ফেরা যাক ১৮ বছর পেছনে। সালটা ২০০১। চলছে উইম্বলডন। উদীয়মান এক তরুণ-যার মাথাভর্তি লম্বা চুল আর বিশেষত্ব ‘এক হাতের অদ্ভুতুড়ে ব্যাকহ্যান্ড’- মুখোমুখি লড়ছেন সময়ের সেরা টেনিস তারকার বিপক্ষে। ম্যাচটা জিততে যাচ্ছেন তরুণ। তাতে মুহূর্তটা হয়ে উঠছে বিরাট তাৎপর্যপূর্ণ। ঘাসের কোর্টে দুজনের ‘স্ট্রোক’ আদান-প্রদানের শব্দ ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন কিছু ঘটতে যাওয়ার বার্তা।

এরপর সময়ের চাকা ঘুরে আবার চলে আসা যাক বর্তমানে। বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। উদীয়মান এক তরুণ-যার মাথাভর্তি লম্বা চুল আর বিশেষত্ব একই রকমের ‘এক হাতের অদ্ভুতুড়ে ব্যাকহ্যান্ড’- মুখোমুখি লড়ছেন ইতিহাসের সেরা টেনিস তারকার বিপক্ষে। ম্যাচটা জিততে যাচ্ছেন তরুণ। তাতে মুহূর্তটা হয়ে উঠছে বিরাট তাৎপর্যপূর্ণ। হার্ড কোর্টে (কংক্রিট) দুজনের ‘স্ট্রোক’ আদান-প্রদানের শব্দ ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন কিছু ঘটতে যাওয়ার বার্তা।

১৮ বছর আগের তরুণটি রজার ফেদেরার। সে সময় ১৯ বছর বয়সী সুইস খেলোয়াড় হারিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি পিট সাম্প্রাসকে। ম্যাচ শেষের অনুভূতিটা ছিল এমন- সাম্প্রাসের হাত বদলে ফেদেরারের হাতে উঠতে যাচ্ছে টেনিসের সেরা তারকার ‘জ্বলন্ত প্রদীপ’। আর বর্তমানের তরুণের নাম স্তেফানোস সিতসিপাস। টেনিসের জুনিয়র র‍্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এক নম্বর এই তারকা-যার বয়স মোটে ২০ বছর- হারিয়ে দিয়েছেন তার চেয়ে ১৭ বছরের বড় ফেদেরারকে!

কাকতালীয়ই বটে! আর দুটি ঘটনাকে একই সুতোয় গাঁথতে যাওয়ার মতো সব উপকরণই যে মজুদ! বিস্ময়বালক সিতসিপাসের আগমনী বার্তা শোনা গিয়েছিল গেল বছর। কানাডিয়ান ওপেনের ফাইনালে ওঠার পথে গড়েছিলেন রেকর্ড। ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে একই প্রতিযোগিতায় হারিয়েছিলেন শীর্ষ দশের চারজনকে। তবে ফাইনালে রাফায়েল নাদালের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল গ্রিসের এই তরুণের। রবিবার অবশ্য আর কোনো দুঃখ গাঁথা স্পর্শ করতে পারেনি সিতসিপাসকে।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে রড লেভার অ্যারেনায় প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও তিন নম্বর বাছাই ফেদেরারকে ৩-১ সেটে হারিয়েছেন সিতসিপাস। যাকে আদর্শ মেনে টেনিস খেলছেন, তাকে হারানোর পাশাপাশি ইতিহাস রচনা করেছেন এই ১৪ নম্বর বাছাই। প্রথম গ্রিক খেলোয়াড় হিসেবে কোনো গ্র্যান্ড স্লামের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন তিনি।

এদিন চার সেটের তিনটিই গড়িয়েছে টাইব্রেকারে। ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের ধ্রুপদী লড়াইয়ে প্রথম সেট হারলেও পরের তিন সেট টানা জিতে নিয়েছেন সিতসিপাস। রেকর্ড ২০টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী ফেদেরারকে হারিয়েছেন ৬-৭ (১১/১৩), ৭-৬ (৭/৩), ৭-৫ ও ৭-৬ (৭/৫) গেমে। কোয়ার্টার ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ ২২তম বাছাই স্পেনের রবার্তো বাতিস্তা অগুত। চতুর্থ রাউন্ডে গেল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের রানার্সআপ ও ষষ্ঠ বাছাই মারিন সিলিচকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছেন তিনিও।

গেল দুইবারের ও সবমিলিয়ে ছয়বারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ী ফেদেরার হারের পর হতাশা গোপন করেননি। তার কাছে কৌতুকের সুরে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল সিতসিপাসের মধ্যে নিজের ছায়া দেখতে পান কি না। উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমার মতো সে-ও এক হাতে ব্যাকহ্যান্ড খেলে। আর ওর লম্বা চুলও রয়েছে।’

বিপরীতে সিতসিপাসের উচ্ছ্বাস তো বাঁধভাঙা, ‘রজার (ফেদেরার) এই খেলার একজন কিংবদন্তি। তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আমাদের সেরা টেনিস খেলা উপহার দিয়ে আসছেন। আমি ৬ বছর বয়স থেকে তাকে আদর্শ মানি। তার মুখোমুখি হওয়াটা আমার জন্য ছিল স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো আনন্দের। আর শেষ পর্যন্ত জিতে যাওয়াটা? আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না!’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here