আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যাচ্ছেন চিটাগংয়ের ওপেনার ক্যামেরুন ডেলপোর্ট, অন্য দিকে মাঠে প্রবেশ করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের একসময়ের তারকা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুল। মাঠের গ্যালারিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দর্শকদের তুমুল হর্ষধ্বনি। কিন্তু দর্শকদের উল্লাস থাকেনি বেশিক্ষণ, মাত্র ৩ রান করেই ফিরে যান সাজঘরে।

শুরুতেই বন্ধু মাশরাফির বল মোকাবেলা করতে হয় আশরাফুলকে। প্রথম বলটা থার্ডম্যানে ঠেলে দেন অ্যাশ। ফিল্ডার দৌড়ে আসায় তড়িঘড়ি রান নিতে দিলেন দৌড়। অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে মাশরাফি তখন বলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

ফলে রান নিতে গিয়ে আশরাফুলের সামনে পড়ে যান মাশরাফি। তখন মজা করেই হাল্কা ধাক্কা মারেন রংপুর অধিনায়ককে। মুহূর্তের আকস্মিকতা কাটিয়ে পাল্টা জবাব দিলেন তিনিও। দুষ্টামিতে যে তিনিও কম যান না। বোলিং প্রান্তে হেঁটে যাওয়ার সময় ডান পা বাঁকিয়ে লাথি দেওয়ার চেষ্টা করলেন আশরাফুলকে। আশরাফুল তাই দেখে বাঁকা হয়ে গা বাঁচালেন। মাঠের মাঝে দুই বন্ধু ক্ষণিকের দুষ্টামিতে দারুণ মজা পেলেন সমর্থকরা।

ক্রিজে আশরাফুলকে দেখা গিয়েছে ভীষণ প্রাণবন্ত। মনেই হয়নি দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তিনি খেলতে নেমেছেন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে। ব্যাটিংয়ে নেমেই মুখোমুখি হয়েছেন ‘বন্ধু’ মাশরাফির। প্রথম বলেই রান নিয়ে জানান দিয়েছেন তিনি এসেছেন আলো ছড়াতেই। তবে মাত্র ৫ বল খেলে ৩ রান করে শফিউলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সাজঘরে।

তার ফেরায় উচ্ছ্বসিত ছিলেন দর্শকরাও। মাঠের প্রবেশ মুখেই এক দর্শক জানান, তিনি শুধু আশরাফুলের খেলা দেখতেই এসেছেন মাঠে। কথা বলার সময় তার চোখেমুখে ঠিকরে পড়ে উত্তেজনাও। আরও জানান, এই আশরাফুলের ব্যাটিংয়ের কারণেই বাড়তি প্রেম জন্মেছিল ক্রিকেটের প্রতি। তিনি আশা করেন, আশরাফুল ফিরবেন ভালোভাবেই।

গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমের সামনে সতীর্থ আশরাফুলকে নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘তিনি অনেক কষ্ট করেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করেছেন। আশা করি এবারও (বিপিএলে) ভালো খেলবেন। তিনি ভালো খেললে সেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যই ভালো।’

এই বিপিএল দিয়েই ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন একসময়ের ক্রিকেট মাঠ কাঁপানো আশরাফুল। তার বাহারি শটের কারণে ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিত ছিলেন লিটল ডিনামাইট হিসেবে। এবার সেই বিপিএল দিয়েই ফিরছেন আবার ক্রিকেটে। আজ প্রথম ম্যাচে পারেননি, পরের ম্যাচেই স্বরূপে ফিরবেন আশরাফুল এমন আশা সকলেরই।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ দুই তারকার অভিষেক কাছাকাছি সময়ে। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কায় রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে অভিষেক হয় আশরাফুলের। তার দুই মাস পর ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলে যাত্রা করেন মাশরাফি। আশরাফুলের মতো অভিষেকে রেকর্ড না করলেও দুর্দান্ত বোলিং করা উপাধি পান ম্যাজিক বোলার নামে। তখন থেকেই দারুণ বন্ধুত্ব এ দুই তারকার।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here