ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নিলেন ইয়াসির রাব্বি। টানা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমেরও। শেষদিকে ঝড় তুললেন প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা দাশুন শানাকা। ঝড় তুললেন নজিবুল্লাহ জাদরানও। তাতে মিলল বিপিএলের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড সংগ্রহ। সে লক্ষ্য তাড়ায় কুলিয়ে উঠতে পারেনি ছন্দের খোঁজে থাকা খুলনা টাইটান্স। ২৬ রানের হার মানতে হয় দলটিকে।

টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন খুলনার দলপতি মাহমুদউল্লাহ। ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে চিটাগং তোলে ২১৪ রান। এই বিপিএলে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় রানের ইনিংস। আগের ম্যাচেই সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে ১৯৫ রান তুলে জয় পায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। তবে, বিপিএলের ইতিহাসে ভাইকিংসের ইনিংসটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (ঢাকা ২০১৩ সালে করেছিল ২১৭ রান)। খুলনা ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৮৮ রান।

চিটাগংয়ের জার্সিতে ওপেনিংয়ে নামেন আফগান তারকা মোহাম্মদ শাহজাদ এবং ক্যামেরুন দেলপোর্ট। ১২ বলে ১৩ রান করে বিদায় নেন দেলপোর্ট। আরেক প্রান্তে ক্যামিও ইনিংস খেলেন শাহজাদ। মাত্র ১৭ বলে করেন ৩৩ রান। আফগান এই ওপেনারের ইনিংসে ছিল তিনটি চার আর তিনটি ছক্কা। দুই ওপেনার ফিরলেও রানের চাকায় গতি রাখেন ইয়াসির আলি। ৩৬ বলে ৫টি চার আর তিনটি ছক্কায় করেন ৫৪ রান।

দলপতি মুশফিক ছিলেন চেনা ছন্দে। ২৯ বলে নিজের ফিফটি তুলে নেন ভাইকিংস দলপতি। লাসিথ মালিঙ্গার ওভারে পর পর তিন বলে তিনটি বাউন্ডারিতে মুশফিক নিজের ফিফটি স্পর্শ করেন। ইনিংসের ১৮তম ওভারে বিদায় নেন মুশফিক। তার আগে ৩৩ বলে আটটি চার আর একটি ছক্কায় করেন ৫২ রান। দাসুন শানাকা সুযোগ বুঝে ব্যাটে ঝড় তোলেন। এই লঙ্কান ১৭ বলে করেন অপরাজিত ৪২ রান। তার ইনিংসে তিনটি চারের পাশাপাশি ছিল ছয়টি ছক্কার মার। নাজীবুল্লাহ জাদরান ৫ বলে দুটি চার, একটি ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ১৬ রান করে।

শেষ ওভারে নাজীবুল্লাহ-শানাকা ২৩ রান তুলে নেন সুবাশিষের ওভার থেকে। তারা ১৪ বল খেলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন অবিচ্ছিন্ন ৪৪ রান। শেষ ৫ ওভারে চিটাগং তুলে নেয় ৭২ রান।

খুলনার পেসার সুবাশিষ রায় ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। লাসিথ মালিঙ্গা ৪ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন। শরিফুল ইসলাম ৩ ওভারে ৪৭ আর তাইজুল ইসলাম ৪ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে একটি করে উইকেট পান। ৪ ওভারে ২৬ রান খরচায় দুটি উইকেট নেন ডেভিড উইসি। মাহমুদউল্লাহ ১ ওভারে ১৩ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।

২১৫ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে খুলনার আইরিশ ওপেনার পল স্টার্লিং ০ রানেই বিদায় নেন। আরেক ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দীকি করেন ১২ রান। তিন নম্বরে নামা আল আমিন করেন মাত্র ৫ রান। রানের চাকা ঘোরান জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলর আর দলপতি মাহমুদউল্লাহ। টেইলর ১৬ বলে দুটি চার আর দুটি ছক্কায় ২৮ রান করলেও মাহমুদউল্লাহ ছিলেন আরও ভয়ঙ্কর। ২৬ বলে তিনটি চার আর চারটি ছক্কায় তিনি করেন ৫০ রান।

মাঝে আরিফুল হক ১১ রানে সাজঘরে ফেরেন। শেষ দিকে ডেভিড উইসি আর তাইজুল পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়ে আনেন। উইসি ২০ বলে দুটি চার আর চারটি ছক্কায় করেন ৪০ রান। শেষ ওভারে আবু জায়েদ রাহির প্রথম দুই বলে দুটি চার মেরে তৃতীয় বলে বিদায় নেন শরিফুল (৯)। চতুর্থ বলে বাউন্ডারি হাঁকান লাসিথ মালিঙ্গা। তাইজুল ২১ বলে তিনটি চারের সাহায্যে ২২ রান করে অপরাজিত থাকেন।

ভাইকিংসের স্পিনার সানজামুল ইসলাম ৪ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন। দেলপোর্ট ৪ ওভারে ২৫ রান খরচায় তুলে নেন দুটি উইকেট। খালেদ আহমেদ ৪ ওভারে ২৯ রান খরচ করে তুলে নেন দুটি উইকেট। দাসুন শানাকা ২ ওভারে ৩২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। নাঈম হাসান ২ ওভারে ২২ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। আবু জায়েদ রাহি ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

চিটাগং ভাইকিংস: ২০ ওভারে ২১৪/৪ (শাহজাদ ৩৩, ডেলপোর্ট ১৩, ইয়াসির ৫৪, মুশফিক ৫২, শানাকা ৪২*, নজিবুল্লাহ ১৬*; শুভাশিস ০/৩৮, মালিঙ্গা ০/৪৪, শরিফুল ১/৪৭, তাইজুল ১/৪৫, ওয়েজি ২/২৬, মাহমুদউল্লাহ ০/১৩)।

খুলনা টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৮৮/৮ (স্টার্লিং ০, জুনায়েদ ১২, আল-আমিন ৫, টেইলর ২৮, মাহমুদউল্লাহ ৫০, আরিফুল ১১, ওয়াজে ৪০, তাইজুল ২২*, শরিফুল ৯, মালিঙ্গা ৫*; রাহী ৩/৩৩, খালেদ ২/২৯, সানজামুল ০/৪৬, শানাকা ০/৩২, নাঈম ১/২২, ডেলপোর্ট ২/২৫)।

ফলাফল: চিটাগং ভাইকিংস / রানে জয়ী।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here