সারা দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়েছে। রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। কিছু স্থানে নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাধারণ ভোটাররা ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন।

নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতদের বেশিরভাগকেই নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। অপরদিকে নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি।

সকালে ভোট গ্রহণ শুরুর পর রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এসময় তিনি বলেন, আমরা সহিংসতা চাই না। শান্তিপূর্ণভাবে জনগণ ভোট দিবে, ভোট তাদের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার তারা প্রয়োগ করবে, যাকে খুশি তাকে ভোট দিয়ে তারা জয়যুক্ত করবে।

এর কিছু সময় পর নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সিইসি কে এম নুরুল হুদা ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা।

ভোট দানের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ভোটাররা যেভাবে আসছেন, তাতে মনে হচ্ছে নিঃসন্দেহে একটা ভোট বিপ্লব ঘটবে। এক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্টের বিজয় অনিবার্য। ঠাকুরগাঁওয়ের কেন্দ্রের পরিস্থিতি ভালো আছে। আমরা অবশ্যই আশা করি মানুষের ভোটের মাধ্যমে আমাদেরই বিজয় ঘটবে।

তবে ঐক্যফন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনের বক্তব্যে ছিল অভিযোগের সুর। নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা হলে সেটা শহীদদের সঙ্গে বেঈমানির সমতুল্য হবে বলে এসময় মন্তব্য করেন তিনি।

কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। সকালে নিজের ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হলে বলা যাবে অংশগ্রহণমূলক হয়েছে কিনা।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও মাহবুব তালুকদার ভোট দেন দুটি ভিন্ন ভিন্ন কেন্দ্রে। তারা যেই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন সেখানে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের দেখতে পাননি বলে সংবাদকর্মীদের কাছে মন্তব্য করেন তারা।

আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা নিজেদের ভোট প্রদানের পর নির্বাচনের পরিবেশে নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা নির্বাচনে ঝামেলা করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট-বিএনপি নেতাদের বক্তব্য ছিল বিপরীতমুখী। ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচন করা বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচন বর্জনেরও ঘোষণা দেন। নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা এসেছে জাতীয় পার্টিসহ বেশকিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকেও।

এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারসহ অনেকের কাছেই আগ্রহের আসন ছিল নড়াইল-২। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ভোট প্রদান শেষে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের নেতারা নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক তা মেনে নেয়ার কথা জানালেও বিএনপি নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে বিকেলে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here