঙ্কের ইনিংস।

বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নেন মুমিনুল। তামিম যেখানে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি পেয়েছেন ৮৩তম ইনিংসে, সেখানে মুমিনুল পেলেন ২৪ ইনিংস কম খেলে ৫৯তম ইনিংসে। কম ইনিংস খেলে আট সেঞ্চুরি তুলে তামিমের থেকে এগিয়ে মুমিনুল। বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম অষ্টম সেঞ্চুরির রেকর্ড। কেমন লাগছে মুমিনুলের। জানতে চাওয়া হয়েছিল চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন শেষে।

মুমিনুলের সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘তামিম ভাইয়ের সাথে তুলনা করার প্রশ্নই আসে না। তিনি আমাদের দেশের, ক্রিকেট বিশ্বের অন্য লেভেলের ব্যাটসম্যান, আমার কাছে মনে হয় তুলনা করা ঠিক না।’

শুধু তামিম না, মুমিনুল আজ সেঞ্চুরি তুলে বিরাট কোহলির পাশে বসেছেন। চলতি বছর ঘরের মাটিতে চারটি টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন মুমিনুল।  ভারত অধিনায়ক বিরাট এ বছর এখন পর্যন্ত পেয়েছেন চার সেঞ্চুরি। বিরাটের চার সেঞ্চুরির তিনটি দেশের বাইরে। আর মুমিনুলের সবকটি দেশের মাটিতে। বিরাটের সঙ্গে তুলনা মুমিনুলের আরও অপছন্দ, ‘বিরাট কোহলি তো আরও উঁচুতে। এইসব নিয়ে আমি চিন্তা করি না।’

চলতি বছর ব্যাট হাতে দারুণ ফর্মে মুমিনুল। ১৩ ইনিংসে মুমিনুল রান করেছেন ৬৩২। রান সংগ্রহে সেরা পাঁচে কিংবা তিনে যাওয়ার দারুণ সুযোগ মুমিনুলের সামনে। বিরাট কোহলির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৯৫ রান করেছেন জো রুট। ইংল্যান্ডের অধিনায়কের পরে আছেন কুশল মেন্ডিস (৬৮৫), জস বাটলার (৬৮০), এইডেন মার্করাম (৬৬০) ও এবি ডি ভিলিয়ার্স (৬৩৮)। ২২ গজে মুমিনুল যেভাবে দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন তাতে সেরাদের কাতারে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র!

এগিয়ে যেতে চান মুমিনুলও, ‘বছর তো এখনও শেষ হয়নি। এখনও দ্বিতীয় ইনিংস বাকি আছে, দ্বিতীয় টেস্ট বাকি আছে। ওইভাবে চিন্তা না করে সবসময় চিন্তা করি একটু উন্নতি করার, দলের জন্য ভালো করার চেষ্টা করব।’ সাদা পোশাকে মুমিনুলের দ্যুতি ছড়ানো মানেই বাংলাদেশের সাফল্য। মুমিনুলের ব্যাট ভবিষ্যতে হাসলে হাসবে বাংলাদেশও।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here