সিলেট সিক্সার্সের ছুঁড়ে দেওয়া ১৬৯ রানের বড় লক্ষ্যটাকে দৃষ্টি সীমায় নিয়ে এসেছিলো চিটাগং ভাইকিংস। শেষ বলে প্রয়োজন ছিলো ৭টি রান। টাই হওয়ার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৫ রানে হেরেছে চিটাগং ভাইকিংস। আর দ্বিতীয় ম্যাচে এসে জয়ের দেখা পেলো ডেভিড ওয়ার্নারের সিলেট।

ডেলপোর্টের ৩৮, আশরাফুলের ধীর গতির ২২ রানের পর সিকান্দার রাজাই ম্যাচটাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়ের কাছে। রাজা ২৮ বলে ৩৭ রান করে বিদায় নিলে আপাতদৃষ্টিতে জয়ের সম্ভাবনা মিইয়ে গেলেও ২৪ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচটাকে দৃষ্টি সীমায় আনেন রোবি ফ্রাইলিঙ্ক। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়েই ১২ বলে ৩৮ রান থেকে শেষ বলে চিটাগংয়ের প্রয়োজন ছিলো ৭ রান। ফ্রাইলিঙ্ক অবশ্য আল আমিনের শেষ বলটাকে ঠিকমতো সংযোগ ঘটাতে পারেননি। তাতে ৫ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিলেট। ২০ ওভারে চিটাগংয়ের সংগ্রহ ছিলো ৭ উইকেটে ১৬৩ রান। তাসকিন ২৮ রানে ৪ উইকেট নেন সিলেটের হয়ে। দুটি নেন অলোক কাপালি।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এদিন টস জিতেছিল সিলেট সিক্সার্সই। আসরে প্রথমবারের মতো কোন অধিনায়ক ফিল্ডিং না নিয়ে নিলেন ব্যাটিং। তবে ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল ভয়ানক। আগের ম্যাচের মতো এদিনও শুরুতে বিধ্বংসী রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন চিটাগং ভাইকিংসের রবি ফ্রাইলিঙ্ক। প্রথম দুই ওভারে ৫ রান খরচ করে তুলে নিলেন সিলেটের দুই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে। প্রথম ওভারে উইকেট নিলেন নাঈম হাসানও। ফলে দলীয় ৬ রানে নেই প্রথম সারির ৩ উইকেট।

এরপর অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের হাত ধরে প্রতিরোধের গল্প। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ধারা ছাড়া দেখে শুনে খেললেন অধিনায়ক। সঙ্গী হিসেবে পেলেন আফিফ হোসেনকে প্রথমে, পরে নিকোলাস পুরানকে। চতুর্থ উইকেটে আফিফের সঙ্গে গড়লেন ৭১ রানের জুটি। আর পুরানের সঙ্গে করেছেন ৭০ রানের জুটি। এ দুটি জুটিতেই লড়াকু সংগ্রহ পায় সিলেট।

৪৭ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৯ রানের ইনিংস খেললেন ওয়ার্নার। তবে ওয়ার্নারকে ছাড়িয়ে দিনশেষে নায়ক হয়েছেন পুরান। ৩২ বলে সমান সংখ্যক ৩টি করে চার ও ছক্কায় খেলেছেন হার না মানা ৫২ রানের ইনিংস। দারুণ ব্যাটিং করেছেন আফিফ হোসেনও। ২৮ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৫ রান করেছেন এ অলরাউন্ডার। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৮ রানের স্কোর পায় সিলেট। চিটাগংয়ের পক্ষে ২৬ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন ফ্রাইলিঙ্ক।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

সিলেট সিক্সার্স: ২০ ওভারে ১৬৮/৫ (লিটন ০, ওয়ার্নার ৫৯, নাসির ৩, সাব্বির ০, আফিফ ৪৫, পুরান ৫২*, কাপালী ২*; ফ্রাইলিঙ্ক ৩/২৬, নাঈম ১/২০, রাজা ০/২৮, রাহী ০/৩৪, খালেদ ১/৩৩, মোসাদ্দেক ০/২৫)।

চিটাগং ভাইকিংস: ২০ ওভারে ১৬৩/৭ (শাহজাদ ৬, ডেলপোর্ট ৩৮, আশরাফুল ২২, মুশফিক ৫, রাজা ৩৭, মোসাদ্দেক ৭, ফ্রাইলিঙ্ক ৪৪*, নাঈম ০, সানজামুল ২; তাসকিন ৪/২৮, ইরফান ০/৩৫, নাসির ০/১০, আল-আমিন ০/৫৭, আফিফ ০/৬, কাপালী ২/৬)।

ফলাফল: সিলেট সিক্সার্স ৫ রানে জয়ী।

 

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here