দীর্ঘ শারীরিক অসুস্থতার কারণে নতুন বছরের শুরুতেই চিরবিদায় নিলেন অভিনেতা কাদের খান।

সোমবার কানাডার একটি হাসপাতালে এই কিংবদন্তী অভিনেতার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়েস হয়েছিল ৮১ বছর।

শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে কানাডার একটি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ভর্তি ছিলেন কাদের খান। কাদের পুত্র সরফরাজ নিজেই তার বাবার মৃত্যুর সংবাদ সকলকে জানিয়ছেন।

এ সময় তিনি বলেন,”আমার বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে কানাডিয়ান সময় অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬ টার সময় তিনি মারা যান। তিনি বিকেলেই কোমাতে চলে যান। তিনি গত ১৬-১৭ সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ছিলেন।”

‘তাঁর শেষকৃত্য কানাডাতেই অনুষ্ঠিত হবে। এখানে আমাদের পুরো পরিবার রয়েছে এবং আমরা এখানেই থাকি তাই শেষ কাজও এখানেই হবে’, বলেন কাদের খানের ছেলে।

আমরা তাকে আশীর্বাদ ও তার জন্য প্রার্থনা করার জন্য প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞ। খবর টাইম্‌স অব ইন্ডিয়ার।

১৯৮০-৯০-এর দশকের এ অভিনেতা-চিত্রনাট্যকারের মৃত্যুর খবর নিয়ে বারেবারেই গুজব রটেছে। গত বছর, অসমর্থিত মিডিয়া প্রতিবেদনে বলা হয় যে,কাদের খান চিকিৎসার জন্য কানাডা চলে গেছেন এবং পরে তার ছেলে ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে,তিনি প্রগ্রেসিভ সুপ্রানিউক্লিয়ার পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন। এটি এমন একটি মারাত্মক রোগ যা ভারসাম্য হ্রাস, হাঁটা-চলায় সমস্যা এবং ডিমেনশিয়ার সমস্যা সৃষ্টি করে। ২০১৭ সালে তার হাঁটুতে একটি অস্ত্রোপচারও করা হয়েছিল।

আফগানিস্তানের কাবুলে জন্ম নেন কাদের খান। অসংখ্য সিনেমায় তাঁর অভিনয় এবং একজন লেখক হিসেবে তাঁর কাজ সুবিদিত। কাদের খান ১৯৭৩ সালে রাজেশ খান্নার ‘দাগ’ সিনেমায় বলিউডে তাঁর অভিষেক ঘটান। সারা জীবনে ৩০০ টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন কাদের। তিনি ২৫০ টিরও বেশি চলচ্চিত্রের সংলাপ লিখেছেন।

অভিনেতা হওয়ার আগে রণধীর কাপুর-জয় বচ্চনের ‘জওয়ানি দিওয়ানি’র সংলাপও লিখেছিলেন তিনি।

মনমোহন দেশাই ও প্রকাশ মেহেরার মতো পরিচালকের সঙ্গেও কাজ করেছেন কাদের খান। মনমোহন দেসাইয়ের সঙ্গে তাঁর ছবিগুলি হল ধর্মবীর, গঙ্গা যমুনা সরস্বতী, কুলি, দেশ প্রেম, সুহাগ, পারভরিশ এবং অমর আকবর অ্যান্থনি এবং প্রকাশ মেহরার সঙ্গে চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বওয়ালামুখী, শরাবী, মুকাদ্দরকা সিকান্দার।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here