প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রোববার ২০০ ওয়ানডেতে মাঠে নামলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। এমন দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বল হাতে জ্বলে উঠলেন তিনি। আটোসাটো বোলিংয়ে সফরকারী ব্যাটসম্যানের বেশ পরীক্ষায় ফেলেন। তাতে খুব একটা এগোতে পারেনি উইন্ডিজ। যে কারণে দলটিকে ১৯৫ রানে আটকে দিয়েছে স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকে শ্লথগতিতে খেলেছে ক্যারিবীয়রা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ টস জিতে ব্যাটিং নিলে শুরুতে তাদের রণকৌশলে চমকে দেয় বাংলাদেশ। শুরুতে দুই প্রান্ত থেকে স্পিন দিয়ে শুরু করেন মাশরাফি। মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান করেন শুরুটা। চাপে ফেলে দেওয়ার কৌশলে শুরুতে সফলতাও দেখান। সফরকারীদের ধীর-স্থির শুরুতে ষষ্ঠ ওভারে সাকিব এলবিডব্লিউর আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তা আম্পায়ার নাকচ করে দেন।

অষ্টম ওভারে বাংলাদেশকে সফলতা এনে দেন সাকিব। তার বলে ঠিকমতো ব্যাটে বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি পাওয়েল। মেরে খেলতে গিয়ে বল আউট সাইড এজ হয়ে জমা পড়ে কাভারে থাকা রুবেল হোসেনের কাছে। পাওয়েল বিদায় নেন ১০ রানে।

৯ ওভার পর পেসার দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পথে ১৬তম ওভারে ক্যাচের সহজ সুযোগ তৈরি করেছিলেন মোস্তাফিজ। ব্রাভো ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে থাকা আরিফুলের কাছে। সুবর্ণ সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি।

তবে তামিম ইকবাল ভুল করেননি ২১তম ওভারে। মাশরাফির বলে ড্যারেন ব্রাভো উঠিয়ে মারলে সেই ক্যাচ ডাইভ দিয়ে দর্শনীয়ভাবে লুফে নেন বাঁহাতি এ ওপেনার। প্রায় দুই বছর পর ফেরা ব্রাভো ফেরেন ১৯ রান করে।

বিরতি দিয়ে ২৫তম ওভারে আবারও আঘাত হানেন মাশরাফি। শরীরের ভারসাম্য না রেখে বাইরের বল খেলতে গিয়ে শাই হোপ ধরা পড়েন মিরাজের হাতে। ধীরস্থির খেলা এই ওপেনার বিদায় নেন ৪৩ রান করে।

এরপর হেটমায়ার নামলেও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। টেস্টে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো হেটমায়ার প্রথম ওয়ানডেতে ছিলেন পুরোপুরি ব্যর্থ। মিরাজের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন ১১ রানে।

ক্যাচ মিসের মহড়া আরও চলে ফিল্ডিংয়ে। ৩২তম ওভারে সাকিবের বলে উড়িয়ে মেরেছিলেন রোভম্যান। ক্যাচটা লুফেও নিয়েছিলেন মিড অফে থাকা রুবেল। আচমকা হাত থেকে পড়ে যায় সেই বল।

৯৩ রানে চার উইকেট পড়ে যাওয়ার পর পঞ্চম উইকেট তুলতেও খুব একটা সময় লাগেনি। ২০০তম ওয়ানডে খেলতে নামা মাশরাফি এবার রোভম্যান পাওয়েলকে ফিরিয়ে শিকার করেন তৃতীয় উইকেট। তার বলে উঠিয়ে মারতে গিয়ে ১৪ রানে বিদায় নেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক।

অপর প্রান্ত আগলে রেখে খেলছিলেন স্যামুয়েলস। রুবেল হোসেনের ওভারে আর থিতু হননি। রানের চাকা শ্লথ হয়ে যাওয়ায় বড় শটের দিকে ঝুঁকে বসেন। তাতে ক্যাচ আউটে বিদায় নিতে হয় অভিজ্ঞ স্যামুয়েলসকে। লং অনে তার ক্যাচ নেন লিটন। স্যামুয়েলস বিদায় নেন ২৫ রানে।

১২৭ রানে ৬ উইকেট পড়ে গেলে এক পর্যায়ে ১৫০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু সেই সম্ভাবনায় লেজের দিকে প্রতিরোধ দেন রোস্টন চেজ ও কিমো পল। স্কোর বোর্ড সমৃদ্ধ করার লড়াইয়ে ব্যাট করেন দুজন। এই জুটি হুমকি হয়ে ওঠার আগে চেজকে ফিরিয়ে ম্যাচের প্রথম উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজ। চেজ বিদায় নেওয়ার আগে করেন ৩২ রান। বিদায় নেওয়ার আগে এই জুটি উপহার দেয় নিজেদের ইনিংসের সর্বোচ্চ রানের জুটি। আসে ৫১ রান।

সঙ্গী কিমো পল আরও কিছু লম্বা শট উপহার দিয়ে মোস্তাফিজের বলে আউট হলেও দলের স্কোরকে নিয়ে যায় দুইশোর কাছাকাছি। শেষ ওভারে পল বিদায় নেওয়ার আগে ২৯ বলে করেন ৩৭ রান। এক বল বিরতি দিয়ে বিশুকে ফিরতি ক্যাচ বানিয়ে বিদায় দেন মোস্তাফিজ। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯৫ রানেই আটকে থাকে উইন্ডিজের ইনিংস।

২০০তম ওয়ানডেতে মাশরাফি ৩০ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩টি উইকেট। ৩৫ রান দিয়ে বাকি তিনটি নেন মোস্তাফিজ। একটি করে নেন মেহেদী মিরাজ, সাকিব আল হাসান ও রুবেল হোসেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

উইন্ডিজ: ৫০ ওভারে ১৯৫/৯ (পাওয়েল ১০, হোপ ৪৩, ব্রাভো ১৯, স্যামুয়েলস ২৫, হেটমায়ার ৬, রভম্যান ১৪, চেজ ৩২, পল ৩৬, রোচ ৫*, বিশু ০, টমাস ০*; মিরাজ ১/৩০, সাকিব ১/৩৬, মোস্তাফিজ ৩/৩৫, মাশরাফি ৩/৩০, রুবেল ১/৬১)।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here