ফেডারেশন কাপের রেকর্ড ১১তম ও ১৮ বছর পর আবারও হ্যাট্রিক শিরোপা ঘরে তুলেছে ঢাকা আবাহনী। রেকর্ড গড়ার ম্যাচে নবাগত বসুন্ধরা কিংসকে হারিয়েছে ৩-১ গোলের ব্যবধানে। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা উৎসব করেন ধানমন্ডির জায়ান্টরা।

তবে সব আলো কেড়ে নেয় ম্যাচের ৪ গোলর সঙ্গে ৪ লাল কার্ড। কারণ ইতিহাস গড়ার ম্যাচটা বুঝি এর চেয়ে বেশি উপভোগ্য ফুটবল হতে পারত না। জয়-পরাজয় ছাপিয়ে ম্যাচের সারাংশটা যে দুই দলের খেলোয়াড়দের মারামারি। যেখানে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলের চার ফুটবলারকে।

আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজানো ম্যাচে গোল-পাল্টা গোল চলছিল। প্রথমার্ধে ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেসের গোলে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসে আবাহনী। জোড়া গোল করা নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার সানডে চিজোবা আবাহনীকে সমতায় ফিরিয়েছেন আবার এগিয়েও দিয়েছেন। আর গোলের ব্যবধান ৩-১ করে জয়টা একেবারে হাতের নাগালে নিয়ে আসেন হাইতিয়ান স্ট্রাইকার কেভিন বেলফোর্ট। যদিও ম্যাচের শেষ দিকের চিত্রপটে শুধুই মারামারি। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আবাহনীর নাবীব নেওয়াজ ও মামুন মিয়া এবং বসুন্ধরার সুশান্ত ত্রিপুরা ও তৌহিদুল আলম সবুজ।

শেষের মারামারির দৃশ্যটা বাদ দিলে সুন্দর ফুটবলের বিজ্ঞাপনই ফুটে উঠেছিল ফেডারেশন কাপের ফাইনালে। প্রায় ১০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে উভয় দলই খেলেছে অপূর্ব ফুটবল। প্রথমার্ধটা যদি হয় বসুন্ধরার, দ্বিতীয়ার্ধটা তাহলে আবাহনীর।

প্রতি ম্যাচেই ভিন্ন একাদশ ও ফরমেশনে পরিবর্তন এনে চমক দেখিয়েছেন বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোন। আজ যেমন কলিন্দ্রেসকে নাম্বার নাইনে রেখে ৩-১-৫-১ ফরমেশনে শুরু করেছিলেন। কখনো খেলা তৈরি আবার কখনো দ্রুতলয়ে খেলা বসুন্ধরার সামনে অনেকটা ছন্নছাড়ার মতো অবস্থা হয় আবাহনীর। ২০ মিনিটে কলিন্দ্রেসের গোলে এগিয়েও যায় তাঁরা। বাম প্রান্ত থেকে আলমগীর রানার ক্রস গোলরক্ষক শহিদুল সোহেল ‘ফিস্ট’ করলে বক্সের মধ্যে কলিন্দ্রেসের পায়ে পড়ে। এ যেন ‘পড়বি তো পর মালির ঘাড়ে’! বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দেখে শুনে সময় নিয়ে প্লেসিংয়ে গোল করেন কোস্টারিকান এই স্ট্রাইকার। ছয় মিনিট পরই সমতায় ফিরতে পারত আবাহনী। ওয়ালি ফয়সালের ফ্রি কিক থেকে বেলফোর্টের নেওয়া হেড অবিশ্বাস্য ভাবে সেভ করেছেন বসুন্ধরা গোলরক্ষক জিকো।

দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময়ই আবাহনীর। সানডে ছাড়াও যার পরতে পরতে লেখা থাকবে মিডফিল্ডার সোহেল রানার নাম। তাঁর পা থেকে কোনো গোল আসেনি, কিন্তু গোল করিয়েছেন আর বাঁ পায়ে শাসন করেছেন মাঝমাঠ। ম্যাচ সেরার পুরস্কারটাও উঠেছে তাঁর হাতে। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনীর শুরুটা ছিল ক্রসবার দুর্ভাগ্য দিয়ে। নাসিরউদ্দিন চৌধুরীকে সাইড স্টেপে ঘোল খাইয়ে সানডে বাঁ পায়ে শট নিলে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তখন মনে হচ্ছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সন্ধ্যাটা বুঝি আবাহনীর নয়।

কিন্তু ভুল ভাঙতে সময় লেগেছে মাত্র পাঁচ মিনিট। ৫০ মিনিটে রায়হানের লম্বা থ্রো ইন থেকে দূরের পোস্টে টোকা দিয়ে জালে জড়িয়েছেন সানডে( ১-০)। ৭০ মিনিটে আবাহনীর দ্বিতীয় গোলটি এসেছে সানডের পা থেকে। কিন্তু যাঁরা খেলা দেখেছেন, তাঁরা জানেন গোলের অর্ধেক কৃতিত্ব তো সোহেলের! মাঝমাঠ থেকে একাই মুভ করে অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে বক্সের বাঁ প্রান্তে পাস দিয়ে সানডেকে খুলে দিয়েছেন গোলমুখ। সানডে দক্ষ স্ট্রাইকারের মতো দূরের পোস্ট দিয়ে বল জড়িয়ে দিয়েছেন জালে। এ নিয়ে মোট ছয় গোল করে টুর্নামেন্টের শীর্ষ গোলদাতা সানডে। টুর্নামেন্ট সেরাও নাইজেরিয়ান এই স্ট্রাইকার। কিন্তু শেষের দিকে মাঠ থেকে সরাসরি হাসপাতালে যাওয়ায় নিজ হাতে পুরস্কার গ্রহণ করা হয়নি তাঁর।

২-১ গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পরেও ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল বসুন্ধরার। হাইতিয়ান বেলফোর্ট তো ফুঁসছিলেন ক্ষোভে! দল বদলের শেষ মুহূর্তে এসে বেলফোর্টকে দল থেকে ছেঁটে ফেলে বসুন্ধরা। সেই সুযোগে হাইতিয়ান এই স্ট্রাইকারকে দলে টানে আবাহনী। আজ তো তাঁর প্রতিশোধ ও আবাহনীকে প্রতিদান দেওয়ার দিন ছিল। ব্যস, ৮২ মিনিটে ওয়ালি ফয়সালের কর্নার থেকে মাথা ছুঁইয়ে ৩-০ করেছেন কোপা আমেরিকা খেলা এই তারকা।

১-৩ গোলে ম্যাচ শেষ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। ৮৮ মিনিটে নাসিরউদ্দিনের ফাউলে মাঠ থেকেই হাসপাতালে যেতে হয় সানডেকে। শেষের দিকে নাবীব নেওয়াজ জীবনকে করা সুশান্তর একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মাঠের পরিস্থিতি। অনেক দূর থেকে দৌড়ে এসে সুশান্তকে ফ্লাইং কিক করেন আবাহনীর ডিফেন্ডার মামুন মিয়া। পরে মামুন মিয়ার ওপর চড়াও হন তৌহিদুল আলম সবুজ। পরে এই চারজনকেই দেখানো হয় লাল কার্ড।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here