একমাত্র শিক্ষাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যে স্বীকৃতি পেয়েছে তা ধরে রাখতে হবে।

রোববার সকালে গণভবনে বই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে আরো সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগ কাজ করছে।

যারা পাস করেছে সেসব শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়মতো পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের কারণেই শিক্ষার প্রতি মানুষের উৎসাহ বাড়ছে।

এছাড়া কারিগরি শিক্ষার প্রতি আওয়ামী লীগ সরকার গুরুত্ব দিয়েছে—এ কথা উল্লখে করে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত শিক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মহান নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীন জাতি হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশের জনগণ যেন একটা মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে সেই জন্যই তিনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন, এই ক্ষেত্রে তিনি শিক্ষাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

‘১৯৭৫-এর পর ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর সরকারে আসি তখন দেখি আমাদের স্বাক্ষরতার হার মাত্র ৪৫ ভাগ। আমার খুব অবাক লাগল স্বাধীনতার এত বছর পরও শক্ষার হার কেন এত কম? এমনকি অক্ষরজ্ঞানটা পর্যন্তও সাধারণ মানুষের নেই। তখন আমরা নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো এ লক্ষ্যে নিরক্ষরতামুক্ত পৃথক একটা প্রজেক্টের উদ্যোগ গ্রহণ করার পাশাপাশি ছাত্রলীগকে নির্দেশ দিয়ে কমপক্ষে ৫ জনকে অক্ষরজ্ঞান দিতে হব’—বলেও জানান তিনি।

‘এর ফলাফলটা হলো মাত্র অল্প দিনের মধ্যে আমাদের স্বাক্ষরতার হার ৬৫ ভাগে উন্নীত করতে সক্ষম হলাম। যার জন্য ইউনেস্কো একটা পুরষ্কারও দিল। আমরা সব সময় এটাই উদ্যোগ নিয়েছি যে, আমাদের দেশের মৌলিক চাহিদাগুলো পুরণ করা এবং আমরা যে লক্ষ্যগুলো স্থির করেছি, বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলবো। সেটা করতে গেলে সবসময় আমি মনে করি, একমাত্র শিক্ষাই পারে যে একটা দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করতে, ক্ষুধামুক্ত করতে, দারিদ্রমুক্ত করতে। তাই একটা শিক্ষিত জনগোষ্ঠী আমাদের প্রয়োজন। তাই আমরা সবসময় শিক্ষাকে গুরুত্ব দেই।’

‘শিক্ষাকে সবসময় আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে। কারণ ১৯৯৬ সালে একটি লক্ষ্য করেছিলাম যে, আমাদের ছেলেমেয়েদের বিজ্ঞান পড়ার দিকে তাদের ঝোঁকটা কম। তারা বিজ্ঞান পড়তেই চাইত না। সেই সময় আমি ১২টা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইন করে গেলাম এবং ছয়টার নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলাম।’

আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার দিকগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন বিজ্ঞানমনস্ক একটা জাতি গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি একটা শিক্ষিত জনগোষ্ঠী পারবে আমাদের দেশটাকে অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। কারণ আমরা সবসময় এটাই চিন্তা করি যে—আজকের কথা নয়, আগামীতে আমাদের কি হবে। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে চাই। ইতোমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে আমরা উন্নীত হয়েছি, কিন্তু সেটাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নীত সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ে তুলবো। আমরা এখানেই থেমে থামবো না। জাতিসংঘ যে সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোল সুর্নিদিষ্ট করেছে ২০৩০ সালের মধ্যে। জাতিসংঘের এই সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোলের যে ধারাগুলো আমাদের দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ইতোমধ্যে আমরা সপ্তম পঞ্চবার্ষিকীতে সেগুলো গ্রহণ করে বাস্তবায়ন শুরু করেছি।’

‘আমরা দেশকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবো। যেন বাংলাদেশ আরও উন্নত সমৃদ্ধশালী হয়। উন্নত বাংলাদেশ হিসাবে আমরা ২০৪১ সালকে সুনির্দিষ্ট করেছি, আমরা আরও অগ্রসর পরিকল্পনা নিয়েছি। যেমন বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীই হচ্ছে আমাদের দেশের প্রাণ। সেই নদীকেভিত্তি করেই বিশ্বের সভ্যতা গড়ে ওঠে। কিন্তু আমরা আমাদের দেশকে আরও উন্নত সমৃদ্ধ করে সেটা যেন একেবারে স্থায়ীভাবে এগিয়ে যেতে পারে তার জন্য ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ আমরা গ্রহণ করেছি। সেটা আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে শুরু করেছি।’

‘২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ভবিষ্যত কি হবে? সেই পরিকল্পনাটও জাতিকে আমি দিয়ে গেলাম। কারণ একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে পরে আমরা আমাদের অর্জনগুলো আরও দ্রুত করতে পারবো, এবং তার শুভ ফলটাও পাচ্ছি।’

‘ঠিক সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া, আর বিনামূল্যে বই বিতরণের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার প্রতি উৎসাহ বাড়ছে। আর আপনারা জানেন যে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত আমরা বৃত্তি দিচ্ছি। উচ্চ শিক্ষার বৃত্তির জন্য আমরা একটি প্রমানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ডও গঠন করেছি। সেখানে পিএইডি পর্যন্ত যদি কেউ চায়, আমরা সেখানে আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছি। যারা দরিদ্র, মেধাবী—তারা যেন কোনমতে বঞ্চিত না হয়।’

বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব দেওয়ার কারণে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিক্ষা ছাড়া একটি জাতি অগ্রসর হতে পারে না। সে কথা চিন্তা করেই কিন্তু আমরা এই পদক্ষেপটা নিয়েছি। আমি জানি অনেকে এর বিরুদ্ধে কথা বলে। অনেকের আপত্তি আছে। কেন এই পরীক্ষা হচ্ছে? পরীক্ষাটা হাওয়ার ফলে আমাদের ছোটছোট ছেলেমেয়েদের ভিতরে তখন থেকে একটা আত্মবিশ্বাস জেগে উঠছে। পরীক্ষার পর হাতে একটা সার্টিফিকেট পাচ্ছে। এটাও তাদেরকে সামনের দিকে আরও পড়াশোনায় মনোযোগী করবে। আমাদের সকলকে নিয়ে যে একটা শিক্ষা কার্যক্রম সেই কার্যক্রমটাই আমরা করতে পেরেছি।’

ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা বিশ্বে মর্যাদার অধিকারি হয়ে এগিয়ে যাচ্ছি এবং এগিয়ে যাবো।

কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ এবং অকৃতকার্যদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে আগামীতে ভাল ফলাফল করে পিতা-মাতার মুখ উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। এ ছাড়াও শিক্ষা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here