আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হয়— জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন রোল মডেল- বাংলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করছে আওয়ামী লীগ।

বুধবার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

উন্নয়নের পক্ষে নৌকা মার্কায় জনতার ভোট চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নৌকায় ভোট দিলে কেউ কোনোদিন বঞ্চিত হয় না। আওয়ামী লীগের উন্নয়ন তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন। দেশে কোন দরিদ্র থাকবে না। বেকার থাকবে না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করা হয়- বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি মৃত্যুকে ভয় করিনি। কখনো ষড়যন্ত্রকে ভয় করিনি। বাবার মতো বাংলার মানুষের জন্য কাজ করছি।

তিনি আরো বলেন, লক্ষ্য ছিল বাংলার মানুষের জন্য স্বাধীনতার সুফল নিশ্চিত করা। এ কারণে যতই ষড়যন্ত্র হোক ভয় পাই না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে বাংলার মানুষের জন্যে জাতির পিতা জীবন উৎসর্গ করেছেন সেই বাংলার মানুষদের সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘দেশের মানুষ আর না খেয়ে থাকবে না, বেকার থাকবে না, গৃহহারা থাকবে না। আমরা মানুষের জন্য এসব সুবিধা এনে দিয়েছি। আজকে সবার হাতে মোবাইল ফোন। এই সরকারের কল্যাণে এটা সম্ভব হয়েছে।’

সরকারের অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ঘরে বসে মানুষ টাকা উপার্জন করতে পারছে। শিক্ষা গ্রহণ করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন কর সহজ হয়। আমরা শিক্ষা বিস্তারে কাজ করেছি। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। ব্যবসা বানিজ্যের সুয়োগ সৃষ্টি করেছি। দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছি। এর ফলে বিনিয়োগ বড়বে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশের মানুষও বিনিয়োগ করতে পারবে। একটি বাড়ি একটি খামার করেছি। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মানুষের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বহুমুখী বিশ্ববিদ্যাল করে দিয়েছি। শিক্ষাই একটি শিক্ষিত জাতি গড়তে পারে। আমরা শিক্ষা বিস্তারে কাজ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি গ্রামের মানুষ শহরের সুযোগ পবে। আমার গ্রাম আমার শহর হিসেবে গড়ে উঠবে। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত গ্রাম গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবো। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। আমি সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

কোটালীপাড়ার মানুষের প্রতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘পিতা-মাতা-ভাই হারা আমি। আপনারা ভোট দেন বলেই আমি জনগণের সেবা করার সুযোগ পাই। আপনারাই আমার আপনজন। আপনারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে আমার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে আরেকবার মানুষের সেবা করার সুযোগ করে দেন।’

এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রথমে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে নিজের সংসদীয় আসন থেকে ভোটের প্রচার শুরু করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপর সেখান থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সুরা ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। তার সঙ্গে রয়েছেন ছোট বোন শেখ রেহানা।

দুপুর আড়াইটায় শেখ হাসিনা নিজের নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

রাতে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে রাত্রিযাপন করার পরের দিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়া থেকে সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন শেখ হাসিনা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here