অনাদিকাল থেকে সৌরজগতের নিখুঁত নিয়মে প্রতিদিন সূর্য উঠে, আজও উঠেছে। শীতের কুয়াশা সরিয়ে উঁকি দিয়েছে উজ্জ্বল রোদ। আশা জাগানিয়া সূর্যকিরণ দ্যুতি ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রত্যেকের প্রাণে। অশুভ শক্তির মিথ্যা বোধ, প্রজন্মের নষ্ট হয়ে যাওয়া মুখগুলোর ‘আস্ফালন’ আর সহিংস রাজনীতির অশুচি কাটিয়ে অস্তাচলে গেল যে সূর্যটি, আজ পূর্ব দিগন্তে শাশ্বত সেই সূর্যেরই উদয়ন ঘটেছে নতুন সৌন্দর্যের আবাহন ঘটিয়ে। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে নবোদয় ঘটেছে এক নতুন প্রজন্মের; যে প্রজন্মের কাছে মায়ের মতো পবিত্র তার দেশ, সূর্যের মতো সত্য তার মুক্তিযুদ্ধ আর উন্নয়নের জ্যোতির মতোই দ্যুতি ছড়ানো তার ভবিষ্যত। তাই একাত্তরের মতোই নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির অবিস্মরণীয় ভূমিধস বিজয়, আর বিজয়ের মাসে স্বাধীনতাবিরোধী অশুভ শক্তিকে শোচনীয় কায়দায় পরাজিত করেই বিদায় নিল ঘটনাবহুল ২০১৮ সাল।

সরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে মহাজোটের মহাবিজয়ের উৎসবকে ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় করে রেখে বিদায় নিয়েছে ঘটনাবহুল ’১৮ সাল। বিদায়ী বছরের অবিস্মরণীয় ঘটনা হচ্ছে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। আওয়ামী লীগের এবারের সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের স্লোগানের প্রতি অবিস্মরণীয় রায় দিয়েছে দেশের জনগণ।

তরুণ প্রজন্মের গণজোয়ার ও দীপ্ত শপথের ব্যালট বিপ্লবে উড়ে গেছে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। দেশের কোথাও কোন আসনে একাত্তরের গণহত্যাকারী ঘাতক চক্রের পতাকাবাহী সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াতের কাউকে জিততে দেয়নি দেশের মানুষ। বরং জামায়াতকে বাজেয়াপ্ত করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রকে বুঝিয়ে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে তাদের ষড়যন্ত্রের দিন শেষ।

তমসা কেটে পূর্ব দিগন্তে আবহমান সূর্যের নতুন যাত্রা শুরু হলো। ‘সময় আর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না’ এই সত্যকে বির্মূত করে নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়। স্বপ্ন আর দিনবদলের অপরিমেয় প্রত্যাশার আলোয় উদ্ভাসিত শুভ নববর্ষ। মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেল ২০১৮। শুরু হলো ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ। সুপ্রভাত বাংলাদেশ, স্বাগত ২০১৯। হ্যাপি নিউইয়ার ’১৯। অভিবাদন নতুন সৌরবর্ষ।

সেই একই সূর্য, একইভাবে উঠছে পূর্বাকাশ আলো করে। কিন্তু তার উদয় ভিন্নতর। আজকের দিনটিও আলাদা। কারণ একটি নতুন বর্ষপরিক্রমা শুরু হলো আজ মঙ্গলবার থেকে। সোনালি স্বপ্নের হাতছানি নিয়ে উদিত হলো নতুন বছরের নতুন সূর্য। ভরা পৌষে কুয়াশার হিমেল চাদর ছিন্ন করে উদ্ভাসিত হলো সোনালি আলোর সকাল। কালপরিক্রমায় দ্বারোদঘাটন হলো প্রকৃতির নতুন নিয়মে নতুন বছর ২০১৯। চেতনায় জাগ্রত আবহমান সেই মাঙ্গলিক বোধ; অতীতের জীর্ণতা অতিক্রান্ত দিনমাসপঞ্জির হিসাব থাক বিস্মৃতির কালগর্ভে, প্রত্যাশায় বুক বাধি নতুন দিনের সূর্যোলোকে। উদ্ভাসন হোক সজীব-সবুজ-নতুনতর সেই দিনের, যা মুছে দেবে অপ্রাপ্তির বেদনা, জাগাবে নতুন প্রত্যয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে এগোনোর প্রেরণা।

গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা অনুযায়ী ইংরেজী নববর্ষের প্রথম দিন আজ। আজ ২০১৯ সালের প্রথম দিন। আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে/ তবু শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এ কথার মতোই দুঃখ, কষ্ট সবকিছু কাটিয়ে নতুন জীবনের দিকে যাত্রার প্রেরণা নেবে মানুষ। নতুন বছরটি যেন প্রতিটি মানুষের মন থেকে সকল গ্লানি, অনিশ্চয়তা, হিংসা, লোভ ও পাপ দূর করে। রাজনৈতিক হানাহানি কিংবা জঙ্গী-সন্ত্রাসমুক্ত হয়ে আমাদের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত প্রিয় স্বদেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

গত বছরের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব খুঁজতে খুঁজতে নতুন বছরকে সামনে রেখে আবর্তিত হবে নতুন নতুন স্বপ্নের। বাংলাদেশে ইংরেজী নববর্ষ পালনের ধরন বাংলা নববর্ষ পালনের মতো ব্যাপক না হলেও এ উৎসবের আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া থেকে বাংলাদেশের মানুষও বিচ্ছিন্ন নয়।

গতরাত ১২টার পর পরই সারাবিশ্বে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়েছে নানা আনুষ্ঠানিকতায়। বর্ষবরণের আনন্দোৎসব করেছে সর্বস্তরের মানুষ। হিসাবের খাতায় ব্যর্থতার গ্লানি মুছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নতুন বছরে শান্তিকামী মানুষের প্রার্থনা ছিল- আর কোন সহিংসতা নয়, কোন হত্যা-খুন কিংবা হানাহানির রাজনীতি নয়। ২০১৯ হবে শান্তির বীজ বপনের সাল। অস্ত্র বা হানাহানির মহড়া হবে না, থেমে যাবে সব যুদ্ধ-সন্ত্রাস। সবার প্রত্যাশা অনুযায়ী ভূমিধস বিজয় নিয়ে টানা হ্যাটট্রিকে ক্ষমতায় আসতে যাওয়া আওয়ামী লীগের সরকার নতুন বছরেও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুখী ও সমৃদ্ধিশালী উন্নত বাংলাদেশ উপহার দেবে জাতিকে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here