জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমি ও অন্যান্য সম্পদ হ্রাসের কারণে বিশ্বে খাদ্যের ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বে ক্রমবর্ধমান ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করা দিনদিনই কঠিন হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘জিরো হাঙ্গার’ বা ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যপূরণের জন্য বুধবার সংস্থাটি আরও সুষম নীতি ও প্রযুক্তির জন্য নতুন আবেদন করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে আরও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করা প্রয়োজন। কিন্তু কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ কমে যাচ্ছে। পৃথিবী ভূমি, পানি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর বহনযোগ্য ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।

জাতিসংঘের খাদ্যসংস্থা (এফএও) এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা সংস্থা জিরো হাঙ্গার বা ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রচেষ্টা দ্রুততর করার লক্ষে একটি গ্লোবাল সম্মেলনের শুরুতে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে প্রায় ৮২০ মিলিয়ন মানুষ অপুষ্টিতে রয়েছে। সাশ্রয়ী দামে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার না পাওয়ায় কয়েক লাখ মানুষ জরাজীর্ণ ও দুর্বল হয়ে পড়ছে, এর পেছনে সাধারণ কারণ হচ্ছে দারিদ্র্য।

এছাড়াও গৃহযুদ্ধ ও অন্যান্য সংঘর্ষের কারণে মানুষের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হচ্ছে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক মারা গেছে। সেভ দ্য চিলড্রেনস বলেছে, গৃহযুদ্ধে ক্ষুধা বা রোগের কারণে ৫ বছরের কম বয়সী অন্তত ৮৫ হাজার শিশু মারা গেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর তথ্যমতে, আফগানিস্তানে প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ ও সংঘর্ষের কারণে আড়াই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবছর চীন ১২ মিলিয়ন টন দাগযুক্ত বা সংক্রমিত খাদ্যশস্য ধ্বংস করে, যার ফলে প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়।

এফএও মহাপরিচালক হোসে গ্রাজিয়ানো ডিল সিলভা উল্লেখ করেন, এক দশক আগের তুলনায় এখন বিশ্বের ক্ষুধার্ত ও অপুষ্টির সংখ্যা কয়েকগুন বেড়েছে।

আফ্রিকায় ক্ষুধার্ত এখনও সবচেয়ে মারাত্মক। তবে এশিয়ার, বিশেষ করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে অপুষ্টিজনিত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়তে একটি ভাল নীতি এবং প্রযুক্তি পরিস্থিতির উন্নত করার আহ্বান জানানো হয় প্রতিবেদনে

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here