শেষ ওভারে গিয়ে আরেকটি হার জমা হলো বাংলাদেশের খাতায়। এসব ম্যাচ শেষে যা মনে হয় একটু এদিক-সেদিক হলেই বদলে যেত চেহারা। সেই একটু-আধটুর জন্য আফসোসে পুড়ছে বাংলাদেশও। অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা মনে করছেন ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ের শেষ ধাপের ভুলে গিয়ে ম্যাচটা খুইয়েছেন তারা।

ব্যাটিংয়ে এক পর্যায়ে বেশ ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। তিনজন সেট ব্যাটসম্যান ফিফটি পেরিয়েও শেষটা করতে পারেননি। ভালো গতি নিয়েই ছুটে চলা ট্রেন তাই লাইনচ্যুত হয়ে যায়। সেট ব্যাটসম্যানরা আউট হয়ে যাওয়াতে শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশ তুলতে পারে মাত্র ২৬ রান।

২৫৫ রান করেও খেলা শেষ দিকে টেনে নিয়ে আশা জিইয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে ৩ ওভারে ৩২ রান লাগত ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিন্তু নাজমুল ইসলাম অপুর হাত গলে বেরিয়ে যায় কেমো পলের পর পর দুই ক্যাচ। এর আগে শেমরন হেটমায়ারের ক্যাচ ছাড়েন ইমরুল কায়েস। এত ক্যাচ ফেলার দিনে শেষ বলে গিয়ে হারে বাংলাদেশ। ১৪৬ রান করে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের আশা মিইয়ে দেন শাই হোপ।

টেস্ট খেলেন না ২০০৯ সালের পর থেকে। ফর্মের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই ছেড়েছেন টি-টুয়েন্টি। ওয়ানডে সংস্করণও হুট করেই ছাড়বেন বলে জানিয়ে রাখলেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।

‘আমি আগেও অনেকবার বলেছি, আমি কখনোই আগে সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু করি না। এমনও হতে পারে পরের ম্যাচ বা তার পরের মাচ খেলে যদি দেখি ভালো লাগছে না, ছেড়ে দিতে পারি। আমি তাতক্ষণিক অনুভূতির উপর চলি এবং সব সিদ্ধান্ত নেই। ওইভাবে চিন্তা করি না।’

২০১৯ বিশ্বকাপ খেলে অবসরে যাবেন, এমন ঘোষণা দেননি মাশরাফী। তবে ওয়ানডে অধিনায়কের বিভিন্ন সময়ে বলা কথায় যা মিলছে, তাতে বিশ্বকাপের পর ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপেই যদি ক্রিকেটকে বিদায়ের ঘোষণা দেন, তাহলে মঙ্গলবার হোম অব ক্রিকেটে মাশরাফী খেলে ফেললেন জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি।

মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে দর্শকদের মুখে মুখে রটেছে, শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মাশরাফীর শেষ ম্যাচ! হার-জিত, প্রতিপক্ষ ছাপিয়ে সবার সবার চোখ ছিল মাশরাফীর দিকে। দর্শকদের মাঝে ছিল হাহাকার। অনেক দর্শকের চোখে ঝরেছে অশ্রুও।

গ্যালারির হাহাকারের খবর ম্যাচ শেষে জানানো হল মাশরাফীকে। আবেগ ছুঁয়ে গেল তাকেও, ‘খুবই স্বাভাবিক, আমরা তো এমনিতেও একটু আবেগী। অবশ্যই এই জিনিসগুলো(দর্শকদের কান্না) আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। দেখলে আমারও খারাপ লাগবে, এটাই স্বাভাবিক। আমার সামনে ঘটলে আমার খারাপ লাগতো যে ওরা কান্নাকাটি করছে।’

‘এটাতে ভালোলাগা যেমন থাকে, খারাপ লাগাও থাকে। আমার তরফ থেকে তাদের জন্যও খারাপ লাগে। এটা একটা প্রক্রিয়া। একদিন না একদিন যেতে হবে, এটা খুব স্বাভাবিক। যেমন, বছরখানেক হয়েছে টি-টুয়েন্টি থেকে চলে গেছি। আর কিছুদিন হয়তো ওয়ানডে খেলব। কিন্তু মিরপুরে শেষ ম্যাচ কিনা বলা খুব কঠিন।’

হারের পর ব্যাটিং-বোলিংয়ের দুই ধাপের কারণকেই বড় করে দেখছেন অধিনায়ক, ‘১৫/২০ রান আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। তামিম আর সাকিব ব্যাট করলে হয়ত রান তিনশোর কাছেও যাওয়ার সুযোগ ছিল। রিয়াদ আর সাকিব ব্যাট করছিল। ওরা যদি ছয়-সাত ওভার ব্যাটিং করত তাহলে হয়ত রান ২৭০/২৮০ হয়ে যেত।’

 

‘আর ফিল্ডিং এ অবশ্যই ক্যাচ ড্রপগুলো খরুচে হয়ে গেছে। বিশেষ করে পলের পর পর দুইটা ক্যাচ মিস হয়েছে। কেমার রোচ আসলে হয়ত প্রান্ত বদল ওদের জন্য কষ্ট হয়ে যেত আরকি।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here