জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই বর্তমান সরকারের একমাত্র কাজ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ আন্তরিকতা ও সততার সাথে কাজ করলে দেশ উন্নত হবে। দেশের জনগণের নতুন সরকারের প্রতি আশা-আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং সরকারকে সেগুলো পূরণ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা আমাদের একমাত্র কাজ।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর ইউএনবির।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য নতুন মন্ত্রিসভাকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভা সততা ও নিষ্ঠার সাথে তাদের কাজ করবে, প্রতিটি কাজ নিষ্ঠার সাথে করতে হবে, এটি সবসময় মনে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা রয়েছে, যারা টানা তৃতীয়বার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে। আমরা এখানে দায়িত্ব পালন করতে এসেছি এবং সততার শক্তি সীমাহীন, আমরা অনেকবার সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। এটা আমাদেরও লক্ষ্য। আমরা সেই আশা পূরণের জন্য কাজ করবো। আমরা বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিগত দুই আমলে উন্নয়নে যে ধারা শুরু হয়েছে, আগামী দিনেও তা বজায় রাখতে থাকবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সোমবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম।

দুর্নীতি-মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাগিদ দিয়েছেন জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও তিন উপমন্ত্রী ওই বৈঠকে যোগ দেন।

সভায় আগে মন্ত্রিসভার অসমাপ্ত কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে নতুন মন্ত্রীদের নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়াসহ সাতটি বিষয়। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সমাজ কল্যাণ পরিষদ আইন-২০১৮, প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষা আইন-২০১৩, নবম ওয়েজবোর্ড গঠন নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। নবম ওয়েজ বোর্ডের জন্য সাত সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, কৃষিমন্ত্রী ড. আ. রাজ্জাক, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নজান সুফিয়ান প্রমুখ।

সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান অন্য মন্ত্রীরা। এরপর শোকপ্রস্তাব করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।

পরে স্বাগত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীদের দায়িত্ব পালনে সততা ও নিষ্ঠা বজায় রাখার আহবান জানান।

এ ছাড়া সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন সরকার প্রধান।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here