ফাফ ডু প্লেসিসের কথাটাই তাহলে সত্য হয়েছে! দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক বলেছিলেন, ওয়ানডেতে তাদের চেয়ে শক্তিশালী দল পাকিস্তান। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর এবার পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিলো সফরকারী পাকিস্তান।

পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জে’স পার্কে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২৬৬ রান তোলে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ৫ বল হাতে রেখে ৫ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান (২৬৭/৫)।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিকরা। দুর্দান্ত শুরুও এনে দেন প্রোটিয়া ওপেনাররা। ৮২ রান প্রথম জুটি ভাঙেন ফাস্ট বোলার সাদাব খান। হাসান আলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ৪৫ রানে সাজঘরে ফিরে যান রেজা হ্যান্ডরিক্স। তবে পাকিস্তানি বোলারদের আসল পরীক্ষাটা নিয়েছেন আরেক ওপেনার হাশিম আমলা ও অভিষিক্ত রসি ভ্যান ডুসেন। পাকিস্তানি বোলারদের রীতিমত হাতাশায় ডুবিয়েছেন হাশিম আমলা। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ২৭তম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১২০ বল খেলে ১০৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আমলার ২১২ মিনিটের ইনিংসে ছিলো সাতটি চার ও একটি ছক্কার মার।

হাশিম আমলা শতকের দেখা পেলেও হাতাশ হতে হয়েছে অভিষিক্ত ডুসেনকে। এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানও ও হাঁটছিলেন সেঞ্চুরির পথে। কিন্তু অভিষেকেই সেঞ্চুরি থেকে মাত্র সাত রান দূরে থেকে হাসান আলির বলে শোয়েব মালিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান। ডুসেনের ৯৩ রানের ইনিংসে ছিলো ছয় চার ও তিনটি ছক্কার মার। আউট হওয়ার আগে হাশিম আমলাকে নিয়ে ১৫৫ রানের জুটি গড়েন প্রোটিয়া এই ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত দুই উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে স্বাগতিকরা সংগ্রহ করে ২৬৬ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি সরফরাজদের। ২৫ রানে ফখর জামান বিদায় নিলে কিছুটা চাপে পরে সফরকারীরা। তবে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে চাপটা ভালোভাবেই সামলে নেন ইমাম-উল-হক। বাবর আজমকে নিয়ে গড়ে তুলেন ৯৪ রানের জুটি। দলীয় ১৩৯ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪৯ রানে হ্যান্ডরিক্সের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন বাবর। পরে মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়ে বড় ইনিংসের দিকেই হাঁটছিলেন ইমাম-উল-হক। কিন্তু তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৪৫ রানের এ জুটি যখন ভাঙ্গে তখন সফরকারীদের দলীয় সংগ্রহ ১৮৫। ব্যক্তিগত ৮৬ রানে ওলিভারের বলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন ইমাম।

পরের কাজটা করেন হাফিজ। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে জয়ের পথটা সহজ হয়ে আসে। ৬৩ বলে আটটি চার ও দুই ছক্কায় ৭১ রান করেন তিনি। পাঁচ বল হাতে রেখেই সাদাব খানকে সঙ্গি করে অপরাজিত থেকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন হাফিজ। প্রোটিয়াদের পক্ষে দুটি উইকেট নিয়েছেন পেসার ওলিভার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৬৬/২ (৫০)।

পাকিস্তান: ২৬৭/৫ (৪৯.১)।

ফল: পাকিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here