শীত মানেই হিমহিম কনকনে ঠাণ্ডার অনুভূতি। সরা দেশে শীতের প্রকপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামের পাশাপাশি শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে শহুরে জীবনেও। এ ঋতু পরিবর্তন শুধু যে কুয়াশা মোড়ানো সকাল আনে তা তো নয়, সঙ্গে আনে স্বাস্থ্যগত পরিবর্তনও। শীতের আবহাওয়া শুষ্ক, ধুলাবালির মাত্রাটাও কিছুটা বেড়ে যায়। এ কারণে স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দেয়।

শীতের শুরুতেই জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, অ্যাজমার পার্দুরভাব বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের ভাষায় এগুলো মৌসুমী জ্বর, সর্দি, ঠান্ডা জনিত সমস্যা। ভাইরাসের সংক্রমণে এমনটি হচ্ছে। সব বয়সের মানুষ এ জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। ঋতু পরিবর্তন হলে এমনটি হয়ে থাকে। তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে সর্দি-কাশি ও জ্বর হতে পারে। খুব বেশি গরম ও খুব বেশি শীত না থাকাটাও একটি কারণ।

শীতে সবচেয়ে বেশি যে রোগ হয় তা হলো সর্দি-কাশি, কমন কোল্ড বা ঠান্ডাজ্বর। সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জার মাধ্যমে এ রোগ হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস, লালা, কাশি বা হাঁচি থেকে নিঃসরিত ভাইরাসের মাধ্যমে সর্দি-কাশির সংক্রমণ হয়। এর ফলে রোগীর জ্বর, গলাব্যথা, ঢোঁক গিলতে অসুবিধা, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে অনবরত সর্দি নিঃসৃত হওয়া, খুসখুসে কাশির সঙ্গে গলা, মাথা ও বুকে-পেটে ব্যথাও অনুভূত হয়। কোনো কোনো সময় খাবারে অরুচি, পাতলা পায়খানা হতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত হলে বিশ্রাম, প্রচুর পানীয়, ফলের রস ও পানীয় গ্রহণ করতে হবে। খুব বেশি জ্বর, গলাব্যথা, কাশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন।

ঠান্ডাজ্বরের স্বভাবিক লক্ষণ :

১. মাথাব্যথা ও ক্লান্ত ভাব অনুভব করা। সারা শরীর ব্যথা করা।

২. নাক দিয়ে অনর্গল পানি পড়া ও চোখব্যথা।

৩.  নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া।

৪. কম তাপমাত্রার জ্বর অনুভব করা।

৫. ক্ষুধা নষ্ট হওয়া।

৬.  হাঁচি ও সঙ্গে শুকনা কাশি।

৭.  কাশতে কাশতে গলা ও বুকে ব্যথা অনুভব করা।

৮.  মাঝেমধ্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।

এমন পরিস্থিতিতে যা করণীয়:

হাঁচি-কাশির সময় নাকে-মুখে টিস্যু, রুমাল বা হাত দিয়ে রাখবেন। যাতে ভাইরাস ছড়াতে না পারে। ব্যবহার করা রুমাল কিংবা টিস্যু দ্রুত নিরাপদ জায়গায় ফেলুন। নাক বা চোখে হাত দেবেন না। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস আলাদা করে ফেলুন। রাস্তাঘাটে, কর্মক্ষেত্রে মাস্ক বা রুমাল ব্যবহার করুন।

চিকিৎসা:

১. ঠান্ডা খাবার ও পানীয় পরিহার করা

২. কুসুম কুসুম গরম পানি পান করা। হালকা গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করা উচিত।

৩. প্রয়োজনমতো গরম কাপড় পরা। তীব্র শীতের সময় কান-ঢাকা টুপি পরা এবং গলায় মাফলার ব্যবহার করা ভালো।

৪. ধুলাবালি ও ধূমপান এড়িয়ে চলা।

৫. ঘরের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ না রেখে মুক্ত ও নির্মল বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।

৬. হাঁপানি রোগীরা শীত শুরুর আগেই চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

৭. যাদের অনেক দিনের শ্বাসজনিত কষ্ট আছে, তাদের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং নিউমোকক্কাস নিউমোনিয়ার টিকা নেওয়া উচিত।

৮. তাজা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা, যা দেহকে সতেজ রাখবে এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

৯. হাত ধোয়ার অভ্যাস করা। বিশেষ করে চোখ বা নাক মোছার পরপর হাত ধোয়া।

১০. সাধারণভাবে রাস্তায় চলাচলের সময় মাস্ক পরা, আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকা এবং তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার না করাই ভালো। তাজা ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

এরপরও ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শীতকালে আরেকটা বড় সমস্যা অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা। এই সময় অ্যাজমা বা হাঁপানির প্রকোপ খানিকটা বেড়ে যায়। যেকোনো বয়সের নারী-পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। পরিবেশদূষণ, শিল্পবর্জ্য থেকে উৎপন্ন ধুলাবালি, খাবার, ওষুধ-অ্যাজমা বা হাঁপানির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাস্ক পরে চলাচল করতে হবে। যেসব খাবার, ওষুধ, ধুলাবালিতে পরিবেশগত অ্যালার্জেন আছে, সেগুলো থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। শ্বাসকষ্ট বেশি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here