যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন মন্ত্রী ছিল না মন্ত্রিসভা গঠনে সে সব এলাকার প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে যেসব এলাকায় মন্ত্রী ছিল না বা বঞ্চিত ছিল সে সব এলাকার প্রতিনিধিদের এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্রাধিকার দিয়েছেন।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মন্ত্রীপদে থাকা না থাকা নিয়ে দলে কোনো অসন্তোষ নেই। মন্ত্রিপরিষদের আকার বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সচিবালয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে অপেক্ষা নতুন মন্ত্রিসভার শপথের। গতকালই প্রকাশ পেয়েছে কারা হচ্ছেন মহাজোট তথা আওয়ামী লীগের সরকারের এবারের মন্ত্রী৷ তাতে দেখা গেছে, বাদ পড়ার তালিকায় আওয়ামী লীগেরই একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রী রয়েছেন।

তিনি বলেন, একজন বাদ পড়বেন, আরেক জন আসবেন। এটাই তো স্বাভাবিক। এ নিয়ে দলের মধ্যে কোন অসন্তোষ নেই। এটা গণতন্ত্র চর্চার অংশ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একজন মন্ত্রী থাকবেন, তার বদলে আরেকজন আসবেন এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটা নিয়ে অসন্তোষের কিছু নেই। আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল। এখানে একজনের জন্য আরেকজনকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। বলেন, ‘প্রয়োজনে আমাদের সাংগঠনিক অবস্থানেও পরিবর্তন আনা হয়। কাউন্সিল হয়…সেখানে নতুন নেতৃত্ব বাছাই করে কাউন্সিলররা। এটা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চার অংশ। এমন প্র্যাকটিস আমরা করে থাকি।’

তবে, নতুন মন্ত্রিসভাকে এখনই চমক মানতে নারাজ আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংগঠনিক এ নেতা।

তিনি বলেন, ‘আগে যারা ছিলেন সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। এখন যারা আসছে তারা কেমন কাজ করবেন, দেখা যাক। তাদের কাজই বলে দেবে এটা চমক কিনা।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ইশতিহার বাস্তবায়নের উপযোগী করেই নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে লক্ষ্য বাস্তাবায়ন সহজ হবে। তবে মন্ত্রিসভা কিছুটা সম্প্রসারণ হতেই পারে। নতুন যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তারা ভালো পারফরম্যান্স না করতে পারলে দায়িত্বে পরিবর্তন আসতেই পারে। পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে তারা কতদিন দায়িত্বে থাকবেন।’

তবে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা বিভিন্ন মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আসায় অনেকেই ইতোমধ্যে প্রশংসা শুরু করেছেন। এখন জনগণ কীভাবে নতুন মন্ত্রিসভাকে গ্রহণ করে তাই দেখার বিষয়। প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার মিল রেখে তারা কাজ করতে পারবেন বলে আশা রাখি। তারা ভালো করবেন।’

মন্ত্রিসভা থেকে সিনিয়র মন্ত্রীদের বাদ পড়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “তারা বাদ পড়েননি। আমরা ‘বাদ পড়া’ শব্দটি বলতে চাই না। শুধু দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। যারা বাদ পড়েছেন কাউকে ব্যর্থ বলা চলে না। তারা অনেকেই সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন তারা দলে মনোনিবেশ করবেন। কারণ অনেক সময় সরকারের মধ্যে দল হারিয়ে যায়। তখন দলের অস্তিত্ব থাকে না। দলকে শক্তিশালী করা দরকার। আধুনিক ও স্মার্ট দল থাকলে কাজ করতে সুবিধা। সিনিয়ররা এখন দলকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করবেন।”

জাতীয় পার্টি বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিরোধী দল বিরোধী ভূমিকা পালন করলেই ভালো। এতে গণতন্ত্রের বিকাশ হয়।’

শরিক দলগুলো থেকে মন্ত্রী নেই কেন এতে জোটের রাজনীতিতে কোনও প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শরিক দলগুলো আমাদের সঙ্গেই আছে, ভবিষ্যেতেও থাকবে। মন্ত্রী না হলেই যে কেউ থাকবে না এমন নয়। পাঁচ বছর অনেক সময়। কখন কে আসবে, কে যাবে তা বলা যায় না। দায়িত্বে পরিবর্তন আসতেই পারে।’

‘অভিজ্ঞ মন্ত্রীদের অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে এতে সমস্যা হবে কিনা’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এবারের মন্ত্রিসভাতেও অভিজ্ঞ ব্যক্তি রয়েছেন। একেবারে নেই বা তাতে সমস্যা হবে এমন ধারণা ঠিক না। আগে দায়িত্ব পালন করা অনেকেই মন্ত্রিসভায় আছেন। কাজেই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ লোক আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।’

রোববার মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন। তাতে ২৪ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী স্থান পেয়েছেন। আর বাদ পড়েছেন দশম সংসদের মন্ত্রিসভার ৩৬ জন সদস্য। এর মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করায় তাকে ৩৬ জনের তালিকায় ধরা হয়নি।

বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ হেভিওয়েটরা। এছাড়া, নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি মহাজোটের শরিক ১৪ দলের কোনো নেতার।

আজ বিকাল সাড়ে তিনটায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

 

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here