নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে অগ্নি সন্ত্রাস কিংবা দুর্নীতির ধারাবাহিকতা ফেরত আনবে না বলে বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, বিদেশি সাহায্য ছাড়াই দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করছে। তাই এ কাজ ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (০৭ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ৯টায় গণভবনে অবরসরপ্রাপ্ত ৩০৭ সরকারি কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানিয়েছেন। ১৯৭৩ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যাচের অবসর নেওয়া ৩শ’ ৭ জন কর্মকর্তা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার কাণ্ডারি হিসেবে সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় স্বাগত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ১০ বছর শাসনামলে দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। আহ্বান জানান, যে ধারা শুরু হয়েছে তা যেন বন্ধ না হয়।

এ সময় বিএনপি জামাত জোট শাসনামলে প্রশাসনে রদ বদলের চিত্র তুলে ধরে সে সময়ের সরকারের প্রতিহিংসার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনী ইশতেহার বিষয়ে শেখ হাসিনা জানান, অর্থনীতিক পরিকল্পনায় তৃণমূলের উন্নয়ন প্রধান্য পাবে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারে।

স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যাতে প্রভাব ফেলতে না পারে তা ভোটে প্রমাণের আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা চাই না খুনিদের দল, যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় আসুক। এরা ক্ষমতায় আসলে যে উন্নয়ন এতো দিন হয়েছে এবং চলমান আছে, তার গতি থামিয়ে দেবে।’

এসময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। দুই মাস পর পর যেমন ঋতু পরিবর্তন হয়, তেমনি মানুষের মনেরও পরিবর্তন দেখা দেয়। মানুষ দুঃখের দিনের কথা ভুলে যায়। তাই আমরা চাই, আমরা যে উন্নয়ন করেছি এর ধারাবাহিকতা ও অগ্রগতি অব্যাহত থাকুক।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ অনেক সময় ভুলে যায়। আমরা যে উন্নয়ন করেছি। আমাদের সরকারের সময়। সেটা বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে মানুষকে।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৪২ জন সাবেক মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব, বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, রাষ্ট্রদূত, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব।

তাদের মধ্যে রয়েছেন- দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এ আর খান, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সাবেক মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক মাসুদ আহমেদ ও মো. আবুল কাশেম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মেসবাহ উদ্দিন, মো. মেসবাহ-উল আলম ও ইউনুসুর রহমান এবং সাবেক প্রধান তথ্য অফিসার এ কে এম শামীম চৌধুরী।

সাবেক সচিবদের মধ্যে আবু তাহের, হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার, মাহবুব-উল আলম খান, শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার, আবদুল মালেক মিয়া, দেওয়ান জাকির হোসেন, সুনিল কান্তি বোস, সৈয়দ আলী কবির, শেখ খুরশিদ আলম, আতাহারুল ইসলাম, সমর চন্দ্র পাল, নূরুল হক, আবদুল মান্নান হাওলাদার, এ টি কে এম ইসমাইল, শফিকুল আজম, কামরুন্নেছা খানম, মো. মিজানুর রহমান, খন্দকার আসাদুজ্জামান, মো. কাজী আখতার হোসেন, আরাস্তু খান, এম এ কাদের সরকার, ড. চৌধুরী মো. বাবুল হাসান, এ এইচ এম মাসুদ সিদ্দিকী, মো. আজিজুর রহমান, শফিক আলম মেহেদী, কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ, এ এল এম আবদুর রহমান, হুমায়ুন খালিদ, আনোয়ার ফারুক, শাহিন খান, মুনসুর আলী সিকদার, জহুরুল আলম, রীতি ইব্রাহিম, নজরুল ইসলাম খান, ড. খন্দকার শওকত হোসেন, মিকাইল শিপার, খোরশেদ আলম চৌধুরী, এম এ হান্নান, এ কে এম আমির হোসেন, নূরুন্নবী তালুকদার, ফখরুল ইসলাম, গোলাম রাব্বানী, সিরাজুল ইসলাম, শ্যামল কান্তি ঘোষ, এ এম বদরুদ্দোজা, শিরীন আখতার, খন্দকার ইফতেখার হায়দার, কায়কোবাদ হোসেন, আবু মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, নাজমুল ইসলাম, মমতাজ আলা শাকুর আহমেদ, নাজিম উদ্দিন, অশোক মাধব রায়, ড. প্রসান্ত কুমার রায় ও শামসুল হক, এডিবি’র সাবেক কর্মকর্তা পারভেজ ইমদাদ এবং সরকারি কর্মকমিশনের সাবেক সদস্য, কাজী নাসিরুল ইসলাম, মো. ওয়াজেদ আলী খান ও জহুরুল আলম সংহতি প্রকাশ করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে সাবেক রাষ্ট্রদূত এ টি এম নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, মো. আজিজুল হক, গোলাম মোহাম্মদ, মো. আবদুল হান্নান, আতিকুর রহমান, ইখতিয়ার চৌধুরী, ওয়াহিদুর রহমান ও আবদুস সাত্তার সংহতি প্রকাশ করেন।

 

পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজি আবদুল মান্নান, মো. শামসুদ্দোহা খন্দকার, অমূল্য ভূষণ বড়–য়া ও আবদুল মান্নান, সাবেক ডিআইজি মোস্তাক হোসেন, এ এইচ এম ফিরোজ কবির, গোলাম মোস্তফা, শাহ আলম শিকদার, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, আবদুল জলিল মন্ডল ও শফিকুর রহমান সংহতি প্রকাশ করেন।

পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রকৌশল, বন, ডাক, পুলিশ, ট্যাক্স, তথ্য, টেলিকম, কাস্টমস ও এক্সাইজ, অডিট ও একাউন্টস, রেলওয়ে, খাদ্য ও কৃষি ক্যাডারের ১৬৫ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও সংহতি প্রকাশ করেন।

সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here