ঢাকায় কি দূর্দান্ত ছন্দেই না ছিল ডায়নামাইটস। ঢাকা পর্বে একমাত্র অপারেজয় গর্বটা ছিল একমাত্র সাকিবের নেতৃত্বাধীন দলটির। সিলেটে এসেই খেতে হলো ধাক্কা ডায়নামাইটসকে। মিরাজের কৌশলের কাছে এদিন হার মানতে হলো সাকিবকে। রাজশাহী কিংসের কাছে ২০ রানে হেরে গেল ঢাকা ডায়নামাইটস।

আজকের দিনটা রাজশাহী কিংসের জন্য অন্যরকম ছিল। মায়ের নাম লেখা জার্সি পরে আজ মাঠে নেমেছিল রাজশাহীর রাজারা। সেই মাতৃভক্তির জোরেই হয়তো এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অপরাজেয় ঢাকা ঢায়নামাইটসকে হারাতে সক্ষম হয় তারা। বাড়তি একটা শক্তি যেন ভর করেছিল রাজশাহীর খেলোয়াড়দের ওপর।

ছোট টার্গেট তাড়া করতে নেমে বড় বিপদে পড়ে যায় ঢাকা ডায়নামাইটস। শুরুতেই মিরাজের স্পিন বিষে নীল হন সুনিল নারাইন। অপর ওপেনার হজরতুল্লাহ জাজাইকে (৬) বোল্ড করে দেন উদানা। আরফাত সানির ঘূর্ণিতে প্যাভিলিয়নে ফিরেন ক্যারিবীয় হার্ডহিটার আন্দ্রে রাসেল (১১)। রনি তালুকদারকে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক সাকিব। কিন্তু ১৮ বলে ১৩ রান করে বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার পরিণত হন আরাফাত সানির দ্বিতীয় শিকারে। এই স্পিনারের তৃতীয় শিকার রনি তালুকদার (১৪)। সানির বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান তিনি।

এতেই জয়ের রাস্তা পরিস্কার হয়ে যায় রাজশাহীর। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ধারাবাহিক বিরতিতে মোস্তাফিজের রানআউটে কাটা পড়েন রুবেল হোসেন। শেষদিকে ঝড় তুলে মোস্তাফিজের বলির পাঁঠা হন নুরুল হাসান। তাতে জয়টা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় ল্যান্স ক্লুজনার শিষ্যদের। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১১৬ রান তুলতে সামর্থ্য হয় ঢাকা। এতে বিজয়োল্লাসে মাতেন মিরাজ ব্রিগেড।

দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রাজশাহী কিংস অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে প্রথমে বোলিং করতে নামে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। তবে শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজশাহী। ইনিংসের গোড়াতেই আন্দ্রে রাসেলের শিকার হয়ে ফেরেন মিরাজ।

দ্বিতীয় উইকেটে মার্শাল আইয়ূবকে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠেন শাহরিয়ার নাফীস। দুর্দান্ত খেলতে থাকেন তারা। দুজনের মধ্যে দারুণ মেলবন্ধন গড়ে ওঠে। এতে দুরন্ত গতিতে ছোটে বরেন্দ্রভূমির দলটি। তবে হঠাৎই ছন্দ হারান শাহরিয়ার। ব্যক্তিগত ২৫ রানে সুনিল নারাইনকে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন তিনি।

সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি মার্শাল। পরক্ষণেই ক্যারিবীয় মায়াবি স্পিনারের ঘূর্ণি জালে ধরা পড়েন তিনি। ফেরার আগে ৩১ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরমার।
নাফীস ২৭ বলে ২৫ এবং আইয়ুব ৩১ বলে ৪৫ রান করেন। ১২তম ওভারে এই দুজনকে ফেরত পাঠিয়ে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করেন সুনীল নারাইন।

১৮ বলে ২০ রান করা জাকির হাসান অ্যালিস ইসলামের বল ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হয়ে যান। শেষের দিকের ব্যাটসম্যানরা কেউ বড় রান করতে পারেননি। জংকার (৯*), সেকুজে প্রসন্ন (২) এবং ইসুরু উদানা (৩*) রান করেন। বল হাতে ১৯ রানে ৩ উইকেট নেন সুনিল নারাইন। ১টি করে উইকেট নেন সাকিব আল হাসান, আন্দ্রে রাসেল এবং আল ইসলাম।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here