টেস্ট সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশের কাছে। ওয়ানডে সিরিজে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরছে বাংলাদেশ, অনেক দিন বাদে ওপেন করতে নামবেন তামিম ইকবাল। তবে ওয়ানডে সিরিজের আগে কাউকেই এগিয়ে রাখলেন না মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুই দলেরই সমান সমান সুযোগ আছে মনে করছেন।

মাস চারেক আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতে এসেছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে এমনিতেই এগিয়ে থাকার কথা। প্রস্তুতি ম্যাচে তামিম-সৌম্যর ব্যাটিংও আরও বেশি আত্মবিশ্বাস দেবে বাংলাদেশকে। তবে মাশরাফি মনে করছেন, ওয়ানডেতে কাজটা সহজ হবে না, ‘আমি বলবো সমান সুযোগ। কারণ যেটা বললাম যে, ওদের দলে, দুর্দান্ত একজন ফাস্ট বোলার আছে যে জোরে বোলিং করবে। যেটা হয় যে, জোরে বোলারদের অনেক সময় হুটহাট করে উইকেট পড়ে গেলে শুরুতে চাপ আসলো, তাই এই জায়গাগুলো চিন্তা করার ব্যাপার আছে।’

তবে বাংলাদেশের চেয়ে কিছু জায়গায় উইন্ডিজরা এগিয়ে বলে মন্তব্য করেন মাশরাফি, ‘ওরা কিছু আমাদের থেকে অনেক বেশি সাহায্য পাবে, ওদের মাসল পাওয়ার যেটা আছে। যেটা এই ধরনের ফরম্যাটে খুব বেশি কাজ করে। বিশেষ করে ৪০ ওভার পর্যন্ত যে ফিল্ডিং বাধ্যবাধকতা আছে। তাই ওরা যেন জুটি বড় করতে না পারে সেদিকটাও আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে। এমনি এমনি তো জেতা সম্ভব না। অবশ্যই হোম ওয়ার্ক, একইসঙ্গে মাঠে বাস্তবায়নটা শতভাগ ঠিক থাকতে হবে। অন্তত ৮০ ভাগ ঠিক থাকলে হয়তো বা ভালো ম্যাচ হবে। আমি আশা করছি না যে টেস্টের মতো বা আগে পরে যেসব ম্যাচ জিতে আসছি এত সহজ হবে।’

ওয়ানডেতে এখনই সিরিজ জয়ের চিন্তা করছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। বরং এগুতে চান একটা একটা ম্যাচ ধরে, ‘এখনও ওয়ানডে একটাও শুরু হয় নি, হোয়াইটওয়াশ তো মাথায় আসার সুযোগ নাই। তবে প্রথম ম্যাচটা ইমপরটেন্ট (গুরুত্বপূর্ণ), দেখা যাক কাল কেমন হয়। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসলে, মাসল পাওয়ার তাদের অনেক বেশি। এই ধরনের ফরম্যাটে একজন দুইজন কিন্তু গেইম চেইঞ্জ করে, রিসেল্টলি। এই জায়গাটায় ওদের কয়েকজন আছে এমন, ডিস্ট্রয় করতে পারে। আমাদের ওদের বিপক্ষে এই পার্টটা খেয়াল রাখা ইম্পরটেন্ট। তবে আসলে তিনটা ম্যাচের কথা তো এখনই বলা যায় না। ওদের জন্য ফরম্যাট যত ছোট হবে তত বেশি সুট করবে। আমার কাছে মনে হয় প্রথম ম্যাচের দিকেই ফোকাস থাকাই বেটার।’

তামিম-সাকিবের থাকাটাও বড় একটা স্বস্তি হিসেবে মানছেন মাশরাফি, ‘সাকিব-তামিম দলে থাকা আমাদের জন্য বিরাট অ্যাডভান্টেজ। প্রস্তুতি ম্যাচেও তামিম দারুণ খেলেছে, এটা তামিমের জন্যও স্বস্তি, আমাদের জন্যও স্বস্তি। আমি একইসঙ্গে বলব যে, ইনজুরি থেকে আসা এবং এসে পারফর্ম করা কিন্তু সময়ের ব্যাপার। তামিমের আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছে বলে প্রত্যাশা করতে পারেন না যে পরের ম্যাচে নেমেও এক্সট্রা অর্ডিনারি ইনিংস খেলবে। আবার এর থেকে বেটারও খেলতে পারে, খারাপও হতে পারে। চোট থেকে ফিরলে কিন্তু বেশ কিছু দিন লাগে মানিয়ে নিতে। দুইমাস থেকে আড়াইমাস পর্যন্ত বাইরে ছিল। সো এটা গুরুত্বপূর্ণ। সাকিব হয়ত টেস্টে কিছু…দুইটা টেস্ট ম্যাচ খেলে কিছুটা মানিয়ে নিয়েছে। তামিমের হয়ত কিছুটা সময় লাগতে পারে। কিন্তু ওরা দুইজন থাকা আমাদের জন্য, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য স্বস্তিদায়ক ব্যাপার।’

প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ২০০তম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামছেন মাশরাফি। মাইলফলক নিয়ে রোমাঞ্চিত হলেও এ নিয়ে আলাদা কোন পরিকল্পনা নেই অধিনায়কের। এমনকি এটাকে আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণও ভাবছেন না। স্রেফ আট দশটা ম্যাচের মতোই এ ম্যাচেও জয়ের লক্ষ্যেই নামবেন তিনি। এমনকি বিষয়টি ভুলেও গিয়েছিলেন অধিনায়ক। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার পরই মনে আসে তার।

মাইলফলকের এ ম্যাচ নিয়ে অধিনায়ক বললেন, ‘ধন্যবাদ মনে করার জন্য। আমার আসলে খেয়াল ছিল না। আমি আগেও বলেছি, এই গুলো আমাকে স্পর্শ করে না। এগুলো আমার কাছে এত গুরুত্বপূর্ণও না। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কালকের ম্যাচটা জেতা। এইদিক থেকে ভালো লাগছে যে, বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে সংস্করণে অন্তত ২০০তম ম্যাচ হচ্ছে।’

তবে একেবারেই যে স্পর্শ করে না ঠিক তাও নয়। ভবিষ্যতে এটা আলাদা তুষ্টি দেবে বলে মনে করেন অধিনায়ক, ‘এটা অবশ্যই ভালো লাগবে একটা সময়। যখন মানুষ বলবে, তুমি বাংলাদেশের হয়ে ২০০টা ম্যাচ খেলেছো। এটা অবশ্যই একটা অর্জন। ওই জায়গা থেকে অবশ্যই ভালো লাগবে। কিন্তু  কালকের ম্যাচের উপরে বিশেষ কিছুর গুরুত্ব একেবারেই নাই। এটা চিন্তা করে খেলার সুযোগ নেই। কালকের ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদেরকে জিততে হবে, এটাই।’

তবে সবই বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলেছেন তা নয়। এর মধ্যে ২টি ম্যাচ খেলেছেন এশিয়া একাদশের হয়ে। তার মানে সিলেটে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে দেশের জার্সিতে পূর্ণ হবে ২০০ ম্যাচ। তবে এর আগের ১৯৯ ম্যাচে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৭টি ম্যাচে জয়ে পেয়েছেন মাশরাফি। আর অধিনায়ক হিসেবে আগামীকাল নামছেন নিজের ৬৮তম ম্যাচে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here