আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপরাধ দমনে গঠিত ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির বিচারকদেরকে সব প্রার্থীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গসহ নানা অপরাধের প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ আসা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশনে। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত কমিটি নীরব রয়েছে। তদন্ত কমিটির বিচারকদের নির্বাচনি মাঠে সম্পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। যে কোনও প্রার্থীর অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বুধবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচনি তদন্ত কমিটির বিচারকদের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সিইসি বলেন, যিনি আপনাদের কথা শুনবেন না, প্যানেল কোডের ১৯৩ ধারা মতে তাদের ৭ বছরের জেল হবে। যদি মিথ্যা তথ্য দেয় এবং আপনাদের আদেশ না মানে, প্যানেল কোডের ২২৮ ধারা অনুসারে তাদের বিচার হবে। তার মানে হলো ‘কোড অব সিভিল প্রসিডিউর ১৯০৮’ এর সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে আপনারা মাঠে অবস্থান করবেন।

তিনি বলেন, আপনাদেরকে ভিজিবল (দৃশ্যমান) হতে হবে। তার মানে আপনারা এখন পর্যন্ত কিন্তু ভিজিবল হননি। বাস্তবতা হলো সেটা। ভিজিবল যখন হবেন, আপনাদের কাজের মাধ্যমে যখন আস্থা রাখবে, আপনাদেরকে যখন চিনবে, তখন থেকে আপনাদের ওপরে দায়িত্ব আসবে। তখন আর আমাদের ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে শত শত অভিযোগ আসবে না। আমরা প্রত্যেকদিন শত শত অভিযোগ পাই। কিন্তু অভিযোগগুলো আমাদের কাছে আসার কথা না। কারণ, আপনারা সেখানে (মাঠ পর্যায়ে) রয়েছেন। আমরা কী করবো? অভিযোগগুলো আপনাদের কাছে পাঠিয়ে দেবো। প্রয়োজন ছিল অভিযোগগুলো সরাসরি আপনাদের কাছে যাবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ২৫ নভেম্বর যখন এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল, আমরা আশা করেছিলাম যে, প্রত্যেকটি কমিটি অন্তত ১২২টি অভিযোগ তদন্ত করবে। এটা আমাদের প্রত্যাশা ছিল। ১০০টা তদন্ত করার প্রত্যাশা ছিল, ১০০টা বাদ দিলাম, ২২টি তদন্ত করার প্রত্যাশা ছিল। তাও হয়নি। কারণ, সেটাই, এপর্যন্ত আপনারা প্রস্তুতি নিয়ে গুছিয়ে উঠতে পারেননি।

নুরুল হুদা বলেন, আপনারা আপনাদের করণীয় যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে মানুষের অভিযোগ শুনবেন; আমলে নেবেন। যেনো অভিযোগ ঢাকা পর্যন্ত না আসে, এলাকায় বসে সমাধান পেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ছিল গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) পরিবর্তন করে আপনাদের মানুষের কাছে একেবারে প্রতিটা মানুষের, প্রতিটা সমস্যার কাছাকাছি থেকে যেনো তারা সমাধান পায়- সেই ব্যবস্থা করা। তারা যেনো তাদের সমস্যা নিয়ে এখানে-ওখানে ছুটাছুটি না করে আপনাদের সামনে পেয়ে আপনাদের কাছে অভিযোগগুলো পেশ করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আপনাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, সে দায়িত্ব পালনে আপনাদের প্রো অ্যাকটিভ হতে হবে। মানুষকে জানাতে হবে আপনারা আছেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here