ভোট বানচাল ও কারচুপির চক্রান্ত করেছে বিএনপি— ভুয়া ব্যালট ছাপিয়ে তারা কোথায় কোন ষড়যন্ত্র করছে তা খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তার ধানমন্ডির সুধাসদন বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহী, জয়পুরহাট, নড়াইল ও গাইবান্ধায় এই চার জেলায় নির্বাচনি সমাবেশে বক্তৃতা রাখেন।

এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রচারণা উপলক্ষে জনসভায় ভিডিও করফারেন্সে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির চক্রান্ত থেকে জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অতীতে বিএনপির দুর্নীতি মানি লন্ডারিং, অত্যাচার এবং নির্যাতনে দেশে চরম অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী।

আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতির কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, প্রতিটি আসনের বিপরীতে তিন-চার জন করে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে।

একদিকে বিএনপি কোনো প্রচার-প্রচারণায় নেই, অন্যদিকে নেতারা নির্বাচন কমিশনে প্রতিদিন নালিশ করে–তারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা।

অর্থ আত্মসাৎ মনোনয়ন বাণিজ্য এবং এতিমের টাকা চুরির মাধ্যমে অর্জিত টাকা তারা এখন নির্বাচনে ব্যয় করছে এবং এটাই তাদের চরিত্র বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

জনগণের কাছে নৌকায় ভোট চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি- জামাতের কাছ থেকে অর্থ নিন আর নৌকা মার্কায় ভোট দিন এটাই এখনকার স্লোগান।

আওয়ামী লীগ সভাপতি গত দুই টার্মে তার সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দেশব্যাপী ব্যাপক উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান হয়েছে।

নতুন চক্রান্ত করছে বিএনপি। মুজিব কোট পরে, ছাত্রলীগ-যুবলীগের ব্যাজ বানিয়ে কেন্দ্রে-কেন্দ্রে গোলমালের ষড়যন্ত্র করছে দলটি। ভোট কারচুপির দুরভীসন্ধ করছে। ভিডিও কনফারেন্সিং-এ নির্বাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিনে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজশাহীর মানুষের উন্নয়নের জন্য আমরা নানা পদক্ষেপ এরই মধ্যে নিয়েছি। রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট নির্মাণ, রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। আগামীতেও রাজশাহীর উন্নয়ন হবে। রাজশাহীতে আন্তার্জাতিক টেস্ট ভেন্যুও করা হবে।’ আগামীতে আরও উন্নয়নের জন্য রাজশাহীর ছয়টি আসনেই নৌকার প্রতীককে বিজয়ী করারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘এই রাজশাহীতে বাংলাভাইয়ের, জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল। তারা প্রকাশ্যে মানুষ খুন করেছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে নির্যাতন করেছে। কিন্তু এই রাজশাহীতে এখন শান্তি বিরাজ করছে। আমরা এই রাজশাহীর উন্নয়ন করেছি। রাজশাহীতে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রসারে দৃষ্টি রাখা হয়েছে। রাজশাহীর এয়ারপোর্ট বন্ধ ছিল। আমরা তা চালু করে দিয়েছি। ২০০৮ সাল থেকে দেশ ও জনগণের সেবা করে যাচ্ছি। তা অব্যাহত থাকবে। বাজেটের সময় ইশতেহার রেখে কাজ করি।’

তিনি বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে আমরা কী কী কাজ করব তা আমাদের ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আমাদের এই উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখব; সেই লক্ষ্য নিয়েই একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আমরা জনগণের সামনে উপস্থিত হয়েছি। বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলেই আজ ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আপনাদের সামনে উপস্থিত হতে পেরেছি, কথা বলতে পারছি।

এসময় তিনি বলেন, আজ মহাকাশে আমাদের স্যাটেলাইট রয়েছে, স্থল সীমানা চুক্তি আমরা বাস্তবায়ন করেছি। প্রথম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি করে। আমরা আমাদের ন্যায্য-হিস্যা আদায় করি। এভাবেই যখনই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে জনগণের সমস্যা সমাধান এবং জনগণের দাবি আদায়ে কাজ করে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা যদি আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারি এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে দেশের সার্বিক উন্নয়ন আমরা করব। বাংলাদেশ দারিদ্রমুক্ত ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। যে সোনার বাংলার স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন, জাতির পিতা দেখেছিলেন। ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী পালন করব। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব। ২০২০ এর মার্চ মাস থেকে ২০২১ এর মার্চ মাস এই সময়টাকে আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। আমরা যেন ‘মুজিব বর্ষ’ এবং ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী’ পালন করতে পারি এ জন্য জনগণের কাছে ভোট চাই।

উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

এদিকে পরিচয় পূর্বে রাজশাহীর প্রার্থী ও নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে আমাদের চাওয়ার কিছু নেই। কারণ আপনি না চাইতে আমাদের দিয়ে থাকেন। তাই আমরা আগামী ৩০ ডিসেম্বর ছয়টি আসন আপনাকে উপহার দেবো।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচিতির আগে কথা বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-২ সদর আসনের মহাজোট প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৩ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, রাজশাহী-৫ আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. মনসুর রহমান, রাজশাহী-৬ আসনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here