আগামীকাল থেকে পোশাক শ্রমিকরা কারখানায় কাজে না ফিরলে কোনো বেতন প্রদান করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

রোববার পোশাক শিল্পে উদ্ভূত পরিস্হিতি বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

এছাড়াও আগামীকালের মধ্যে শ্রমিকরা কাজে ফিরে না গেলে সব পোশাক কারখানা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

বিজিএমইএ-এর সভাপতি বলেন, গত ৮ই জানুয়ারী বণিজ্যমন্ত্রী, শ্রম প্রতিমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মালিকপক্ষের উপস্থিতিতে একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠণের সিদ্ধান্ত হয়, যে কমিটি ইতিমধ্যে ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি গেজেটের ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে যদি মূল মজুরি সমন্বয়ের প্রয়োজন থাকে, তা বিবেচনা করে সুপারিশ করবে। ওই সভায় সকলে একমত হন যে, বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট সমন্বয়ের পর কোন শ্রমিকের মূল বা মোট মজুরি কম হবে না। ওই সভায় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানায়। কিন্তু তাদের আহ্বানকে অগ্রাহ্য করে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়নি। তারা কারখানা ভাঙচুর করছে, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করছে, জনজীবনে প্রতিবন্ধিকতা সৃষ্টি করছে।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

সমস্যা সমাধানে সরকার গঠিত ত্রি-পক্ষীয় কমিটি কাজ করছে। কমিটি মজুরি কাঠামোর কোন ব্যতয় হলে তার পুনর্বিবেচনা করবে। এ জন্য আন্দোলন ভাঙচুরের প্রয়োজন নেই।

শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মজুরি কাঠামো নিয়ে আন্দোলন করার যৌক্তিকতা নেই।  আপনাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ শিল্পে আপনাদেরকে ব্যবহার করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে, যা মোটেই কাম্য নয়। আপনাদের সরলতার সুযোগে দেশের অর্থনীতির প্রাণ ও প্রধান কর্মসংস্থানের খাত নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবে, তা হতে দিবেন না। এ খাতটি ধ্বংস হলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আপনারা, আপনারা কর্মহীন হবেন। আপনাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হতে পারে এমন কোন খাত এখনও গড়ে ওঠেনি।

তিনি শ্রমিকদের হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনারা কাজে ফিরে যান, উৎপাদন কাজে অংশগ্রহণ করুন। আর যদি আগামীকাল থেকে কাজ না করেন, তাহলে কোন মজুরি প্রদান করা হবে না (নো ওয়ার্ক, নো পে) এবং ওই কারখানা শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা মোতাবেক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এ খাতকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি মহল জড়িত কি না তা গোয়েন্দা বাহিনী বের করবে। আমাদের রপ্তানি গ্রথ বাড়ছে এটাও একটা মহলের দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। তিনি এ ব্যাপারে সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চান।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here