বাবা শহিদুল ইসলাম চাকুরি করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ( বিসিবি) গেম ডেভেলপম্যান্ট কমিটিতে। ২০০০ সালে গেম ডেভেলপম্যান্ট কমিটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে কঠিন দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

ক্রিকেট বোর্ডে ক্ষুদে ক্রিকেটারদের নিয়ে বাবা’র দৌড়-ঝাপ,একটার পর একটা বয়সভিত্তিক দল নিয়ে ব্যস্ততা সাদমান অনীককে দেখিয়েছে স্বপ্ন। অনূর্ধ্ব-১৩ থেকে শুরু করে বয়স ভিত্তিক সকল দলে খেলে নিজেকে ধীরে ধীরে পরিণত করেছেন।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ার্ল্ড কাপে বাংলাদেশ দলের সেরা পারফরমার সাদমান অনীক ছোটদের সেরা মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪১৬ রানের রেকর্ডও করেছেন। অথচ, বাবা’র পরিচয়টাই দিয়েছে ছেলে অনীককে পিছিয়ে।

এক সময়ের টিমমেট সৌম্য,তাইজুল,মোসাদ্দেক,মোস্তাফিজুর, লিটন দাস,মিরাজদের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের খেলা দেখেই তৃপ্ত থাকতে হয়েছে সাদমান অনীককে।

প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে করছেন রান। অথচ, এই ধারাবাহিকতার পুরস্কার পেতে করতে হয়েছে সাদমানকে লম্বা সময় অপেক্ষা। সর্বশেষ জাতীয় লিগে ঢাকা মেট্রোর হয়ে ৬ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরি,৩ ফিফটিতে ৬৪৮ রানে আসরের সর্বোচ্চ রান করেছেন। ঢাকা বিভাগ এবং সিলেট বিভাগের বিপক্ষে সেঞ্চুরি ২টিও বড়-১৮৯ রান এবং ১৫৭ রান। এ বছর প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে ১৪ ম্যাচে ৪ সেঞ্চুরি,৬ ফিফটিতে ৫৬.০৪ গড়ে  ১১৭১ রানেও  থেকেছেন উপেক্ষিত।

অধিনায়ক সাকিব আল হাসান টস জিতে ব্যাটিং নিলে ম্যাচের প্রথম বলটা মোকাবেলা করতে হয় ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে।

প্রথম দেখলে কেউ হয়তো ভাবতে পারবে না যে আজই অভিষেক হয়েছে সাদমানের। যাকে বলে একেবারে ‘সলিড ব্যাটিং স্টান্স’, দারুণ ডিফেন্স, ফ্রন্ট ফুট-ব্যাক ফুটের ব্যবহার সবই ছিল দেখার মতো। পুরো টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করে তুলে ১৯৯ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন এই বামহাতি ব্যাটসম্যান। দিন শেষে ৫ উইকেটে ২৫৯ রান নিয়ে দলও রয়েছে ভালো অবস্থায়। প্রথমদিনের সেরা খেলোয়াড়ও তিনি। তাই দলের প্রতিনিধি হয়ে যে সংবাদ সম্মেলনে দেখা যাবে তা অনুমেয় ছিল।

ব্যাটিংয়ে নার্ভাস না দেখা গেলেও ক্যারিয়ারের প্রথম জাতীয় দলের হয়ে সংবাদ সম্মেলনেও ঠিকই নার্ভাস ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন পরিবেশ, সংবাদ সম্মেলন, একটু তো নার্ভাস থাকবোই। কিন্তু ঠিক আছে। কথা তো বলতেই হবে।’

ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে পা রাখার সবচেয়ে বড় অবদান তারা বাবার উল্লেখ করে সাদমান বলেন, ‘বাবার হাত ধরেই ক্রিকেটের জন্য তৈরি হয়েছি। আব্বু সব সময় ক্রিকেটে সহযোগিতা করেছেন। আমি সব সময় ক্যাম্পে যেতাম। অনূর্ধ্ব ১৫-১৭ ক্যাম্পে আমাকে নিয়ে যেতেন। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম। তখন থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল খেলোয়াড় হবো। কিভাবে খেলতে হয়, কিভাবে লাইফ সেট করতে হয় ক্রিকেটারদের, ওগুলো এখনও আমাকে বাবা বলে।’

সাদমান যে বাংলাদেশ দলে থিতু হতে এসেছেন তা বোঝা গেল তার কথাতেই। অভিষেক ম্যাচে ৭৬ রান করেও সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরির চাওয়া তো সবারই থাকে। ওরকম কোনও হতাশা নেই। দলের জন্য যতটুকু দেওয়ার দরকার ছিল, আমি সেরকম ব্যাটিং করতে চেষ্টা করেছি। হয়তো পুরোটা পারিনি।’

ব্যাটিংয়ের সময় সাকিব-সৌম্যকে সঙ্গে পেয়েছিলেন সাদমান। পরিণতদের কাছ থেকে ক্রিজে ব্যাটিং অভিজ্ঞতা জানাতে তিনি বলেন, ‘উনারা তো আমার থেকে অনেক অভিজ্ঞ। আমাকে সব সময় বলেছেন, তুমি যেভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটিং করো, তুমি সে রকম ভাবেই খেলো’।

প্রথম দিন শেষে দল ভালো অবস্থায় আছে বলে মনে করেন দেশের ৯৪তম এই টেস্ট খেলুড়ে। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অবস্থা আজকে অনেক ভালো। আগামীকাল আমাদের পুরো দিন বাকি আছে। চেষ্টা করবো আমাদের দলের যে পরিকল্পনা, সে অনুযায়ী খেলতে। আশা করি কাল আল্লাহ আরও ভালো কিছু করে দেবেন।’

ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সাকিব-মাহমুদুল্লাহ জুটি বাংলাদেশকে কতদূর নিতে পারে তা হয়তো আগামীকালের জন্যই তোলা থাক। তবে ব্যাটসম্যান সাদমান নিজেকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন, সেটাই দেখার বিষয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here