প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং এর অর্জনসমূহ সমুন্নত রাখার জন্য সরকার তার দুর্নীতি বিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পর আজ পিএমও অফিসে তার প্রথম কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, যদিও কোন দেশের পক্ষেই শতভাগ দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সরকারের একটা দায়িত্ব হলো এই দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাতে এটি দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। আমাদের সব সাফল্য ম্লান করে না দেয়।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি ও মাদক নির্মূলের ক্ষেত্রে আমাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। শেখ হাসিনা বলেন, টেন্ডার ছিনতাইয়ের ঘটনা দেশে বারংবার ঘটেছে। ‘কিন্তু আমরা দেশকে এই অবস্থা থেকে মুক্ত করতে পেরেছি। প্রযুক্তির বদৌলতে এই সাফল্য এসেছে এবং এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের একটা ভালো ফল।

প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের দেশের উন্নয়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের জনগণের কল্যাণে সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, যাতে জনগণ তার সুফল ভোগ করতে পারে। আমরা দেশকে উন্নত ও সম্ভাবনাময় জাতিতে পরিণত করতে চাই। ইতিমধ্যে আমরা দেশকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছি। এটাকে অবশ্যই আমাদের ধরে রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে সব সময় তার সরকারকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তার সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সহযোগিতা করেন।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় সব প্রকার উন্নয়ন কাজ শেষ করতে চাই, যাতে করে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। দেশ সব ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও শান্তি বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আর অপরের ওপর নির্ভরশীল থাকবো না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর যেন দেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় আসতে না পারে তার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই যে বা যারা দেশের ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করবে এবং উন্নয়নকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের কারণে বিশ্ববাসী আমাদের দেশকে সম্মানের চোখে দেখে থাকে। কিন্তু এক সময় বাংলাদেশকে খরা, দুর্ভিক্ষ, বন্যার দেশ হিসাবে বিশ্বে পরিচিত লাভ করেছিলো। যা আমাদের কষ্ট দিতো । আর আমরা এটাকে সহ্য করতে চাই না।

তিনি বলেন, সেই সময় থেকে আমি মনে করতাম আর কাউকে দেশকে খাটো করতে দিবো না। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছি তাই সব সময় মাথা উচু করে থাকতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এমনকি পাকিস্তানি জনগণ আমাদের ব্যাপক উন্নয়ন দেখে বাংলাদেশের মতো তাদের দেশকে রূপান্তরিত হতে দেখতে চায় এবং এর চেয়ে আনন্দের মূহুর্ত আর হতে পারে না। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের জনগণের সেবা করার ব্যাপারে কোন চিন্তা ছিল না। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কিভাবে কাজ করা যায় সেকথা চিন্তা করে এবং ওই চিন্তার কারণে আমরা তাদের জন্য কি করেছি।

শেখ হাসিনা চলমান প্রকল্পসমূহ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, তাদের (সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি) কর্মকাণ্ডে গতি আনতে তিনি তার আগের মেয়াদগুলোর মতো শিগগিরই মন্ত্রণালয়সমূহ পরিদর্শন শুরু করবেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার ব্যাপারে তার লক্ষ্যের কথা পুনঃব্যক্ত করেন।

শেখ হাসিনা ২০২০-২০২১ সালে ব্যাপক ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘মুজিব বর্ষ’ পালনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমাম, ড. মসিউর রহমান, ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক সমন্বয়কারি এম. আবুল কালাম আজাদ।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব, উপদেষ্টাবৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন অনুবিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, এসএসএফ-এর মহাপরিচালক ও অন্যান্য পরিচালকরা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here