প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসলে রাজধানীর বিরক্তিকর ট্রাফিক জ্যাম দূর করতে তারা পাতাল রেল সেবা চালু করবেন।

শুক্রবার রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ইয়ুথ ক্লাব মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্যকালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

একদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রচারণার অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ এ জনসভার আয়োজন করে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তারা নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য ফ্লাট নির্মাণ এবং বিদ্যুতের লাইন মাটির নিচে দিয়ে নেবেন।

ধানের শীষ মানে দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ আর মানি লন্ডারিং। নৌকা মানে সমৃদ্ধি-স্বাধীনতা ও মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ শুক্রবার রাজধানীর গুলশান-২ নম্বর ইয়ুথ ক্লাব মাঠে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নির্বাচনি জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে, নির্বাচনে নৌকার জয় হবে। আমরা আবারও সরকার গঠন করে আপনাদের সেবা করবো।

স্বল্প আয়ের মানুষরা যেন ফ্লাটে থাকতে পারে সে ব্যবস্থা করবে আওয়ামী লীগ সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বস্তির মানুষ এখন যেভাবে থাকে সেভাবে থাকবে না। স্বল্প আয়ের মানুষরা যেন ফ্লাট বাসায় থাকতে পারে সে প্রকল্প নেয়া হয়েছে। সপ্তাহে, মাসে বা বছরে যেন তারা আয় অনুযায়ি ভারা দিতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। ১০ বছর ধরে মানুষের জীবন মানের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখছে আওয়ামী লীগ।’

এসময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দিয়েছে বলেই মানুষের জীবনের আয়-রোজগার বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। দেশের অর্থনীতি আরও উন্নত হবে। বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করাই আমাদের লক্ষ্য। নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে আসি নাই। আমরা সরকার পরিচালনা করি মানুষের জন্য। বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আজকের বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে রোল মডেল। বাংলাদেশের মানুষ সুস্থ্ভাবে বাঁচবে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

ঢাকার নাগরিক সুবিধা বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় বস্তির মধ্যে অনেক মানুষ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করে। আমরা এমন ব্যবস্থা নিচ্ছি যাতে আর তারা এভাবে না থাকেন। ফ্লাটে থাকবে তারা। স্বল্প আয় ও নিম্ন আয়ের মানুষরা যাতে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে, সেব্যবস্থা করে দেবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার নাগরিক সুবিধা বাড়াতে মেট্রোরেল হচ্ছে। অ্যালিভেটেড এক্সপ্রেস হবে। পাতাল ট্রেন করে দেবো। এসব নিয়ে কাজ চলছে। গুলশান-বনানী থেকে শুরু করে সমগ্র ঢাকার উত্তরণ, বিশেষ করে যেসব ইউনিয়ন ছিল সেগুলোকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সংযুক্ত করে দিয়েছি। মানুষ যাতে নাগরিক সুবিধা পায় সেজন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।’

জঙ্গিবাদ দমন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এই গুলশানে যখন হলি আর্টিজানে হামলা হলো, সবাই ধারণা করেছিল এর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। কিন্তু মাত্র ৮-৯ ঘণ্টায় আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এরপর থেকে আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি।’

এসময় শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘একসময় বাংলাদেশকে খরা, দুর্ভিক্ষ, দুর্যোগ, অভাবের দেশ বলা হতো। যারা বিদেশে যেতেন তাদের এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো। তবে সেই বদনাম আর নাই। আজকে আর কারও কাছে হাত পেতে আমাদের চলতে হয় না। বাংলাদেশ আজ ভিক্ষুকের দেশ না। নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে।’

ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আকবর হোসেন পাঠান (চিত্রনায়ক ফারুক) সহ ঢাকার অন্যান্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে সবার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা শেখ হাসিনা দেয় নাই, আওয়ামী লীগ সরকারও দেয় নাই। খালেদা জিয়ার প্রিয় লোকেরাই দিয়েছে। আর সেই মামলায় আজকে তিনি সাজা পেয়ে কারাগারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতি করছে না, করবেও না। হাওয়া ভবনের হাওয়ায় ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস উঠে যায়। আমরা সরকার পরিচালনা করি, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, এতিমের অর্থ আমরা আত্নসাত করি না। এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছিল খালেদা জিয়া।” তিনি বলেন,  ‘মামলা দিয়েছিল কেয়ারটেকার সরকার, কেয়ারটেকার সরকারে কারা ছিল? খালেদা জিয়ার পছন্দের প্রেসিডেন্ট ইয়াজুদ্দিন (ইয়াজউদ্দিন), খালেদা জিয়ার পছন্দের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন, যাকে খালেদা জিয়া বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্নর করেছিল। মামলা দিয়েছিল কে? সেনাবাহিনী। নয়জন জেনারেলকে ডিঙিয়ে মইনউদ্দিনকে সেনা প্রধান করেছিল। সবাই খালেদা জিয়ার প্রিয় ব্যক্তিত্ব, আর  সব প্রিয় ব্যক্তিত্বই তার বিরুদ্ধে ওই এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করার মামলা দিয়েছিল।’

তিনি আরও  বলেন, ‘মামলা শেখ হাসিনা দেয় নাই, আওয়ামী লীগ সরকারও দেয় নাই। খালেদা জিয়ার প্রিয় লোকরাই দিয়েছে। আর  সেই মামলায় আজকে তিনি সাজা পেয়ে কারাগারে। এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করলে শাস্তি তো পেতেই হবে। কোরআন শরিফেই লেখা আছে— এতিমের অর্থ, এতিমের সম্পদ চুরি করে খেও না।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দুপুরের মধ্যেই মিছিল নিয়ে মাঠে এসে উপস্থিত হন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here