আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২৮১ জন প্রার্থী ২৬৪ আসনে এবং বিএনপির ৬৯৬ জন প্রার্থী ২৯৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

তিনি জানান, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সবগুলো প্রার্থী দিয়েছে।

হেলালুদ্দীনের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য এইচএম এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির ২৩৩ জন প্রার্থী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৯৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

ইসি সচিব বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন বুধবারের মধ্যে মোট তিন হাজার ৬৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

রাজনৈতিক দলের পক্ষে ছাড়াও ৪৯৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী দেশের বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র জামা দিয়েছেন।

মোট ৩০০ আসনের মধ্যে যে পাঁচটিতে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি সেগুলো হলো- টাঙ্গাইল-৮, মৌলভীবাজার-২, কুমিল্লা-৭, লক্ষ্মীপুর-৪ ও চট্টগ্রাম-১৪।

আওয়ামী লীগ ৩৬টি আসনে প্রার্থী দেয়নি। আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-৩, নীলফামারী-৩ ও ৪, লালমনিরহাট-৩, রংপুর-১ ও ৩, কুড়িগ্রাম-২, গাইবান্ধা-১, বগুড়া-২, ৩, ৪, ৬ ও ৭, রাজশাহী-২, কুষ্টিয়া-২, বরিশাল-৩ ও ৬, পিরোজপুর-২ ও ৩, ময়মনসিংহ- ৪ ও ৮, কিশোরগঞ্জ-৩, মুন্সিগঞ্জ-১, ঢাকা-৪, ৬ ও ৮, নারায়ণগঞ্জ-৫, সুনামগঞ্জ-৪, সিলেট-২, মৌলভীবাজার-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ফেনী-১ ও ৩, লক্ষ্মীপুর-২ এবং চট্টগ্রাম-২ ও ৫।

এইচএম এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ৯০টি আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাদে বাকি ৩৫টি রাজনৈতিক দল থেকে এক হাজার ৫৮ জন প্রার্থী দেশের বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র জামা দিয়েছেন।

বিএনপি বেশিরভাগ আসনে এবং আওয়ামী লীগ ১৭টি ও জাতীয় পার্টি ২৩টি আসনে একাধিক প্রার্থী দিয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগে এসব আসনে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবে দলগুলো।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ২৮১ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির (ধানের শীষ) ৬৯৬ জন, জাতীয় পার্টি-জাপার (লাঙ্গল) ২৩৩ জন, জাতীয় পার্টি-জেপির (বাইসাইকেল) ১৭ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির (কাস্তে) ৭৭ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের (মই) ৪৯ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের (মশাল) ৫৩ জন, গণফোরামের (উদীয়মান সূর্য) ৬১ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের (কুলা) ৩৭ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (তারা) ৫১ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) ২৯৯ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (বটগাছ) ২৬ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের (গামছা) ৩৭ জন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপির (ছাতা) ১৫ জন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (চাকা) ৩ জন, গণতন্ত্রী পার্টির (কবুতর) ৮ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (কুঁড়ে ঘর) ১৪ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির (হাতুড়ি) ৩৩ জন, জাকের পার্টির (গোলাপ ফুল) ১০৮ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির (গরুর গাড়ি) ১১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের (ফুলের মালা) ২০ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (হারিকেন) ৪৯ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (আম) ৯০ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের (খেজুর গাছ) ১৫ জন, গণফ্রন্টের (মাছ) ১৬ জন, বাংলাদেশ ন্যাপের (গাভী) ৪ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (কাঁঠাল) ১৩ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের (চেয়ার) ২৮ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির (হাতঘড়ি) ৫ জন, ইসলামী ঐক্যজোটের (মিনার) ৩২ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের (রিকশা) ১২ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের (মোমবাতি) ২১ জন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার (হুক্কা) ৬ জন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির (কোদাল) ৩০ জন, খেলাফত মজলিশ( দেয়ালঘড়ি) ১২ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএলের (হাতপাঞ্জা) ১৭ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (ছড়ি) ১ জন ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের (টেলিভিশন) ৭১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, জমা হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে ২ ডিসেম্বর এবং প্রার্থীদের তা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here